Saturday, April 21, 2018

সৌদি মুফতিরা কই গেলি

যারা পবিত্র কুরআন হাদিসের নির্জাস থেকে উপলব্ধি না করে ইজমা কিয়াসেরও তোয়াক্কা নাকরে কথায় কথায় সৌদিয়া'কে ফলো করতে গিয়ে ইসলামে এটা-ওটা নেই বলে ফতোয়াবাজী করে তারা আজ কোথায়? সৌদিরা যে আজ সিনেমাহল তৈরী করে নারী পুরুষ একসাথে বসে সিনেমা দেখছেন। তবে কি আমাদের দেশীয় সৌদি মুফতিরাও এখন তাদের অনুসরণ করতে গিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার পক্ষে নিবে ⁉️
🇧🇩 ️বাংলাদেশে যখন মানুষ সিনেমা বিমুখ হওয়াতে সিনেমাহলগুলি বন্ধহয়ে মার্কেটে পরিণত হলো, তখন সৌদিরা কোটিটাকা ব্যয় করছেন আজ সিনেমার পিছনে।️ তারা আজ প্রতিটা শহরে বিশালাকার সিনেমাহল তৈরীর চুক্তি করছে পশ্চিমাদের সাথে। আমি তাদের বিরোধিতা করছিনা তবে ইসলামী শাসনীয় দাবীদার একটি দেশ এভাবে মডার্ন হতে গিয়ে সিনেমা প্রেমিক হয়ে সাধারণ মুসলমানদের শ্রদ্ধার 'রশিকাটা' কোনমতে মেনে নেয়া যায়না।

