Friday, June 29, 2018

গোলামের বাচ্চা গোলাম

যারা_নবীজির_গোলাম_বললে_লজ্জা_পান_তাদের_জন্য_এই_পোস্ট।
হযরত আব্দুল্লা বিন উমর (রাঃ)এর
ছেলে,আর হযরত আলী (রাঃ)ছেলে মাঠে
খেলাধুলা করছে, এক পর্যায় খেলার মধ্যে ঝগড়া
লেগে গেলো, আলির ছেলে এক পর্যায়
উমরের ছেলেকে বললো গোলামের
ছেলে গোলাম।এই কথা শুনা মাত্রই উমরের
ছেলে বেত বেতাইয়া কাঁন্না শুরু করলো।
বাড়িতে গিয়ে কেঁদে কেঁদে বাবার কাছে বিচার
দিল,বাবা আলির ছেলে আমাকে গোলাম বাচ্চা
গোলাম বলেছে।এই কথা শুনা মাত্রই, জিনি ধুনিয়ায়
থাকা অবস্তায় জান্নাতের টিকেট পাওয়া সাহাবি,হযরত
উমর( রাঃ)কাঁদতে শুরু করলেন,ছেলে বলে বাবা
আমি দুঃখ পাইয়া কাঁদতেছি আপনি কেন কাদতেছেন।
উমর বলেন আমি কান্দি আনন্দ পাইয়া, আর তুই কান্দস
দুঃখ পাইয়া।বাবা আনন্দের কান্নাতো কোনদিন
শুনিনাই,আপনি এখন যান আলির কাছে বিচার দিন।বাবা
বলেন বিচার দিবো ঠিকই আগে একটু কান্দিঁয়া লই।
এই কথাটা অন্য সাহাবিদের কাছে পৌছে গেলো।
যে উমর আলীর কাছে বিচার দিবে,বাকি সব সাহাবিরা
উমরকে বলেন আপনি বিচার দিবেন্না এতে করে
মা ফাতেমা(রাঃ)আনহার বদনাম হবে।নবীজি
বলেছেন যে হাসান ও হোসাইনকে কস্ট দিবে
সে জেন আমাকে কষ্ট দিলো,কোন অবস্তায়
সাড়া দিলেন্না উমর, আর বললেন আপনারা আলির
কাছথেকে বিচারের তারিখ আনেন। তারিখ হল
ঈদের দিন, খুতবার সময় সবার সামনে বিচার হবে
উমরের ছেলেকে গালি দিলো গোলামের
ছেলে গোলাম,এই কথা কাগজে লিখে দিতে
পরলে মেনে নিবো, আলি হোসাইনকে ডাক
দিলেন তুমি কি গালি দিয়েছিলে গোলামের বাচ্চা
গোলাম, হা দিয়েছিতো। তা কি তুমি কাগজে লিখে
দিতে পারবা? হা পারবো,হোসাইন কাগজ হাতে
নিয়ে লেখলেন উমর আমার নানা জানের
গোলাম, এই কাগজ খানা হাজার হাজার সাহাবিদের মাজে
দিলেন উমরের কাছে, উমর কাগজটা পেয়ে
একবার বুকে লাগায় আবার চুমা খায়, একবার বুকে লাগান
একবার চুমা খান,আর বলেন জীবন ধন্য আমার যিনি
বেহেস্তের সরদার হোসাইন আমাকে লিখে
দিলেন আমি নবীজির গোলাম আমার আর কোন
চিন্তা নাই।আমার মরনের পরে কাগজটা কবরে
দিবেন । নবীজির গোলাম, গোলাম হওয়াটা
নসিবের ব্যাপার। আল্লাহ আমাদের সবাই কে, নবীজির গোলাম হওয়ার তৌফিক দান করক, আমিন, আমিন, আমিন

Thursday, June 28, 2018

সাপ এবং মুয়ুর কে বেহেস্ত থেকে কেন বের করে দেওয়া হল।

অতঃপর বলা হল- হে আদম! তুমি ইবলিসের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকবে, কেননা সে তো তোমার পরম শুত্রু। এ সম্পর্কে কালামে পাকে ইরশাদ হচ্ছে -

ফাকুলনা-ইয়া-আ-দামু ইন্না হা-জা - আদুও উল্লাকা অলিজাও জিকা ফালা- ইউখরি জান্নাকুমা- মিনাল জান্নাতি।

