Friday, January 23, 2015

<¤>"একটি জটিল মাস'আলা"<¤>

<¤>"একটি জটিল মাস'আলা"<¤>
<¤>"পড়ার অনুরোধ রইল"<¤>
ইমামে আযম আবু হানীফা রহঃ এর নিকট একদা তাঁর কতিপয় ছাত্র একটি জটিল মাসয়ালা নিয়ে আসল এবং বলল,,,
হুজুর একটি কুকুর ও একটি বকরি মেলামেশা করার কারণে একটি বাচ্চা প্রসব করল। যার মাথার অংশ কুকুরের মত আর পিছনের অংশ বকরির মত হয়েছে।
এমতবস্থায় এই পশুর বিধান কি?
ইমামে আযম আবূ হানিফা রহঃ বললেন,,,
তোমরা একটি বাটিতে গোশত ও আরেকটি বাটিতে ঘাস নিয়ে আস। এরপর ঐ পশুকে ছেড়ে দাও, সে যদি ঘাস খায় তাহলে মাথার অংশটা বাদ দিয়ে বাকি অংশ খাওয়া জায়েয। আর যদি গোশত খায় তাহলে সম্পূর্নটা খাওয়া না জায়েয।
ছাত্ররা বলল,, হুজুর পুশুটি যদি গোশত ও ঘাস দুটাই খায়, এমতবস্থায় এর বিধান কি?
ইমাম আবূ হানিফা রহঃ বললেন,,,
একটি বেত নিয়ে এসে পশুটিকে প্রহার কর। যদি পশুটি কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করে তাহলে তা খাওয়া না জায়েয। আর যদি বকরির মত চিৎকার করে তাহলে মাথার অংশটা বাদ দিয়ে বাকি অংশ খাওয়া জায়েয।
এখন কথা হলো ''মাযহাব'' মানতে যাদের সমস্যা বা যারা মাযহাব মানা লাগবে না বলেন, তাদের কাছে জানতে চাই,, উপরোক্ত মাসআলার সমাধান কোন জায়গা থেকে দিবেন?
সুতরাং সহজেই বলা যায় মুজতাহিদগণ ''ইজতেহাদ'' করে আমাদেরকে মাসআলার সমাধান দিয়ে গেছেন বলেই আমরা এতো সহজে ইসলামের রীতি- নীতি পালন করতে পারি.....

Wednesday, January 21, 2015

নবীজী গায়েবের সংবাদদাতা:

নবীজী গায়েবের সংবাদদাতা:
বুখারী শরীফের بَدْءِ الْخَلْقِ শীর্ষক আলোচনায় ও মিশকাত শরীফের দ্বিতীয় খণ্ডের بَدْءِ الْخَلْقِ وَذِكْرُ الْاَنْبِيَاءِ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত উমর (রাদিয়াআল্লাহু আনহু) থেকে বর্নিতঃ
قَامَ فِيْنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا فَاَخْبَرَنَا عَنْ بَدْءِ لْخَلْقِ حَتَّى دَخَلَ اَهْلُ الْجَنَّةِ مَنَازِ لَهُمْ وَ اَهْلُ النَّارِ مَنَازِ لَهُمْ حَفِظَ ذلِكَ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ
অর্থাৎঃ হুযুর আলাইহিস সালাম এক জায়গায় আমাদের সাথে অবস্থান করেছিলেন সেখানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে আদি সৃষ্টির সংবাদ দিচ্ছিলেন এমন কি বেহেশতবাসী ও দোযখবাসীগণ নিজ নিজ মনযিলে বা ঠিকানায় পোঁছে যাওয়া অবধি পরিব্যাপ্ত যাবতীয় অবস্থা ও ঘটনাবলীর বর্ণনা প্রদান করেন। যিনি ওসব স্মরন রাখতে পেরেছেন তিনি তো স্মরন রেখেছেন, আর যিনি স্মরণ রাখতে পারেননি তিনি ভুলে গেছেন।
এখানে হুযুর আলাইহিস সালাম দু’ধরনের ঘটনাবলীর খবর দিয়েছেনঃ
১) বিশ্ব সৃষ্টির সূচনা কিভাবে হলো এবং
২) এর সমাপ্তি কিভাবে হবে।
অর্থাৎ রোযে আযল (সৃষ্টির ঊষালগ্ন) থেকে কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক অণু-পরমাণুর পুঙ্খাণুপুঙ্খরূপে বর্ননা দিয়েছেন।
সুবাহানাল্লাহ।।।।।

Thursday, November 27, 2014

ইসলাম বনাম জঙ্গিবাদ

ইসলাম আর জঙ্গিবাদ পাশাপাশি চলতে পারে না। ইসলাম শান্তি প্রতিষ্ঠায় পরীক্ষিত উপায়। আর জঙ্গিবাদ হল ভয়াবহ সন্ত্রাস, চরম অশান্তির কারণ। ইসলামে জবরদস্তি এবং বাড়াবাড়ি কঠিনভাবে নিশিদ্দ অথচ জবরদস্তির অপর নামই জঙ্গিবাদ। বিশেষত এই উপমহাদেশে যারা ইসলামের শান্তির বাণী সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন সেই সব স্মরণীয়-বরণীয় সূফী-দরবেশ পীর-ফকিরদের ব্যক্তিগত জীবনাচার, এমনকি শাসন পদ্দতির কোথাও কোন জবরদস্তির আলামত খুজে পাওয়া যাবে না। কারণ তারা ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী এবং প্রচারকারী ছিলেন। খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর বিজয়ের পর হতে প্রায় সাতশো বছর মুসলিমদের হাতেই ভারত শাসিত হয়েছিল অথচ আজো সেই ভারত, দিল্লি - আজমির সবখানেই হিন্দুরা সংখ্যা গরিষ্ঠ আর মুসলিমরা সংখ্যালগু।স্পেনেও মুসলিমরা শাসন করেছে প্রায় সাতশো বছর। সেখানেও সংখ্যালগু থেকে গেছে মুসলিমরা আর সংখ্যাগুরু খ্রিস্টানরা। অর্থাৎ জবরদস্তি মুসলিম বানানোর কোন অনুশীলন যে কখনো ওখানে হয়নি, তাই ইতিহাস আজ পরিস্কার করে জানান দিচ্ছে এ বিশ্বাসীকে। এর পরও ইসলামের নামে জবরদস্তিকে বেছে নিয়েছে এবং সন্ত্রাসকে জেহাদ হিসেবে চালানোর চেষ্টা করছে কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী। অথচ ধর্মে কোন জবরদস্তি নেই। ( সূরা বাকারা, আয়াত-২৫৬ )