Saturday, March 17, 2018

বৃদ্ধাঙ্গুল চুম্বন এর প্রমান

আযান ও ইক্বামতে রাসূলে পাকের নাম মুবারক ‘মুহাম্মদ’ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুনে বৃদ্ধাঙ্গুলকে চুম্বন করে তা চোখে মোছা সম্পর্কে শরীয়তের দলীল
হাজার বছর ধরে মুসলিম মিল্লাতের মাঝে এ প্রথা চলে আসছে যে, হুযুর আকদাস, রহমতে আলম জানে দু’আলম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র নাম মুবারক শুনে পরমভক্তি ভরে বৃদ্ধাঙ্গুলি চুমু দিয়ে চোখে মালিশ করা। বিশেষ করে আযানে যখন
اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ
এই পবিত্র বাক্য শুনে তখন ছোট বড় সকলে পরম ভালবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে আপন বৃদ্ধাঙ্গুল চুম্বন করে তা চোখে মোছে নেয়। রাসূল প্রেমের এই অমৃত সুধা পানকারী প্রেমিকগণের পরিপূর্ণ ভক্তি সম্মানের এই মুস্তাহাব আমলকে বর্তমান যুগের অনেক মুনাফিক নিষেধ করে থাকে। এমনকি এই পবিত্র আমলকে বিদআত বলে অপপ্রচার চালিয়ে সরলমনা মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালায়।
বৃদ্ধাঙ্গুল চুম্বনের এই মাসয়ালা নিয়ে বর্তমানে জনসাধারণের মাঝে অনেক কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া ফ্যাসাদও হয়ে যায়। পবিত্র নাম মুবারক উচ্চারণ করলে এবং করতে শুনলে বৃদ্ধাঙ্গুল চুম্বন দিয়ে আপন দু’চোখে মালিশ করে বরকত হাসিল করার এই আমলকে বাধাদানকারী কাঠমোল্লা, মূর্খ মৌলভীরা শুধু বিদআত, বিদআত বলে চিৎকার করে কিন্তু তাদের এ দাবীর পক্ষে কোন দলীল প্রমাণ পেশ করতে পারেনা বরং উল্টো সাধারণ মুসলমানদেরকে যারা এ আমল করেন তাদেরকে বলে, এটা জায়েয এ মর্মে এমন কোন দলীল দাও তো দেখি। সরলমনা সাধারণ মুসলমানরা দলীল পেশ করতে না পেরে এটাই জবাব দেয় যে, এই বরকতময় আমল তো আমরা আমাদের বাপ- দাদা ও বুযূর্গ সূফী মুত্তাকীদেরকে করতে দেখে আসছি। এই আমল তো শুধু দেখা- দেখিভাবে প্রচলিত এরকম একটি আমল নয়, বরং যুগ যুগ ধরে ইসলামী শরীয়ত ও মুসলিম মিল্লাতের কাছে গ্রহণযোগ্য অনন্য বরকতময় একটি আমল। এর পরেও ওই মুনাফিক দলগুলো তাদের যতটুকু সাধ্য ততটুকু শক্তি ব্যয় করে সরলমনা মুসলমানকে এই মহত্বপূর্ণ আমল থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চালায়। অথচ, এই বরকতমন্ডিত আমলের বৈধতা সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে যথেষ্ট দলীল প্রমাণ রয়েছে। ঐ দলীলগুলো থেকে কয়েকটি দলীল এখানে পেশ করা হচ্ছে, যাতে সরলপ্রাণ মুসলমানরা ঐ সকল মুখোশধারী মুনাফিক মুসলমানের খপ্পরে পড়ে বিভ্রান্ত হতে না হয়।
দলীল নং-১:- ইমাম দায়লামী মাসনাদুল ফিরদাউস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন সত্যবাদীদের সরদার, মুত্তাকীদের ইমাম, খলীফাতুর রাসুল, আমীরুল মুমিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন সায়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, মুয়াযযিন আযানে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাছুলুল্লাহ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ বলতে যখন শুনতেন তখন
اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ رَضِيْتُ بِاللّٰهِ رَبًّا وَبِالْاِسْلَامِ دِيْنًا وَبِمُحَمَّدِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيِّنَا
উচ্চারণঃ- আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবুদুহু ওয়া রাসুলুহু, রাদ্বিতু বিল্লাহি
রাব্বা ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনা ওয়া বি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাবীয়্যানা (এই দোয়া) পড়তেন। অতঃপর ঐ দুই কালেমা আঙ্গুলের ভেতর দিকের সন্ধিস্থল চুমু খেয়ে চোখে লাগাতেন। সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর এই আমল দেখে রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ فَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلَ خَلِيْلِىْ فَقَدْ حَلَّتْ عَلَيْهِ شَفَاعَتِىْ-
যে এমন করবে যেমনি আমার বন্ধু করেছে, তার ব্যাপারে আমার শাফায়াত বৈধ হয়ে গেল।
দলীল নং-২: ইমাম আল্লামা আলী বিন সুলতান হারভী, ক্বারী, মক্কী, প্রকাশ মোল্লা আলী কারী আলায়হির রাহমাহ তার সর্বজন গ্রহণযোগ্য কিতাব মউদ্বুআতে কবীর গ্রন্থে পবিত্র নাম মুবারক শুনে আঙ্গুল চুম্বনের ব্যাপারে বলেন
وَاِذَا ثَبَتَ رَفْعُهُ اِلٰى الصِّدِّيْقِ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَلٰىْ عَنْهُ فَيَكْفِىَ لِلْعَمَلِ بِهِ لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلٰوةِ وَالسَّلَامِ عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِىْ وَسُنَّةُ الْخُلَفَاءَ الرَّاشِدِيْنَ-
অর্থাৎ- হযরত সিদ্দীকে আকবর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে এ কাজের প্রমাণ পাওয়া আমলের জন্য যথেষ্ট। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের উপর আবশ্যক, আমি ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনদের সুন্নাতের উপর আমল করা।
তাই হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে কোন আমল প্রমাণ পাওয়া বস্তুত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া
সাল্লাম থেকে কোন আমলের প্রমাণ বহন করে।
দলীল নং- ৩: ইমাম শামছুদ্দীন সাখাভী তার রচিত মাক্বাসিদ এ হাসানাহ গ্রন্থে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আঙ্গুল চুম্বনের এই আমলকে মুস্তাহাব বলে মন্তব্য করেছেন।
দলীল নং- ৪: বরেণ্য ইমাম হযরত আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবূ বকর রাওআদ ইয়েমেনি সূফি তার রচিত ‘মাওজিবাতুর রাহমাহ ওয়া আযাঈমুল মাগফিরাহ’ নামক গ্রন্থে হযরত সায়্যিদুনা খিযির আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণনা করেন , হযরত খিযির আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম বলেন-
مَنْ قَالَ حِيْنَ سَمِعَ الْمُؤَذِّنُ يَقُوْلُ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ مَرحَبًا بِحَبِيْبِىْ وَقُرَّةُ عَيْنِى مُحَمَّدَ بْنِ عَبْدِ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ يُقْبَلُ اَبْهَامَيْهِ وَيَجْعَلُهَا عَلٰى عَيْنَيْهِ لَمْ يَرْمَدْ اَبْدًا-
যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ শুনে
اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ مَرْحَبًا بِحَبِيْبِيْ وَقُرَّةُ عَيْنِىْ مُحَمَّدَ بْنِ عَبْدِ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ
পড়ে দুই বৃদ্ধাঙ্গুল চুম্বন করে তা তার আপন দু’চোখে লাগাবে, তার চোখ কোন দিন অসুস্থ হবে না।
দলীল নং- ৫: ‘মাওজিবাতুর রাহমাহ’ গ্রন্থে হযরত ফকীহ মুহাম্মদ বিন আলবাবা তার ভাই থেকে বর্ণনা করেন, তিনি আপন অবস্থার কথা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন-
اَنَّهُ هَبَتْ رِيْحُ فَوَقَعْتْ مِنْهُ حَصَّاةٌ فِىْ عَيْنِهِ وَاَعْيَاهُ خُرُوْجِهَا وَالْمُتْهُ اَشَدُّ الْاَلَمِ وَاَنَّهُ لَمَّا سَمِعَ الْمُؤَذِّنُ يَقُوْلُ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ قَالَ ذَالِكَ فَخَرَجْتُ الحَصَّاةُ مِنْ فَوْرِهِ ، قَالَ الرَّوَادُ رَحِمَهُ اللّٰهُ تَعَالٰى وَهَذَا يَسِيْرُ فِىْ جَنْبِ فَضَائِلِ الرَّسُوْلِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْهِ وَسَلَّمُ-
অর্থাৎ- একদিন খুব জোরে বাতাস প্রবাহিত হলে বাতাসের বেগে একটি কঙ্কর তার চোখে ঢুকে যায়, তা বের করার জন্য অনেক চেষ্টা করা হল কিন্তু বের হলনা এবং তা অসম্ভব ব্যথা- বেদনা শুরু করে দিল। এমন সময়ে সে মুয়াযযিনের আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বাক্যটি বলতে শুনল, তখন উল্লিখিত দোয়া পড়ে এই বরকতময় আমল করল। সাথে সাথে তার চোখ থেকে ওই কঙ্কর বের হয়ে গেল। হযরত রাওআদ বলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মহত্ত্বের সামনে সেটা তেমন কিছু নয়।