অর্থ ঃ অতঃপর আমি বললাম -- হে আদম এ (শয়তান) তোমার ও তোমার স্ত্রীর দুশমন। সুতরাং সে যেন তোমাদেরকে বেহেশ থেকে বের করে না দেয়।
আদম ( আ )  বেহেস্তের সব দরজাই উত্তমরূপে বন্দ দেখতে পেয়ে তার দৃঢ় আস্তা হল, ইবলিশ পৃথিবীতে আর আমি বেহেস্তে অবস্থান করছি, কাজেই তার সঙ্গে আমার কি সম্পর্ক যে, সে আমাকে নিশিদ্দ ফল ভক্ষণ করিয়ে পাপি করবে। আমি তার প্রতারণা থেকে আশঙ্কা মুক্ত। অতঃপর একদিন অভিশপ্ত ইবলিশ বেহেস্তে হযরত আদম ( আ ) এর কাছে যাওয়ার সংকল্প করল। আল্লাহ তালার তিনটি ইসমে আজম তার জানা ছিল। তা পড়ে সে সাত তবক আসমান অতিক্রম করে বেহেস্তের দরজায় পৌঁছুল। দরজা বন্ধ দেখে বেহেস্তে প্রবেশ করার উপায় চিন্তা ভাবনা করতে লাগল। ঘটনাচক্রে একটি মুয়ুর বেহেস্তের দেয়ালে বসা ছিল। শয়তান দেয়ালের বাহিরে বসে ইসমে আযম পড়তে থাকে। ইসমে আযম পড়তে দেখে ময়ূর ইবলিশের পরিচয় জানতে চাইল। ইবলিশ বলল, আমি আল্লাহর এক ফেরেশতা। মুয়ুর বলল, তুমি এখানে বসে কি করছ??  শয়তান উত্তর দিল, আমি বেহেস্তে প্রবেশ করতে চাচ্ছি। ইবলিশ মুয়ুরকে অনুরোধ করল, তাকে বেহেস্তে নিয়ে যেতে। মুয়ুর বলল আদম ( আ ) বেহেস্তে যতক্ষণ আছে ততক্ষণ কাউকে নেওয়ার কোন আদেশ আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার নাই। শয়তান বলল, তুমি আমাকে বেহেস্তে নিয়ে যাও, আমি তোমাকে এমন তিনটি দোয়া শিখাব- যে তিনটি দোয়া শিখে আমল করলে তুমি তিনটি বিষয় লাভ করতে পারবে।  (১) কখনো তুমি বৃদ্ধ হবে না, (২) মৃত্যু বরন করবে না, (৩) সর্বদা বেহেস্তে অবস্তান করতে পারবে।  ইবলিশ কথিত দোয়া পড়ল এবং মুয়ুর বেহেস্তের দেয়াল থেকে নেমে এসে ইবলিশ কে নিয়ে উভয়ে বেহেস্তের দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। মুয়ুর সাপের নিকট এ ঘটনা ফাঁস করে দিল। সাপ এই কথা সুনতেই বেহেস্তের দরজা বন্ধ করে নিজের মাথা বের করে ইবলিশের পরিচয় এবং আগমনের উদ্দেশ্য জানতে চাইল। ইবলিশ বলল আমি আল্লাহর এক ফেরেশতা, সাপ বলল তুমি আমাকে তোমার পাঠকৃত দোয়া শিখাও। ইবলিশ বলল এক সর্তে তোমাকে আমি এ দোয়া শিখাতে পারি, তা হল তুমি আমাকে বেহেস্তে নিয়ে যাবে। সাপ বলল- হযরত  আদম (আ)  বেহেস্তে যতক্ষণ আছে ততক্ষণ কাউকে নেওয়ার কোন আদেশ আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার নেই। ইবলিশ বলল আমি বেহেস্তে পা রাখব না, বরং তোমার মুখের ভিতরেই অবস্তান করব। বাইরে বের হব না। শয়তানের কথা বিশ্বাস করে সাপ মুখ প্রসারিত করে দিল। ইবলিশ তার মুখে ঢুকে পড়লে সাপ তাকে বেহেস্তে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।

সাপের মুখাভ্যন্তরে লুকিয়ে বেহেস্তে প্রবেশের পর সাপকে বলল তুমি আমাকে আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আ) কে যে বৃক্ষের ফল খেতে নিষেধ করেছেন, সে বৃক্ষের নিকট নিয়ে চল। সাপ ইবলিশ কে নিশিদ্দ বৃক্ষের নিকট নিয়ে গেলে, সে সাপের মুখাভ্যন্তর থেকেই প্রতারণামূলক ভাবে কান্নাকাটি শুরু করে দিল। এ জগতে যে সর্ব প্রথম মুনাফেকির কান্না কেঁদেছিল, সে হচ্ছে অভিশপ্ত ইবলিশ।
তার কান্না শুনে বেহেস্তের গেলমান অকলে সমবেত হয়ে বলাবলি করতে লাগল আমরা তো কখনো সাপের মুখ থেকে এমন শব্দ শুনতে পাইনি।
হযরত হাওয়া (আ) সাপকে কাঁদার কারন জিজ্ঞেস করলে ইবলিশ সাপের মুখ থেকে বলল, আমি এই জন্য কাঁদছি যে, তোমাদেরকে বেহেস্ত থেকে বের করে দেওয়া হবে। কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে যে বৃক্ষের ফল খেতে নিষেধ করেছেন, সে বৃক্ষের ফল ভক্ষণকারীকে কখনো  জান্নাত থেকে বের করা হবে না। আল্লাহ তাআলা এ ঘটনা সম্পর্কে বলেন-