দলীল নং-৬: পবিত্র মদীনায়ে তায়্যিবাহ’র খতীব, হযরত ইমাম শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন সালেহ মাদানী তার রচিত তারীখ গ্রন্থে বর্ণনা করেন,
رَوِيَ عَنِ الْفَقِيْهِ مُحَمَّدٍ بْنِ سَعِيْدٍ الْخَوَلَانِيْ قَالَ اَخْبَرَنِيْ فَقِيْهُ الْعَالِمِ اَبُوْ الْحَسَنِ عَلِي بْنِ حَدِيْدِ الْحُسَيْنِيْ اَخْبَرَنِيْ الْفَقِيْهُ الزَّاهِدِ الْبِلَالِىْ عَنِ الْحَسَنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَّهُ قَالَ مَنْ قَالَ حِيْنَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنُ يَقُوْلُ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ مَرْحَبًا بِحَبِيْبِىْ وَقُرَّةُ عَيْنِيْ مُحَمَّدُبْنِ عَبْدِ اللّٰهِ وَيُقْبَلُ اِبْهَامَيْهِ وَيَجْعَلُهَا عَلٰى عَيْنَيْهِ لَمْ يَعَمْ وَلَمْ يَرْمَد-
অর্থাৎ- ফকীহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ খাওলানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে ফকীহ আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাদীদ হোসাইনী খবর দিয়েছেন, ফকীহ যাহেদ বিলালী ইমাম হাসান মুজতাবা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে ব্যক্তি, মুয়াযযিনের اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ শুনে-
مَرْحَبًا بِحَبِيْبِيْ وَقُرَّةُ عَيْنِيْ مُحَمَّدُ بْنِ عَبْدِ اللّٰه
এই দোয়া পড়ে আপন বৃদ্ধাঙ্গুল চুমু দিয়ে আপন চোখে লাগাবে, ঐ ব্যক্তির চোখ না কখনো অন্ধ হবে, না কখনো ব্যাথা অনুভব করবে।
দলীল নং-৭: খতীবে মদীনায়ে তায়্যিবাহ হযরত শামসুদ্দীন বনি সালেহ মাদানী তার ‘তারীখ’ গ্রন্থে হযরত মাজদ মিসরী, [যিনি সালফে-সালেহীনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন] থেকে বর্ণনা করেন, মাজদ মিসরী বলেন
اِذَا سَمِعَ ذِكْرَهُ صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ الْاَذَانِ وَجَمَعَ اَصَبِعَيْهِ الْمُسَبَّحَةِ وَالْاِبْهَامُ وَقَبَّلَهُمَا وَمَسْحَ بِهِمَا عَيْنَيْهِ لَمْ يَرْمَدْ اَبَدًا-
অর্থাৎ- যে ব্যক্তি আযানের মধ্যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র নাম শুনে শাহাদাত আঙ্গুল ও বৃদ্ধাঙ্গুল মিলাবে এবং তাতে চুমু খেয়ে চোখে মালিশ করবে তার চোখ কোন দিন অসুস্থ হবে না।
দলীল নং-৮: সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইমাম, ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবু বকর রাওয়াদ ইয়েমেনি সূফী তার ‘মাওজিবাতুর রাহমাহ ওয়া আযঈমুল মাগফিরাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন-
قَالَ اِبْنُ صَالِحٍ وَسَمِعْتُ ذَالِكَ اَيْضًا مِنَ الْفَقِيْهِ مُحَمَّدَ بْنَ الزَّرَنِدِيِّ عَنْ بَعْضِ شُيُوْخِ الْعِرَاقِ وَالْعَجَمِ وَاَنَّهُ يَقُوْلُ عِنْدَ يَمْسَحُ عَيْنَيْهِ صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا سَيَّدِيْ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ يَا حَبِيْبَ قَلْبِيْ وَيَا نُوْرَ بَصْرِيْ وَيَا قُرَّةَ عَيْنِيْ وَقَالَا لِيْ كُلُّ مُنْذُ فَعَلْتُهُ لَمْ تَرْمَدْ عَيْنِيْ-
অর্থাৎ- ইবনে সালেহ বর্ণনা করেন, আমি এই আমল ফকীহ মুহাম্মদ বিন যরন্দী থেকেও শুনেছি এবং ইরাক ও অনারব বিশ্বে অনেক মাশায়েখও বর্ণনা করেছেন, তাদের বর্ণনায় এটাও আছে যে, চোখ মোছার সময় এই দুরূদ পড়বে
صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا سَيَّدِيْ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ يَا حَبِيْبَ قَلْبِيْ وَيَا نُوْرَ بَصْرِيْ وَيَا قُرَّةَ عَيْنِيْ-
এবং ঐ দুই মহান ব্যক্তি, শায়খ মুহাম্মদ মিসরী ও শায়খ ফকীহ মুহাম্মদ আমাকে বলেছেন, আমি এই আমল যখন থেকে করছি তখন থেকে আজ পর্যন্ত কখনো আমার চোখ অসুস্থ হয়নি।
অতঃপর ইবনে সালেহ বলেন-
وَاللّٰهِ الْحَمْدُ وَالشُّكْرُ مُنْذُ سَمِعْتُهُ مِنْهُمَا اِسْتَعْمَلْتُهُ فَلَمْ تَرْمَدْ عَيْنِيْ وَارْجُوْ اَنْ مَا فِيْهِمَا تَدُوْمُ وَاَنِّيْ اَسْلَمُ مِنْ الْعَمِّيْ اِنْشَاءَ اللّٰهُ تَعَالٰيْ-
মহান রবের শুকরিয়া ও প্রশংসা, আমি যখন এই মহান দু’জন বুযুর্গ মাশায়েখ থেকে এই আমলের কথা শুনেছি, তখন থেকে এই বরকতময় আমল আমি করতে শুরু করলাম এবং তখন থেকে এখনও পর্যন্ত আমার চোখে কোন ব্যাথা অনুভব হয়নি। আমি আশা করছি আমার চোখ সর্বদা ভাল ও সুস্থ থাকবে এবং কখনো অন্ধ হবে না, ইনশাআল্লাহ।
দলীল নং-৯: ইলমে ফিকহর প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য কিতাব ‘আল মুখতাসারুল কুদুরীর’ ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘জামেউল মুজমিরাত’ গ্রন্থের লেখক উস্তাজুল উলামা আল্লামা ইউসুফ বিন ওমরের ছাত্র, ফকীহদের ইমাম আরেফ বিল্লাহ সায়্যিদি ফজলুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়্যুব সোহরাওয়ার্দি তার ফাতওয়া এ সুফিয়া এবং উলামাদের আশ্রয়স্থল ইমাম আব্দুল আলী বরজন্দী তার প্রসিদ্ধ কিতাব শরহে নেক্বায়া গ্রন্থে বর্ণনা করেন-
وَاَعْلَمْ اَنَّهُ يَسْتَحِبُّ اَنْ يُّقَالَ عِنْدَ سِمَاعِ الْاُوْلِي مِنَ الشَّهَادَةِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْكَ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ وَ عِنْدَ الثَّانِيَةِ مِنْهُمَا قُرَّةُ عَيْنِيْ بِكَ يَا رُسُوْلَ اللَّهِ ثُمَّ قَالَ يُقَالُ اَللَّهُمَّ مَتِّعْنِيْ بِالسَّمْعِ وَالْبَصْرِ بَعْدَ وَضَعَ ظُفْرِيْ الْاِبْهَا مَيْنِ عَلٰيْ الْعَيْنَيْنِ فَاِنَّهُ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰي عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ لَهُ قَائِدًا اِلٰيْ الْجَنَّةِ وَكَذَا فِى كَنْزِ الْعِبَاد
অর্থাৎ- জেনে রাখুন, অবশ্যই মুস্তাহাব যে, যখন আযানে প্রথমে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলতে শুনবে তখন সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবে এবং দ্বিতীয়বার যখন বলতে শুনবে তখন বলবে, কুররাতু আইনি বিকা ইয়া রাসূলাল্লাহ, অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুলির নখের উপর চুমু খেয়ে তা চোখের উপর রেখে বলবে اَللَّهُمَّ مَتِّعْنِيْ بِالْسَّمْعِ وَالْبَصْرِ এর আমলকারীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে নিয়ে যাবেন। এই বর্ণনা ‘কানযুল ইবাদ’ নামক গ্রন্থেও উল্লেখ আছে।
দলীল নং-১০: শায়খুল মাশায়েখ, খাতেমুল মহাক্কেকীন, মক্কা শরীফে হানাফী ইমামদের সম্মানিত ইমাম আল্লামা শাহ জামাল বিন আব্দুল্লাহ ওমর মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার ফাতওয়ায় বর্ণনা করেন-
سُئِلَتْ عَنْ تَقْبِيْلِ الْاِبْهَامَيْنِ وَوَضَعْهُمَا عَلٰى الْعَيْنَيْنِ عِنْدَ ذِكْرِ اِسْمِهِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ الْاَذَانِ هَلْ هُوَ جَائِزٌ اَمْ لَا؟ اَجِبْتُ بِمَا نَصَّهُ نَعَمْ تَقْبِيْلُ الْاِبْهَامَيْنِ وَوَضَعْهُمَا عَلٰى الْعَيْنَيْنِ عِنْدَ ذِكْرِ اِسْمِهِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ جَائِزٌ بَلْ هُوَ مُسْتَحَبٌّ صَرَّحَ بِهِ مَشَائِخُنَا فِىْ كُتُبِ مُتَعَدَّدَةٌ
অর্থাৎ- আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, আযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারক শুনে আঙ্গুল চুম্বন করে তা চোখে লাগানো জায়েয কি- না? আমি এসব বাক্য দ্বারা উত্তর দিলাম, হ্যাঁ আযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারক শুনে আঙ্গুল চুম্বন করে চোখে লাগানো জায়েয, বরং মুস্তাহাব। আমাদের মাযহাবের বিজ্ঞ মাশায়েখগণ তাদের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে এই আমলকে মুস্তাহাব বলে উল্লেখ করেছেন।

Thursday, December 28, 2017

শয়তানের যুক্তি

শয়তানে দেখাবে তোমায় কত রকম যুক্তি, এই যুক্তি দিয়ে পরকালে পাইবানারে মুক্তি। আউয়াল তুমি শয়তানের সাথে তর্ক এন্ড যুক্তি দিয়ে পারবে না। কারন শয়তান ৬ লাখ ৫০ হাযার বছর ইবাদত করছে আল্লাহর। সেই তুলনায় তুই আর আমি কি?? ওরা তুর ঈমান নিয়ে ছাড়বে, যেমন হয়েছিল শয়তানের। মাফ চাই শয়তানের কাছে আমি পারবোনা তোমাদের সাথে। কোন রকম যুক্তি প্রমান ছাড়া মিলাদ কিয়াম জায়েজ। তোমরা মানলে মান, না মানলে শয়তানের সাথে ইবাদত কর আমরা বাড়াবাড়ি করব না।

Wednesday, December 27, 2017

ফতুয়া দেওয়া খুব সহজ ।

একবার এক নারীর বিয়ে হলো। কিন্তু স্বামীর সাথে কোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার আগেই স্বামীটি মারা গেলেন। আবার বিয়ের সময় মাহ্‌র (দেনমোহর)-ও নির্ধারণ করা হয়নি। এই মহিলার মাহ্‌রের কী হবে সেটা নিয়ে লোকজন বেশ ঝামেলায় পড়ে গেলেন।
তারা ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন্‌ মাস‘ঊদের কাছে এলেন ফাতওয়া নিতে। আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট থাকুক। উনি বললেন, “আল্লাহর রাসূলের ﷺ কাছ থেকে চলে আসার পর, আমাকে এর চেয়ে বেশি কঠিন আর কোনো প্রশ্ন করা হয়নি। অন্য কারও কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করো।”
একমাস লেগে থাকার পরও যখন সাহাবি ‘আবদুল্লাহ কোনো ফাতওয়া দিলেন না, লোকজন তখন বললেন, "আপনাকে জিজ্ঞেস না করে আমরা অন্য আর কাকে জিজ্ঞেস করব বলেন? এই অঞ্চলে আপনি ‎নবিজির ‎ﷺ সবচেয়ে প্রখ্যাত সাহাবিদের অন্যতম। আপনার মতো আর কেউ নেই এখানে।”
অগত্যা তিনি বললেন, "ঠিক আছে, আমি তোমাদেরকে তার (মহিলার) ব্যাপারে আমার সর্বোত্তম মতামত দেওয়ার চেষ্টা করব। যদি তা সঠিক হয়, তাহলে তা শুধুমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাঁর কোনো শরিক নেই। আর যদি তা ভুল হয়, তাহলে তা আমার ও শয়তানের পক্ষ থেকে। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) তা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত থাকবেন..." এরপর তিনি একটা ফাতওয়া দিলেন।
ইসলাম নিয়ে কিছু বলা, বিশেষ করে ফাতওয়া দেওয়া যদি ডালভাত কাজ হতো তাহলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন্‌ মাস‘ঊদের মতো সাহাবি শুরুতেই দিয়ে দিতেন। উনার পিছে একমাস লেগে থাকতে হতো না। কুর'আন-সুন্নাহ, দীনের বুঝ উনার নিশ্চয় কম ছিল না। তবু কত সতর্কতা। ফাতওয়া না দিতে চাওয়ার কত আগ্রহ!
আবার লোকেরা কিন্তু চাইলেই অন্য কারও কাছ থেকে সমাধান নিয়ে নিতে পারতেন। নেননি। তারা একমাস তার পিছে লেগে থেকে ফাতওয়া আদায় করে ছেড়েছেন। বিষয়টাকে যে তারা হালকাভাবে নেননি এতে তারই প্রমাণ পাই।
উপরের হাদীসটি থেকে আমি নিজেকে তো ভবিষ্যতে সামান্যতম ফাতওয়া থেকে ১০০ হাত দূরে রাখবই, আমার দীনি ভাইদেরও বলছি, ফাতওয়া দেওয়ার মতো কাজ থেকে নিজে ১০০ হাত দূরে থাকুন। ভার্সিটির স্টুডেন্ট আর সেলিব্রিটিদের কাছ থেকেও "ফিক্‌হ" শেখা থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন। ‘আলিমদের খুঁজে বের করুন। তাদের পিছে লেগে থাকুন। বিদ্যুতহীন যুগে লোকেরা যদি একমাস লেগে থাকার মতো কষ্ট করতে পারে, অত্যাধুনিক যুগে ইমেল, ফোনের মাধ্যমে কয়েক মাস লেগে থাকতে পারবেন না?
————————————————
হাদীস-সূত্র: আবু দাউদ ও আন নাসা‘ঈসহ অন্যান্যরা সংকলন করেছেন। আল-আলবানি হাদীসটিকে স়াহ়ীহ় বলে মত দিয়েছেন (ইরওয়া আল-গালীল, হাদীস নং ১৯৩৯)

Sunday, July 26, 2015

একবার বিশিষ্ট সাহাবী হযরত জাবের [রা:]