কালা-ইয়া-আ-দামু হাল আদুল্লুকা আলা-শাজারাতিল খুলদি ওয়া মুল্কিল  লা-ইয়াবলা...।

অর্থ  ঃ ইবলিশ বলল, হে আদম, আমি তোমাকে আমি এমন বৃক্ষের সন্ধান দিব, যা থেকে তোমার চিরন্তন জীবন লাভ হবে। এবং তোমার রাজত্ব পুরানো হবে না।

ইবলিশ আল্লাহর নামে কসম করে বলল- হে আদম, আমি তোমাকে মিথ্যা কিছু বলছিনা, তোমার অমঙ্গল ও আমার কাম্য নয়, বরং তোমাকে সদুপদেশ প্রদান করছি, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

        ওয়া কা-সামাহুমা-ইন্নী লাকুমা-লামিনান না-ছিহীনা ফাদাল্লা-হুমা বিগুরুরিন।

অর্থ ঃ ইবলিশ তাদের নিকট কসম খেয়ে বলেছিল, আমি তোমাদের মঙ্গলকামী, অতঃপর তাদেরকে প্রতারণা দিয়ে আকৃষ্ট করে।

   এ দুনিয়ায় সর্বপ্রথম মিথ্যা কসমকারীও অভিশপ্ত ইবলিশ। হযরত হাওয়া (আ)  ইবলিশের মিথ্যা কসমে ধোকায় পড়ে নিশিদ্দ বৃক্ষের অর্থাৎ গন্দমের তিনটি ফল নিয়ে একটি নিজে খেয়ে দুটি হযরত আদম (আ) এর জন্য নিয়ে যায়।




Monday, May 28, 2018

প্রশ্নঃ "নবী কি হানাফি ছিলেন, শাফেঈ ছিলেন, হাম্মলী ছিলেন, মালেকী ছিলেন, নাকি মুসলিম ছিলেন?


জবাবঃ এই মূর্খদের মত প্রশ্ন যারা করে
তাদেরকে
জিজ্ঞাসা করুন, নবী কি সাহাবী ছিলেন, তাবেঈ
ছিলেন? তাবে তাবেঈ ছিলেন? নাকি মুসলিম ছিলেন?
.
নবী যেইভাবে সাহাবী না হয়ে, তাবেঈ না হয়ে,
তাবে
তাবেঈ না হয় এসকল পরিচয়ের অণুমোদন দিয়ে
গেছেন,
ঠিক তেমনিভাবে রসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হানাফি, শাফেঈ, মালেকি, হাম্বলী সকল মাযহাবের
অণুমোদনদাতা ছিলেন। নিম্নোক্ত সহীহ হাদীসটি
লক্ষ
করুণ -
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ
ﻣَﻦْ ﺩَﻋَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﻫُﺪًﻯ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻪُ
ﻣِﻦْ ﺍﻷَﺟْﺮِ ﻣِﺜْﻞُ ﺃُﺟُﻮﺭِ ﻣَﻦْ ﺍﺗَّﺒَﻌَﻪُ ﻻ ﻳَﻨْﻘُﺺُ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻦْ
ﺃُﺟُﻮﺭِﻫِﻢْ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻭَﻣَﻦْ ﺩَﻋَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺿَﻼﻟَﺔٍ
ﻓَﻌَﻠَﻴْﻪِ ﻣِﻦ ﺍﻹِﺛْﻢِ ﻣِﺜْﻞُ ﺁﺛَﺎﻡِ ﻣَﻦْ ﺍﺗَّﺒَﻊَ ﻻ ﻳَﻨْﻘُﺺُ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻦْ
ﺁﺛَﺎﻣِﻬِﻢْ ﺷَﻴْﺌًﺎ
হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ)
ইরশাদ করেছেন, "যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে পথ
প্রদর্শন করে, যে ব্যক্তি তার পথ অনুসরণ করবে,
তার
সওয়াবে কমতি করা ছাড়াই তার সমপরিমাণ সওয়াব পথ
প্রদর্শনকারী পাবে। এমনিভাবে যে ব্যক্তি
পথভ্রষ্টতার
দিকে ডাকবে, এর দ্বারা যে ব্যক্তি গোনাহে লিপ্ত
হবে,
তার গোনাহের মাঝে কম করা ছাড়াই এর সমপরিমাণ
গোনাহ আহবানকারী পাবে।"
.
{মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯১৬০, সহীহ মুসলিম,
হাদীস
নং-২৬৭৪}
.
উপরোক্ত হাদীস দ্বারা রসূল সল্লাল্লহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম সকল মাযহাব, মাদ্রাসা, দ্বীন মানার
সহায়ক সকল কাজের অণুমোদন দিয়ে গেছেন।
তাহলে
সহীহ হাদীস মানলে উপরোক্ত হাদীস মানতে
আপনাদের
সমস্যা কোথায়?
.
যেই কারণে সাহাবীগণ, তাবেঈগণ, তাবে
তাবেঈনগণ
যেভাবে এই পরিচয় নিয়েও মুসলিম ছিলেন। সেই
একই
কারণে আমরাও হানাফি, শাফেঈ, মালেকি, হাম্বলী
হয়েও মুসলিম।
.
আরেকটি উদাহরণ থেকে বলি। একটি মসজিদে যারা
নামাজ আদায় করে সকলেরই পরিচয় নামাজি।
.
★তবে এর মাঝে যিনি নামাজ পড়ান তাকে কি বলা হয়?
- "ইমাম সাহেব।"
★যিনি আযান দেন তার কি পরিচয়?
- "মুয়াজ্জিন সাহেব।"
★যারা নামাজ পড়েন তাদের কি বলা হয়?
- "মুসুল্লি।"
এক মসজিদে একই কাতারে নামাজরত নামজিদের
পরিচয়
তিন রকমের। কেন সকলের পরিচয় শুধু নামাজি হলে
দোষ
কি?
.
আরেকটু সহজ ভাষায় বলি। আমাদের দেশের
বিভিন্ন
মানুষের বাড়ী বিভিন্ন জেলায় রয়েছে। তাই বলে
কি
কেউ প্রশ্ন করেন, ভাই আপনি ঢাকাবাসী না
বাংলাদেশী? আপনি সিলেটবাসী না বাংলাদেশি?
.
সামান্য একটা দেশের ৬৪ টি টা জেলা হতে পারে।
আর
ইসলাম এতবড় একটি মহাসমুদ্র এর শাখা প্রশাখা, নদ-
নদী
থাকতে পারেনা? সকল নদী যেভাবে গিয়ে
সাগরে
মিলিত হয়। তেমনি ইসলামের সকল সহীহ পথ, মাযহাব
গিয়েও জান্নাতে মিলিত হবে ইনশাআল্লাহ।
.
আল্লাহ সবাইকে বুঝার ও আমল করার তাওফিক্ব দান
করুন আমীন৷