চৌখে পানি আশার কাহিনী পড়ে
দেখুন
একবার বিশিষ্ট সাহাবী হযরত
জাবের [রা:] হযরত রাসূল[সা:]-এর
কাছে আরজ করলেন,ইয়া রাসূলুল্লাহ্ !
দয়া করে এই গোলামের বাড়িতে
দাওয়াত কবুল করে নিন । নবীজী
তাঁর দাওয়াত কবুল করে নিলেন।
জাবের [রা:] খুশীতে আত্মহারা
হয়ে বাড়িতে চলে গেলেন ।
বাড়িতে গিয়ে স্রী
ও পুত্রদের খোশ…খবর দিলেন- আজ
আমাদের ভাগ্য খুলে,গেছে
আল্লাহর নবী দয়া করে আমাদের
বাড়িতে তশরীফ নিবেন । এর চেয়ে
আনন্দের ব্যাপার আমাদের জীবনে
আর কি হতে পারে! তিনি
তাঁদেরকে নিয়ে মহানন্দে
নবীজীকে আপ্যায়ন করার
আয়োজনে লেগে গেলন । বাড়ি-ঘর
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সুন্দরভাবে
সাজালেন । সুগন্ধী দ্রব্য ছিটিয়ে
ঘরকে সুবাসিত করলেন-ঘরে পালিত
খাসীজবাই করলেন। বড় ছেলে
আবদুল্লাহকে নিয়ে খাসী জবাই
করে নিজ হাতে তার চামড়া
ছাড়িয়ে সুন্দর করে মাংস টুকরো
টুকরো করে নিলেন । অত:পর স্রীর
কাছে মাংস নিয়ে বললেন,যত্ন
করে মাংসের টুকরোগুলো ভুনা করে
নাও । স্রীকে এ কথা বলে হযরত
জাবের[রা:] বাড়ী-ঘর তদারক করতে
থাকলেন,কোথাও কোন কাজ বাকী
রয়েগেল কি-না । মাঝে মাঝে
রান্না ঘরে গিয়ে দেখেন-রান্না
আর কতদূর হয়েছে; আবার বাড়ীর
সামনের রাস্তায় গিয়ে দেখেন-
নবীজী আসছেন কি-না । ইতিমধ্যে
হযরত জাবের [রা:]-এর ছোট ছেলে ঘুম
থেকে উঠে খাসী তালাশ করতে
লাগলো । তারা দুই ভাই মিলে
খাসীটিকে আদর-যত্ন করে লালন -
পালন করতো ।বড় ভাই তাকে
জানাল -নবীজীর মেহমানদারী
করার জন্য খাসীটিকে জবাই করা
হয়েছে । ছোট ভাই বায়না ধরলো-
খাসী কিবাবে জবাই করে
আমাকে তা দেখাও । অগত্যা বড়
ভাই ছুরি হাতে করে ঘরের পেছনে
গিয়ে বললো, এখানে খাসী জবাই
করা হয়েছে । ছোট ভাই জানতে
চাইলো,কিভাবে ? বর্ণনা করে
বোঝতে না পেরে অবশেষে বড়
ভাই বললো, তাহলে তুমি মাটিতে
শুয়ে পড় । আমি তোমাকে দেখাই ।
ছোট ভাই মাটিতে শোয়ার পর বড়
ভাই তার গলায় ছুরি চালিয়ে জবাই
করার নমুনা দেখাতে গিয়ে ছোট
ভাইকে সত্যি সত্যি জবাই করে
ফেললো । বড় ভাই যখন দেখলো-ছোট
ভাইয়ের গলা থেকে রক্ত গড়িয়ে
পড়ছে, সে ছটফট করতে করতে এক সময়
নিস্তেজ হয়ে গেছে, তখন বুঝলো
ব্যাপারটি কি ঘটেছে । আতঙ্কিত
হয়ে সে নিকটবর্তী এক খেজুর
গাছের চূড়ায় উঠে আত্মগোপন করে
রইলো। এদিকে হযরত জাবের[রা:]
পুত্রদের খোজে বাড়ীর পেছনে
এসে ছোট ছেলের অবস্হা দেখে
থমকে গেলেন । অত:পর তাকে বুকে
করে স্রীর কাছে গিয়ে
বললেন,তাড়াতড়ি একটি কম্বল
নিয়ে এসো, বাচ্চাটিকে শুইয়ে
দিই । স্রী রক্তমাখা সন্তানের লাশ
দেখে চিৎকার করে কাঁদতে
লাগলেন। কিন্ত স্বামী তাকে
সান্ত্বনা দিয়ে বললো আজ
আমাদের শোক প্রকাশ করার দিন না
আমাদের দুঃখ দেখলে নবীজীও
দুঃখিত হবেন । অতএব,ধৈর্য ধারণ
করো । মুখে হাসি ফুটিয়ে তোল ।
তারপর তাঁরা দু’জনে মিলে ছোট
ছেলেকে কম্বল মুড়ে রান্নঘরের
পেছনে রেখে আসলেন ।স্রী
রান্নার কাজে মন দিলেন । জাবের
[রাঃ] বের হলেন বড় পুত্র আবদুল্লাহর
খোজে । বাড়ীর পেছনে গিয়ে
ছেলের নাম ধরে জোরে হাঁক
দিলেন । গাছের উপর আত্মগোপন
করে বড় ছেলে সব. ঘটনা প্রত্যক্ষ
করছিল,R ভয়ে কাঁপছিল । পিতার
ডাক শুনে ভাবলো, এখন পালাতে
না পারলে আব্বার হাতে ধরা
পড়তে হবে । ধরা পড়লে R রক্ষা
থাকবেনা । পালানোর উদ্দেশ্যে
গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ে
আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সেও মৃত্যুর কোলে
ঢলে পড়লো । পিতা কাছে গিয়ে
গায়ে হাত দিয়ে দেখেন-
আবদুল্লাহর দেহে প্রাণের স্পন্দন
নেই ! বড় ছেলে কে কোলে তুলে
তিনি বাড়ীর ভিতরে আসলেন ।
স্রীকে বললেন, R একটি কম্বল নিয়ে
আসার জন্যে । বড় ছেলের অবস্হা ।
দেখে মাতা পুনরায় আর্তনাদ করে
উঠলেন । স্বামী তাকে পুনরায়
সান্ত্বনা দিয়ে বললেন,ধৈর্য্য ধরো
। আজ আমাদের দুঃখ প্রকাশের দিন
না । আজ আমাদের পরম আনন্দের দিন ।
তারপর দু’জনে মিলে বড় ছেলের
লাশও কম্বলে মুড়ে ছোট ছেলের
লাশের পাশে রাখলেন ।স্বামী-
স্রী তদের চোখের পানি মুছে মুখে
হাসি ফুটিয়ে তুলেন । যাঁর ”নূরে”
সমগ্র মাখলুকাত পয়দা,সেই
রাহমাতাল্লিল আলামীনের
সামনে অশ্র্র বিসর্জন দিলে তিনি
দুঃখ পাবেন । তাই আনন্দিত হয়ে
তাঁরা নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত
হয়ে পড়লেন । হযরত জাবের [রাঃ]
বাড়ীর সামনে দাড়িয়ে নবীজীর
আগমনের অপেক্ষা করতে লাগলেন ।
অল্পক্ষণের মধ্যে নবীজীকে উটের
পিঠে করে আসতে দেখা গেলো ।
হযরত জাবের [রাঃ] আনন্দে
আত্মহারা হয়ে দৌড়ে গিয়ে
স্রীকে নবীজীর আগমনের সংবাদ
দিলেন । পুনরায় তিনি দৌড়ে
বাড়ীর সামনে চলে এলেন ।
নবীজীর উটের কাছে গিয়ে
তাঁকে বাড়ী পর্যন্ত এগিয়ে
আনলেন নবীজী জাবের [রাঃ]-এর
ঘরের সামনে উট থামিয়ে তাঁর ডান
পা মোবারক মাটিতে
রাখলেন,বাম পা মোবারক এখনো
নামাতে বাকী । এমন সময় জিব্রাইল
[আঃ] আল্লাহর পক্ষ হতে নির্দেশ
নিয়ে উপস্হিত হয়ে বললেন ইয়া
রাসূলুল্লাহ! আল্লাহ্ আপনাকে
জাবেরের ছেলেদেরকে সংগে
নিয়ে খানা খেহে বলেছেন ।
অতঃপর নবীজী
সাহাবায়েকেরামকে নিয়ে
জাবের [রাঃ]-এর ঘরে তশরীফ
নিলেন ।তাদের সামনে জাবের
রা] দস্তর খানা বিছিয়ে দিলেন
তার স্রী খাবার বেরে দিলেন R
তিনি সেগুলো এনে মেহমানদের
সামনে হাজির করলেন তারপর
তিনি নবীজীকে আরজ করলেন, ইয়া
রাসূলুল্লাহ্! বিস্মল্লাহ্ করুন নবীজী
বললেন, হে জাবের ! তোমার
ছেলেরা কোথায় ? তাদেরকে
ডাক হযরত জাবের [রাঃ] বললেন,
ইয়া হাবীবাল্লাহ! আপনি দয়া করে
খেয়ে নিন ছেলেদেরকে আমি
পরে ডাকবো হযরত রাসূল [সাঃ]
পুনরায় বললেন তোমার ছেলেদের
ডেকে নিয়ে এসো তাদেরকে
সাথে নিয়ে খানা খাবো হযরত
জাবের ও তার স্রী হাত জোড় করে
পুনরায় আরজ করলেন ,ইয়া
রাসূললুল্লাহ ! আপনি খানা খেয়ে
নিন আমরা তাদেরকে ডেকে
দিচ্ছি তখন নবীজী বললেন, হে
জাবের ! এইমাত্র জিব্ররাইল
ফেরেশতা আমাকে আল্লাহর
নির্দেশ জানিয়ে গেলেন ,আমি
যেন তোমার ছেলেদেরকে সাথে
নিয়ে খানা খাই নবীজীর একথা
শুনে হযরত জাবের [রা] ও তার স্রী R
ধৈর্য্য ধারণ করতে পারলেনা ।
তারা হাউমাউ করে কেদে বললেন
ইয়া রাসূলূল্লাহ্! ছেলেদেরকে
কোথায় পাবো ? তারা তো জগতে
বেঁচে নেই নবীজী জানতে
চাইলেন ,তাদের কি হয়েছে ?তখন
তারা নবীজীকে সমস্ত ঘটনা খুলে
বললেন তাদের দুঃখের কাহিনি
শুনে সাহাবায়েকেরামও কাঁদতে
শুরু করলেন ।নবীজীর প্রেমিক হযরত
জাবের[রা] ও তার স্রীর ঘটনা শুনে
অনেকে চিল্লাচিল্লি করে
মাটিতে গড়াগড়ি খেতে থাকেন
তারপর নবীজী উঠে দাঁড়িয়ে হযরত
জাবের [রা:]-কে বললেন
,তাদেরকে কোথায় রেখেছো,
সেখানে আমাকে নিয়ে চলো।
*hozrut*জাবের [রা:] নবীজীকে
রান্না ঘরের পেছনে নিয়ে গেলন।
আল্লাহ্র নবী *hozrut* রাসূল [স:]
কম্বলাবৃত দুই ছেলের মৃতদেহের উপর
তাঁর দুই হাত মোবারক রেখে বললেন,
হে জাবেরের ছেলেরা! তোমরা
কি দেখ না, তোমাদের আব্ব-আম্মা
আল্লাহ্র নবীকে কত ভালোবাসেন!
আমি মনে কষ্ট পাবো বলে
তোমাদের কথা তারা আমাকে
জানায়নি । তোমরা শীঘ্রই ওঠ,
তোমাদেরকে সঙে করে আমি
খানা খাবো । এ কথা বলে নবীজী
যখন তাদের. দেহ থেকে কম্বল
সরিয়দিলেন , সংগে সংগে তারা
দু’জনউঠে নবীজীর কদম মোবারক
জড়িয়ে ধরলো । তখন নবীজীর
প্রেমে কেউ সুস্হির ছিলেন না ।
সবাই কাঁদতে কাঁদতে বেহুঁশের
মতো হয়ে গেলন। পরিস্হিতি শান্ত
হলে নবীজী হযরত জাবের [রা:]-এর
দুই ছেলেকে নিয় খানা খেতে
বসলেন ।
সবাইকে বললেন , মাংস খাবার পর
হাড় চিবিয় না খেয়ে তা জমা
করে রাখার জন্যে।
এভাবে সবার খাওয়া শেষ হলে
নবীজী তাঁর পবিত্র হাত মোবারক
*হাড়ের* ওপর রেখে বললেন, ওহে
জাবেরের খাসী! তুমি কি দেখো
না তোমার মনিব আল্লাহ্র নবীকে
কতখানি ভালোবাসেন? তুমি
পুনরায় তোমার মনিবের হয়ে যাও।
নবীজী *a* কথা বলার সাথে সাথে
খাসী জীন্দা হয়ে সামনে
দাঁড়িয়ে গেলো ।