Saturday, April 21, 2018

সৌদি মুফতিরা কই গেলি

যারা পবিত্র কুরআন হাদিসের নির্জাস থেকে উপলব্ধি না করে ইজমা কিয়াসেরও তোয়াক্কা নাকরে কথায় কথায় সৌদিয়া'কে ফলো করতে গিয়ে ইসলামে এটা-ওটা নেই বলে ফতোয়াবাজী করে তারা আজ কোথায়? সৌদিরা যে আজ সিনেমাহল তৈরী করে নারী পুরুষ একসাথে বসে সিনেমা দেখছেন। তবে কি আমাদের দেশীয় সৌদি মুফতিরাও এখন তাদের অনুসরণ করতে গিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার পক্ষে নিবে ⁉️
🇧🇩 ️বাংলাদেশে যখন মানুষ সিনেমা বিমুখ হওয়াতে সিনেমাহলগুলি বন্ধহয়ে মার্কেটে পরিণত হলো, তখন সৌদিরা কোটিটাকা ব্যয় করছেন আজ সিনেমার পিছনে।️ তারা আজ প্রতিটা শহরে বিশালাকার সিনেমাহল তৈরীর চুক্তি করছে পশ্চিমাদের সাথে। আমি তাদের বিরোধিতা করছিনা তবে ইসলামী শাসনীয় দাবীদার একটি দেশ এভাবে মডার্ন হতে গিয়ে সিনেমা প্রেমিক হয়ে সাধারণ মুসলমানদের শ্রদ্ধার 'রশিকাটা' কোনমতে মেনে নেয়া যায়না।