ফেরাউন নমরুদ ও মশা কাহিনী

বাইবেলের বুকস অব জেনেসিস ও বুকস অব ক্রোনিকেলস অনুসারে নমরুদ ছিলেন কুশের পুত্র, হামের পৌত্র (grandson) এবং নূহের প্রোপৌত্র (great-grandson). He proclaims himself a god and is worshiped as such by his subjects. ইহুদি ধর্মপুস্তকগুলো তাকে উপস্থাপন করেছে as a man of power in the earth, and a mighty hunter.
অনেকের মতে নমরুদ অর্থ বিদ্রোহী (Rebel)। তিনি খোদার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। আর আমরা তার সম্পর্কে ইতিহাস ও অন্যান্য ধর্মপুস্তক গুলিতে যা পাই তা এটা প্রমান করার জন্যে যথেষ্ট যে তার শক্তি, ক্ষমতা ও দম্ভের প্রকাশ আকাশ ছুঁয়েছিল- তিনি ঐশ্বরিক শক্তির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমেছিলেন। এই আর্টিকেলে আমরা দেখব ঐ প্রতিদ্বন্দ্বীতার ধরণ কেমন ছিল এবং তা কি ধরণের ফলাফল বয়ে নিয়ে এসেছিল।
হিব্রোণে বাসকরার এক পর্যায়ে আল্লাহ ইব্রাহিম(আ:) (Abraham)-কে বললেন, "হে ইব্রাহিম! তুমি নমরুদকে সতর্ক কর তার উপর শাস্তি আসার আগেই।"সুতরাং ইব্রাহিম পুনঃরায় নমরুদের রাজদরবারে উপস্থিত হলেন। ফেরাউন নমরুদ (Pharaoh Nimrod) তাকে চিনতে পেরে বললেন, "হে ইব্রাহিম! কি উপলক্ষ্যে তোমার এ আগমন?"
ইব্রাহিম(আ:) বললেন- "হে নমরুদ! আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, যিনি এক-যার কোন শরীক নেই, যিনি আরশের অধিপতি।"নমরুদ কখনও আল্লাহর কর্তৃত্ব স্বীকারের পক্ষপাতি ছিলেন না। ইতিপূর্বে তো তিনি এ বিষয়ে ইব্রাহিম(আ:)র সাথে বাদানুবাদেও লিপ্ত হয়েছিলেন সেইসময় যখন ইব্রাহিম(আ:) তাকে সিজদা করতে অস্বীকার করে বলেছিলেন- "আমি সিজদা করি একমাত্র আল্লাহকে, যিনি আমার প্রতিপালক।" এতে অবাক হয়ে নমরুদ জিজ্ঞেস করেছিলেন, "হে ইব্রাহিম, কে তোমার প্রতিপালক?"
এ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতসমূহ-
সে (নমরুদ) ইব্রাহিমের সাথে তার প্রতিপালক সম্পর্কে তর্ক করেছিল, যখন ইব্রাহিম বলল, "আমার প্রতিপালক তিনি, যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান।"সে বলল, "আমিও জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটিয়ে থাকি।"ইব্রাহিম বলল, "নিশ্চয় তিনি সূর্য্যকে উদিত করেন পূর্ব দিক থেকে, এবার আপনি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করে দেখান।" তখন সে অবিশ্বাসী হতভম্ব হয়ে গেল।(২:২৫৮)
এ কারণেই এসময়ে নমরুদ ইব্রাহিম(আ:)র সাথে পুনরায় তার প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্কে না গিয়ে সরাসরি ফয়সালার পথ বেঁছে নিলেন। আর তাই তিনি বললেন, "হে ইব্রাহিম! দুনিয়ার রাজত্ব তো আমার। শীঘ্রই আকাশের রাজত্বও আমি তোমার আল্লাহর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেব।"
ইব্রাহিম(আ:) বললেন, "হে নমরুদ, কিভাবে আপনি আকাশে পৌঁছিবেন?"
তিনি বললেন, "আমার বিজ্ঞ পরিষদবর্গই এ ব্যাপারে আমাকে পূর্ণপথ বাৎলে দেবে।"
অতঃপর নমরুদ যখন এ ব্যাপারে পরিষদবর্গের পরামর্শ চাইলেন, তখন পরিষদবর্গের একজন হয়ে ইবলিস তাকে পূর্ণ পরামর্শ দিল। সুতরাং নমরুদের হুকুমে চারটি শকুনকে লালন-পালন করা হল। অতঃপর একটি সিন্দুক তৈরী করে শকুন চারটিকে কয়েকদিন অভুক্ত রেখে ঐ সিন্দুকের চার কোনায় বেঁধে দেয়া হল। তারপর সিন্দুকের উপরদিকে শকুনের নাগালের বাইরে কিন্তু দৃষ্টির সীমানায় ঝুলিয়ে দেয়া হল মাংসের টুকরো।
নমরুদ ও তার সেনাপতি প্রস্তুত হয়ে টাওয়ার অব বাবিলের চূঁড়া থেকে সিন্দুকে আরোহণ করলেন। উল্লেখ্য আকাশের রাজত্ব দখলের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে নমরুদ টাওয়ার অব বাবিল (Tower of Babel) নির্মান করেছিলেন। এই টাওয়ার অব বাবিল সম্পর্কে বাইবেলে আছে- "....and a tower, whose top may reach unto heaven....". -(Genesis 11:4) যাহোক, শকুনেরা মাংসের টুকরো খেতে চাইল, আর তাদেরকে নিয়ে সিন্দুকসহ উর্দ্ধপানে উড়ে চলল। এ সম্পর্কে ইহুদি রাব্বানিক সাহিত্য জানায়- Nimrod goes on to try storming Heaven, throwing arrows in person, in a chariot driven by birds. আর তাই বাইবেলেও তার সম্পর্কে বলা হয়েছে-"He was a mighty hunter against the Lord."-(Genesis 10:9)
উর্দ্ধ আকাশে পৌঁছে নমরুদ ও তার সেনাপতি একের পর এক তীর উপরের দিকে নিক্ষেপ করলেন। ঐ সময় আল্লাহ জিব্রাইলকে বললেন, "আমার এই বান্দা যেন নিরাশ না হয়। সুতরাং তার তীরগুলিকে রক্তরঞ্জিত করে ফেরৎ পাঠাও।"
এদিকে সকল তীর নিক্ষেপ শেষে নমরুদ পৃথিবী পৃষ্ঠে ফিরে আসতে চাইল। সেজন্যে শকুনগুলিকে নিম্নগতি করার লক্ষ্যে সিন্দুকের উপরের দিকে ঝুলিয়ে দেয়া মাংস একইভাবে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দেয়া হল।
মাটিতে অবতরণের পর নমরুদের রক্ষীরা নিক্ষিপ্ত তীরগুলি কুড়িয়ে আনল। যেগুলো পাওয়া গেল তার সবগুলোই রক্তরঞ্জিত।নমরুদ রক্তমাখা তীরগুলি দেখে সফলতার আনন্দে আত্মহারা হয়ে ইব্রাহিমকে বললেন, "হে ইব্রাহিম! আমি তোমার খোদাকে হত্যা করেছি, তীরে লেগে থাকা রক্তই তার সাক্ষ্য বহন করে।"
এ সম্পর্কে বুক অব জাসের (book of Jasher) জানায়- "...they cast the arrows toward the heavens, and all the arrows fell upon them filled with blood, and when they saw them they said to each other, Surely we have slain all those that are in heaven. -(Jasher, 9:29) "..They thought that they killed God."-(Jasher, 9:30)