Saturday, March 17, 2018

বৃদ্ধাঙ্গুল চুম্বন এর প্রমান

আযান ও ইক্বামতে রাসূলে পাকের নাম মুবারক ‘মুহাম্মদ’ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুনে বৃদ্ধাঙ্গুলকে চুম্বন করে তা চোখে মোছা সম্পর্কে শরীয়তের দলীল
হাজার বছর ধরে মুসলিম মিল্লাতের মাঝে এ প্রথা চলে আসছে যে, হুযুর আকদাস, রহমতে আলম জানে দু’আলম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র নাম মুবারক শুনে পরমভক্তি ভরে বৃদ্ধাঙ্গুলি চুমু দিয়ে চোখে মালিশ করা। বিশেষ করে আযানে যখন
اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ
এই পবিত্র বাক্য শুনে তখন ছোট বড় সকলে পরম ভালবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে আপন বৃদ্ধাঙ্গুল চুম্বন করে তা চোখে মোছে নেয়। রাসূল প্রেমের এই অমৃত সুধা পানকারী প্রেমিকগণের পরিপূর্ণ ভক্তি সম্মানের এই মুস্তাহাব আমলকে বর্তমান যুগের অনেক মুনাফিক নিষেধ করে থাকে। এমনকি এই পবিত্র আমলকে বিদআত বলে অপপ্রচার চালিয়ে সরলমনা মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালায়।
বৃদ্ধাঙ্গুল চুম্বনের এই মাসয়ালা নিয়ে বর্তমানে জনসাধারণের মাঝে অনেক কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া ফ্যাসাদও হয়ে যায়। পবিত্র নাম মুবারক উচ্চারণ করলে এবং করতে শুনলে বৃদ্ধাঙ্গুল চুম্বন দিয়ে আপন দু’চোখে মালিশ করে বরকত হাসিল করার এই আমলকে বাধাদানকারী কাঠমোল্লা, মূর্খ মৌলভীরা শুধু বিদআত, বিদআত বলে চিৎকার করে কিন্তু তাদের এ দাবীর পক্ষে কোন দলীল প্রমাণ পেশ করতে পারেনা বরং উল্টো সাধারণ মুসলমানদেরকে যারা এ আমল করেন তাদেরকে বলে, এটা জায়েয এ মর্মে এমন কোন দলীল দাও তো দেখি। সরলমনা সাধারণ মুসলমানরা দলীল পেশ করতে না পেরে এটাই জবাব দেয় যে, এই বরকতময় আমল তো আমরা আমাদের বাপ- দাদা ও বুযূর্গ সূফী মুত্তাকীদেরকে করতে দেখে আসছি। এই আমল তো শুধু দেখা- দেখিভাবে প্রচলিত এরকম একটি আমল নয়, বরং যুগ যুগ ধরে ইসলামী শরীয়ত ও মুসলিম মিল্লাতের কাছে গ্রহণযোগ্য অনন্য বরকতময় একটি আমল। এর পরেও ওই মুনাফিক দলগুলো তাদের যতটুকু সাধ্য ততটুকু শক্তি ব্যয় করে সরলমনা মুসলমানকে এই মহত্বপূর্ণ আমল থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চালায়। অথচ, এই বরকতমন্ডিত আমলের বৈধতা সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে যথেষ্ট দলীল প্রমাণ রয়েছে। ঐ দলীলগুলো থেকে কয়েকটি দলীল এখানে পেশ করা হচ্ছে, যাতে সরলপ্রাণ মুসলমানরা ঐ সকল মুখোশধারী মুনাফিক মুসলমানের খপ্পরে পড়ে বিভ্রান্ত হতে না হয়।
দলীল নং-১:- ইমাম দায়লামী মাসনাদুল ফিরদাউস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন সত্যবাদীদের সরদার, মুত্তাকীদের ইমাম, খলীফাতুর রাসুল, আমীরুল মুমিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন সায়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, মুয়াযযিন আযানে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাছুলুল্লাহ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ বলতে যখন শুনতেন তখন
اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ رَضِيْتُ بِاللّٰهِ رَبًّا وَبِالْاِسْلَامِ دِيْنًا وَبِمُحَمَّدِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيِّنَا
উচ্চারণঃ- আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবুদুহু ওয়া রাসুলুহু, রাদ্বিতু বিল্লাহি
রাব্বা ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনা ওয়া বি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাবীয়্যানা (এই দোয়া) পড়তেন। অতঃপর ঐ দুই কালেমা আঙ্গুলের ভেতর দিকের সন্ধিস্থল চুমু খেয়ে চোখে লাগাতেন। সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর এই আমল দেখে রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ فَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلَ خَلِيْلِىْ فَقَدْ حَلَّتْ عَلَيْهِ شَفَاعَتِىْ-
যে এমন করবে যেমনি আমার বন্ধু করেছে, তার ব্যাপারে আমার শাফায়াত বৈধ হয়ে গেল।