ইব্রাহিম(আ:) বললেন, "আমার স্রষ্টা চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী।"
নমরুদ বললেন, "ঠিক আছে, তিনি যদি মারা গিয়ে না থাকেন, তবে তাঁর সৈন্যদলকে একত্রিত করতে বল। আমিও আমার সৈন্যদল ময়দানে সমবেত করছি।"
ইব্রাহিম(আ:) বললেন, "আল্লাহকে ভয় করেন, তিনিই তো আপনাকে রাজ্য ও রাজত্ব দান করেছেন। আর তিনিই পরজগতের প্রতিফলদাতা।"
নমরুদ বললেন, "আমিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সুতরাং তোমার আল্লাহ বলে যদি কেউ থাকেন, তবে অবশ্যই তাকে আমার শক্তির মোকাবেলা করতে হবে।"
নমরুদ ষাট লক্ষ সেনা ময়দানে সমবেত করলেন। এদিকে প্রতিপক্ষের কোন দেখা নেই। নমরুদ ইব্রাহিম(আ:)কে ডেকে বললেন, "তোমার প্রতিপালকের সেনাদল কোথায়? তিনি নিশ্চয় আমার শক্তিবল দেখে ভীত হয়ে পশ্চাৎপসারণ করেছেন।"
ইব্রাহিম বললেন, "আমার রব ক্ষমতায় মহান, কোনরূপ ভীতি তাকে আচ্ছন্ন করতে পারে না, বরং তিনিই তা প্রদর্শণ করে থাকেন। একথা নিশ্চিত যে তার সেনাদল ময়দানে এসে পৌঁছিবেই-আর তা অতি অল্প সময়ের মধ্যেই।"
নমরুদ সেনাপতিদের বললেন, "যুদ্ধ পতাকা উড়িয়ে দাও, সতর্ক হও, নাকাড়া বাজাও।"
ষাট লক্ষ সেনার শোরগোলে ভূমি প্রকম্পিত হল। ফেরাউন পুনঃরায় ইব্রাহিম(আ:)কে বললেন, "কোথায় তোমার রবের সৈন্যদল?"
ইব্রাহিম(আ:) দূরে আকাশের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করলেন। দূরে কাল রঙের একটা মেঘ দেখা যাচ্ছে। যখন সেটা কাছে, মাথার উপর চলে এল, লক্ষ লক্ষ মশার গুণ গুণ কলতানে চারিদিক মুখরিত হল।
মশা! ক্ষুদ্র এ প্রাণীটি সন্ত্রাসী, বেপরোয়া। রক্তের নেশায় জীবনের ঝুকি নিয়ে তারা আক্রমণ করে মানুষ, পশুকে। আর এ মশা তো আল্লাহ প্রেরিত, যুদ্ধের নিমিত্ত। কিন্তু নমরুদ এদের ব্যক্তিত্বকে খাটো করে দেখলেন। অবজ্ঞার সূরে বললেন, "এ তো মশা! তুচ্ছ এক প্রাণী, তার উপর নিরস্ত্র। তোমার রবের কি অস্ত্র-ভান্ডার বা মালখানা নেই?"
এখানে বলে রাখা ভাল- অনেকের মতে এগুলো মশা ছিল না, ছিল মশার আকৃতির, আকারে আরও ক্ষুদ্র প্রাণী, মাংসাশী (carnivorous), Gnat.
ইব্রাহিম বললেন, "আমার রবের সেনাবাহিনী সম্পর্কে আপনার কোন ধারণাই নেই। আপনার এই সেনাবাহিনীর জন্যে তিনি এই তুচ্ছ, নিরস্ত্র মশাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। আর নিরস্ত্র হলেও এরা তাদের যুদ্ধ কৌশল জানে। এখন আপনি শুধু এই বাহিনীর মোকাবেলা করে আপনার শক্তি, সামর্থ্য ও মেধার পরিচয় দিন।"
এদিকে এই মশা বাহিনীর সঙ্গে কিরূপে যুদ্ধ করতে হবে তা ভেবে পাচ্ছিল না নমরুদের সেনারা। এত ক্ষুদ্র প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের পূর্ব কোন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বা ট্রেনিং- কোনটাই নেই। সুতরাং তারা হতভম্ভ হয়ে আদেশের অপেক্ষায় সাঁরিবদ্ধভাবে নিশ্চল দাঁড়িয়ে রইল। এই অবসরে প্রতিটি সৈন্যের মাথার উপর একটি করে মশা অবস্থান নিল। অতঃপর কেউ কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই তারা তাদের নাসিকা পথে মস্তিস্কে প্রবেশ করল।তারপর দংশন। সেনাবাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হল। হিতাহিত জ্ঞানশুণ্য হয়ে তীরন্দাজগণ উর্ধ্বে তীর নিক্ষেপ করতে লাগল। আর পদাতিক সেনারা নিজেদের চতুষ্পার্শ্বে অন্ধের মত তরবারী চালনা শুরু করল। এভাবে একে অপরকে নিজেদের অজান্তেই তারা আহত বা নিহত করে ফেলল।
নমরুদ পালিয়ে প্রাসাদে ফিরে আসছিলেন। এসময় একটি দূর্বল মশা তাকে তাড়া করল। সে কিছুক্ষণ তার শিরোস্ত্রাণের চতুষ্পার্শ্বে কয়েকবার প্রদক্ষিণ শেষে সুড়ুৎ করে তার নাসিকাপথে মস্তিস্কে ঢুকে পড়ল। তারপর ধীরে সুস্থ্যে মগজে দংশন শুরু করল। যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে পড়লেন নমরুদ। উন্মাদের ন্যায় প্রাসাদে প্রবেশ করলেন। একসময় দিশেহারা হয়ে পাদুকা খুলে নিজের মাথায় আঘাত করতে শুরু করলেন তিনি। এতে মশা দংশনে বিরত রইল। তিনি একটু আরাম বোধ করলেন। কিন্তু আঘাত বন্ধ করতেই মশা পুন:রায় দংশন শুরু করল। অবশেষে নমরুদ তার মাথায় মৃদু আঘাত করার জন্যে একজন সার্বক্ষণিক কর্মচারী নিযুক্ত করলেন।
এটা অদ্ভূত ছিল যে, পাদুকা ব্যতিত অন্যকিছুর আঘাতে মশা দংশনে বিরত থাকত না। এসময়ই ইব্রাহিম(আ:) তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, "হে নমরুদ! স্বীয় মস্তকে, স্বীয় পাদুকা দ্বারা আঘাতের জন্যে, স্বীয় অর্থেই গোলাম নিযুক্ত করে রাখা জঘণ্য। সুতরাং এখনও সময় আছে আল্লাহকে সর্বশক্তিমান ও অদ্বিতীয় বলে স্বীকার করে নিন। তাতে তিনি আপনার পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং আপনি এই কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি পাবেন।"
নমরুদ মনে করতেন খোদাকে স্বীকার করে নিলে তার ক্ষমতা ও প্রভাব বিলুপ্ত হবে। তাই তিনি উত্তর দিলেন, "হে ইব্রাহিম! আমি যাকে চিনি না, জানি না, তাকে কি প্রকারে সর্বশক্তিমান বলে স্বীকার করব?"
ইব্রাহিম(আ:) দেখলেন এই অবাধ্য মানব সন্তান সম্পূর্ণ সত্যপথ বিচ্যূত। তিনি হতাশ হয়ে ফিরে এলেন।
এদিকে নমরুদের সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মচারী অতিষ্ট হয়ে পড়েছিল। একমুহুর্ত অবসর নেই। সামান্য বিরতিতেই তিরস্কার। একসময় তার মনে এমন বিরক্তি ও ক্রোধের সৃষ্টি হল যে, সে তার হস্তস্থিত পাদুকা দ্বারা নমরুদের মাথায় সজোরে এক আঘাত হানল। ঐ আঘাতেই তার মৃত্যু হল।