দলীল নং-২: ইমাম আল্লামা আলী বিন সুলতান হারভী, ক্বারী, মক্কী, প্রকাশ মোল্লা আলী কারী আলায়হির রাহমাহ তার সর্বজন গ্রহণযোগ্য কিতাব মউদ্বুআতে কবীর গ্রন্থে পবিত্র নাম মুবারক শুনে আঙ্গুল চুম্বনের ব্যাপারে বলেন
وَاِذَا ثَبَتَ رَفْعُهُ اِلٰى الصِّدِّيْقِ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَلٰىْ عَنْهُ فَيَكْفِىَ لِلْعَمَلِ بِهِ لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلٰوةِ وَالسَّلَامِ عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِىْ وَسُنَّةُ الْخُلَفَاءَ الرَّاشِدِيْنَ-
অর্থাৎ- হযরত সিদ্দীকে আকবর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে এ কাজের প্রমাণ পাওয়া আমলের জন্য যথেষ্ট। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের উপর আবশ্যক, আমি ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনদের সুন্নাতের উপর আমল করা।
তাই হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে কোন আমল প্রমাণ পাওয়া বস্তুত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া
সাল্লাম থেকে কোন আমলের প্রমাণ বহন করে।
দলীল নং- ৩: ইমাম শামছুদ্দীন সাখাভী তার রচিত মাক্বাসিদ এ হাসানাহ গ্রন্থে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আঙ্গুল চুম্বনের এই আমলকে মুস্তাহাব বলে মন্তব্য করেছেন।
দলীল নং- ৪: বরেণ্য ইমাম হযরত আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবূ বকর রাওআদ ইয়েমেনি সূফি তার রচিত ‘মাওজিবাতুর রাহমাহ ওয়া আযাঈমুল মাগফিরাহ’ নামক গ্রন্থে হযরত সায়্যিদুনা খিযির আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণনা করেন , হযরত খিযির আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম বলেন-
مَنْ قَالَ حِيْنَ سَمِعَ الْمُؤَذِّنُ يَقُوْلُ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ مَرحَبًا بِحَبِيْبِىْ وَقُرَّةُ عَيْنِى مُحَمَّدَ بْنِ عَبْدِ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ يُقْبَلُ اَبْهَامَيْهِ وَيَجْعَلُهَا عَلٰى عَيْنَيْهِ لَمْ يَرْمَدْ اَبْدًا-
যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ শুনে
اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ مَرْحَبًا بِحَبِيْبِيْ وَقُرَّةُ عَيْنِىْ مُحَمَّدَ بْنِ عَبْدِ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ
পড়ে দুই বৃদ্ধাঙ্গুল চুম্বন করে তা তার আপন দু’চোখে লাগাবে, তার চোখ কোন দিন অসুস্থ হবে না।
দলীল নং- ৫: ‘মাওজিবাতুর রাহমাহ’ গ্রন্থে হযরত ফকীহ মুহাম্মদ বিন আলবাবা তার ভাই থেকে বর্ণনা করেন, তিনি আপন অবস্থার কথা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন-
اَنَّهُ هَبَتْ رِيْحُ فَوَقَعْتْ مِنْهُ حَصَّاةٌ فِىْ عَيْنِهِ وَاَعْيَاهُ خُرُوْجِهَا وَالْمُتْهُ اَشَدُّ الْاَلَمِ وَاَنَّهُ لَمَّا سَمِعَ الْمُؤَذِّنُ يَقُوْلُ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ قَالَ ذَالِكَ فَخَرَجْتُ الحَصَّاةُ مِنْ فَوْرِهِ ، قَالَ الرَّوَادُ رَحِمَهُ اللّٰهُ تَعَالٰى وَهَذَا يَسِيْرُ فِىْ جَنْبِ فَضَائِلِ الرَّسُوْلِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْهِ وَسَلَّمُ-
অর্থাৎ- একদিন খুব জোরে বাতাস প্রবাহিত হলে বাতাসের বেগে একটি কঙ্কর তার চোখে ঢুকে যায়, তা বের করার জন্য অনেক চেষ্টা করা হল কিন্তু বের হলনা এবং তা অসম্ভব ব্যথা- বেদনা শুরু করে দিল। এমন সময়ে সে মুয়াযযিনের আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বাক্যটি বলতে শুনল, তখন উল্লিখিত দোয়া পড়ে এই বরকতময় আমল করল। সাথে সাথে তার চোখ থেকে ওই কঙ্কর বের হয়ে গেল। হযরত রাওআদ বলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মহত্ত্বের সামনে সেটা তেমন কিছু নয়।
দলীল নং-৬: পবিত্র মদীনায়ে তায়্যিবাহ’র খতীব, হযরত ইমাম শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন সালেহ মাদানী তার রচিত তারীখ গ্রন্থে বর্ণনা করেন,
رَوِيَ عَنِ الْفَقِيْهِ مُحَمَّدٍ بْنِ سَعِيْدٍ الْخَوَلَانِيْ قَالَ اَخْبَرَنِيْ فَقِيْهُ الْعَالِمِ اَبُوْ الْحَسَنِ عَلِي بْنِ حَدِيْدِ الْحُسَيْنِيْ اَخْبَرَنِيْ الْفَقِيْهُ الزَّاهِدِ الْبِلَالِىْ عَنِ الْحَسَنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَّهُ قَالَ مَنْ قَالَ حِيْنَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنُ يَقُوْلُ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ مَرْحَبًا بِحَبِيْبِىْ وَقُرَّةُ عَيْنِيْ مُحَمَّدُبْنِ عَبْدِ اللّٰهِ وَيُقْبَلُ اِبْهَامَيْهِ وَيَجْعَلُهَا عَلٰى عَيْنَيْهِ لَمْ يَعَمْ وَلَمْ يَرْمَد-
অর্থাৎ- ফকীহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ খাওলানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে ফকীহ আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাদীদ হোসাইনী খবর দিয়েছেন, ফকীহ যাহেদ বিলালী ইমাম হাসান মুজতাবা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে ব্যক্তি, মুয়াযযিনের اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ শুনে-
مَرْحَبًا بِحَبِيْبِيْ وَقُرَّةُ عَيْنِيْ مُحَمَّدُ بْنِ عَبْدِ اللّٰه
এই দোয়া পড়ে আপন বৃদ্ধাঙ্গুল চুমু দিয়ে আপন চোখে লাগাবে, ঐ ব্যক্তির চোখ না কখনো অন্ধ হবে, না কখনো ব্যাথা অনুভব করবে।
দলীল নং-৭: খতীবে মদীনায়ে তায়্যিবাহ হযরত শামসুদ্দীন বনি সালেহ মাদানী তার ‘তারীখ’ গ্রন্থে হযরত মাজদ মিসরী, [যিনি সালফে-সালেহীনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন] থেকে বর্ণনা করেন, মাজদ মিসরী বলেন
اِذَا سَمِعَ ذِكْرَهُ صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ الْاَذَانِ وَجَمَعَ اَصَبِعَيْهِ الْمُسَبَّحَةِ وَالْاِبْهَامُ وَقَبَّلَهُمَا وَمَسْحَ بِهِمَا عَيْنَيْهِ لَمْ يَرْمَدْ اَبَدًا-
অর্থাৎ- যে ব্যক্তি আযানের মধ্যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র নাম শুনে শাহাদাত আঙ্গুল ও বৃদ্ধাঙ্গুল মিলাবে এবং তাতে চুমু খেয়ে চোখে মালিশ করবে তার চোখ কোন দিন অসুস্থ হবে না।
দলীল নং-৮: সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইমাম, ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবু বকর রাওয়াদ ইয়েমেনি সূফী তার ‘মাওজিবাতুর রাহমাহ ওয়া আযঈমুল মাগফিরাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন-
قَالَ اِبْنُ صَالِحٍ وَسَمِعْتُ ذَالِكَ اَيْضًا مِنَ الْفَقِيْهِ مُحَمَّدَ بْنَ الزَّرَنِدِيِّ عَنْ بَعْضِ شُيُوْخِ الْعِرَاقِ وَالْعَجَمِ وَاَنَّهُ يَقُوْلُ عِنْدَ يَمْسَحُ عَيْنَيْهِ صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا سَيَّدِيْ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ يَا حَبِيْبَ قَلْبِيْ وَيَا نُوْرَ بَصْرِيْ وَيَا قُرَّةَ عَيْنِيْ وَقَالَا لِيْ كُلُّ مُنْذُ فَعَلْتُهُ لَمْ تَرْمَدْ عَيْنِيْ-
অর্থাৎ- ইবনে সালেহ বর্ণনা করেন, আমি এই আমল ফকীহ মুহাম্মদ বিন যরন্দী থেকেও শুনেছি এবং ইরাক ও অনারব বিশ্বে অনেক মাশায়েখও বর্ণনা করেছেন, তাদের বর্ণনায় এটাও আছে যে, চোখ মোছার সময় এই দুরূদ পড়বে
صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا سَيَّدِيْ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ يَا حَبِيْبَ قَلْبِيْ وَيَا نُوْرَ بَصْرِيْ وَيَا قُرَّةَ عَيْنِيْ-
এবং ঐ দুই মহান ব্যক্তি, শায়খ মুহাম্মদ মিসরী ও শায়খ ফকীহ মুহাম্মদ আমাকে বলেছেন, আমি এই আমল যখন থেকে করছি তখন থেকে আজ পর্যন্ত কখনো আমার চোখ অসুস্থ হয়নি।
অতঃপর ইবনে সালেহ বলেন-
وَاللّٰهِ الْحَمْدُ وَالشُّكْرُ مُنْذُ سَمِعْتُهُ مِنْهُمَا اِسْتَعْمَلْتُهُ فَلَمْ تَرْمَدْ عَيْنِيْ وَارْجُوْ اَنْ مَا فِيْهِمَا تَدُوْمُ وَاَنِّيْ اَسْلَمُ مِنْ الْعَمِّيْ اِنْشَاءَ اللّٰهُ تَعَالٰيْ-
মহান রবের শুকরিয়া ও প্রশংসা, আমি যখন এই মহান দু’জন বুযুর্গ মাশায়েখ থেকে এই আমলের কথা শুনেছি, তখন থেকে এই বরকতময় আমল আমি করতে শুরু করলাম এবং তখন থেকে এখনও পর্যন্ত আমার চোখে কোন ব্যাথা অনুভব হয়নি। আমি আশা করছি আমার চোখ সর্বদা ভাল ও সুস্থ থাকবে এবং কখনো অন্ধ হবে না, ইনশাআল্লাহ।
দলীল নং-৯: ইলমে ফিকহর প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য কিতাব ‘আল মুখতাসারুল কুদুরীর’ ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘জামেউল মুজমিরাত’ গ্রন্থের লেখক উস্তাজুল উলামা আল্লামা ইউসুফ বিন ওমরের ছাত্র, ফকীহদের ইমাম আরেফ বিল্লাহ সায়্যিদি ফজলুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়্যুব সোহরাওয়ার্দি তার ফাতওয়া এ সুফিয়া এবং উলামাদের আশ্রয়স্থল ইমাম আব্দুল আলী বরজন্দী তার প্রসিদ্ধ কিতাব শরহে নেক্বায়া গ্রন্থে বর্ণনা করেন-
وَاَعْلَمْ اَنَّهُ يَسْتَحِبُّ اَنْ يُّقَالَ عِنْدَ سِمَاعِ الْاُوْلِي مِنَ الشَّهَادَةِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْكَ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ وَ عِنْدَ الثَّانِيَةِ مِنْهُمَا قُرَّةُ عَيْنِيْ بِكَ يَا رُسُوْلَ اللَّهِ ثُمَّ قَالَ يُقَالُ اَللَّهُمَّ مَتِّعْنِيْ بِالسَّمْعِ وَالْبَصْرِ بَعْدَ وَضَعَ ظُفْرِيْ الْاِبْهَا مَيْنِ عَلٰيْ الْعَيْنَيْنِ فَاِنَّهُ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰي عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ لَهُ قَائِدًا اِلٰيْ الْجَنَّةِ وَكَذَا فِى كَنْزِ الْعِبَاد
অর্থাৎ- জেনে রাখুন, অবশ্যই মুস্তাহাব যে, যখন আযানে প্রথমে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলতে শুনবে তখন সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবে এবং দ্বিতীয়বার যখন বলতে শুনবে তখন বলবে, কুররাতু আইনি বিকা ইয়া রাসূলাল্লাহ, অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুলির নখের উপর চুমু খেয়ে তা চোখের উপর রেখে বলবে اَللَّهُمَّ مَتِّعْنِيْ بِالْسَّمْعِ وَالْبَصْرِ এর আমলকারীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে নিয়ে যাবেন। এই বর্ণনা ‘কানযুল ইবাদ’ নামক গ্রন্থেও উল্লেখ আছে।
দলীল নং-১০: শায়খুল মাশায়েখ, খাতেমুল মহাক্কেকীন, মক্কা শরীফে হানাফী ইমামদের সম্মানিত ইমাম আল্লামা শাহ জামাল বিন আব্দুল্লাহ ওমর মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার ফাতওয়ায় বর্ণনা করেন-
سُئِلَتْ عَنْ تَقْبِيْلِ الْاِبْهَامَيْنِ وَوَضَعْهُمَا عَلٰى الْعَيْنَيْنِ عِنْدَ ذِكْرِ اِسْمِهِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ الْاَذَانِ هَلْ هُوَ جَائِزٌ اَمْ لَا؟ اَجِبْتُ بِمَا نَصَّهُ نَعَمْ تَقْبِيْلُ الْاِبْهَامَيْنِ وَوَضَعْهُمَا عَلٰى الْعَيْنَيْنِ عِنْدَ ذِكْرِ اِسْمِهِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ جَائِزٌ بَلْ هُوَ مُسْتَحَبٌّ صَرَّحَ بِهِ مَشَائِخُنَا فِىْ كُتُبِ مُتَعَدَّدَةٌ
অর্থাৎ- আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, আযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারক শুনে আঙ্গুল চুম্বন করে তা চোখে লাগানো জায়েয কি- না? আমি এসব বাক্য দ্বারা উত্তর দিলাম, হ্যাঁ আযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারক শুনে আঙ্গুল চুম্বন করে চোখে লাগানো জায়েয, বরং মুস্তাহাব। আমাদের মাযহাবের বিজ্ঞ মাশায়েখগণ তাদের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে এই আমলকে মুস্তাহাব বলে উল্লেখ করেছেন।

Thursday, December 28, 2017

শয়তানের যুক্তি

শয়তানে দেখাবে তোমায় কত রকম যুক্তি, এই যুক্তি দিয়ে পরকালে পাইবানারে মুক্তি। আউয়াল তুমি শয়তানের সাথে তর্ক এন্ড যুক্তি দিয়ে পারবে না। কারন শয়তান ৬ লাখ ৫০ হাযার বছর ইবাদত করছে আল্লাহর। সেই তুলনায় তুই আর আমি কি?? ওরা তুর ঈমান নিয়ে ছাড়বে, যেমন হয়েছিল শয়তানের। মাফ চাই শয়তানের কাছে আমি পারবোনা তোমাদের সাথে। কোন রকম যুক্তি প্রমান ছাড়া মিলাদ কিয়াম জায়েজ। তোমরা মানলে মান, না মানলে শয়তানের সাথে ইবাদত কর আমরা বাড়াবাড়ি করব না।