বলা হয়েছে সুতারাং যার ঈমান গ্রহন করুক এবং যার ইচ্ছা কুফরি করুক ( সূরা কাহাফ-২৯ ) 

আরও বলা হয়েছে, মুশরিকদের মদ্য কেউ তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করলে তুমি তাকে আশ্রয় দাও,
যাতে সে আল্লাহর বাণী শুনতে পায়। অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছিয়ে দাও। কারণ তারা অজ্ঞ সম্প্রদায়। ( সূরা তওবা- ৬ )
স্বয়ং আল্লাহ পাকের উক্ত কয়েকটি ঘোষণা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলাম প্রতিপক্ষের ব্যপারে কতটুকু উদার এবং উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারকারী আল্লাহর অলি মূলত সে আদর্শেরই অনুসারী এবং প্রতিষ্ঠাকারী ছিলেন। পক্ষান্তরে এসব জঙ্গি কখনো কখনো আত্নঘাতি বোমা হামলার মাদ্যমে শত শত মানুষকে প্রাণ সংহার করে ভয়াবহ আতংকের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। এবং নিজেদের গাজী, শহীদ মনে করছে। অথচ ইসলামের বক্তব্য একদম পরিষ্কার, আর তা হল আত্নহত্যা মহাপাপ। যেখানে কেউ নিজেকে  হত্যার অধিকার সংরক্ষণ করেনা, সেখানে অপরকে হত্যার অধিকার প্রশ্নই ওঠেনা।বরং কোন নিরহ মানুষের হত্যাকে সমগ্র মানব জাতির হত্যার সাথে তুলনা করা হয়েছে কোরআন করিমের সূরা মায়েদা ৩২ নম্বর আয়াতে। 

Monday, November 3, 2014

নাম ধারী মুসলিম

নামদারী মুসলমান যারা তারা ইসলাম কে অনেক
ক্ষতি করতে চেয়েছিল। সেজন্য তারা রাসূলে পাক (দঃ) প্রান-
প্রিয় সাহাবায় কেরাম, আওলাদে রাসূল ইমাম হাসান ও
হোসাইন (রাঃ) শহীদ করছেন।
হযরতে ওমর ফারুক (রাঃ) কে শহীদ করেছে কারা। কোন
বিধর্মীরা তাকে শহীদ করে নাই। তাকে শহীদ
করেছে নামদারী মুনাফিক মুসলমানরা।
হযরতে ওসমান (রাঃ) কে শহীদ করেছেন এই নামদারী মুনাফেক
মুসলমানরা।ওসমান (রাঃ) বাড়ীর সামনে এই মুনাফিক
মুসলমানরা ৪০দিন আযান দিয়ে জামাত সহকারে নামায আদায়
করছে।
এরপর এই মুনাফেক মুসলমান অাব্দুর রহমান ইবনে মুলজিম
মাওলায়ে আলী (রাঃ) কে শহীদ করেছেন। এই আব্দুর রহমান
ইবনে মুলজিম এর আমল দেখে সাহাবায় কেরাম লজ্জা পেত,
তার চেহারায় দিয়ে নুর জ্বলকাতো,
সে ঘুমাইলে জিহ্বা জিকির করতো। এই খবিস মুলজিম
বলে আলীর চাইতে বড় কাফের আর কেউ না। (নাউজুবিল্লাহ)।
কাফির মুলজিম আরো বলে রাসূলুল্লাহর চাইতে জিব্রাইলের
মর্যাদা অনেক বেশি।(নাউজুবিল্লাহ)
এবার আসেন হযরতে ইমাম হোসাইন (রাঃ) কে শহীদ করেছেন
যারা তারা হলো এই নামদারী মুনাফেক মুসলমান এজিদ ।
তারা জুম্মার নামায আযান দিয়ে পড়েছেন। এবং হযরত
হোসাইন (রাঃ) কে শহীদ করার পর নিঃস্বপ্রান হযরত
হোসাইন (রাঃ) পাশে রেখে আযান দিয়ে আছরের নামায আদায়
করেন।
ইমাম হোসাইন (রাঃ) দেহ
মোবারকে ঘোড়া চালিয়ে দিয়ে দেহ মোবারকটা ক্ষত বিক্ষত
করে ফেলে। তারপর ও তাদের চোক্ষ
দিয়ে কারো পানি আসলো না।।
এরপর আরো আসেন এই নামদারী মুসলমানরা খোদার ঘর
কাবা শরীফ বায়তুল্লাহ ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিল।
বায়তুল্লাহর কাবা ঘরের পাথর ২২টুকরা হয়ে গেল আগুনের
তাপে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রাঃ) বের হলে তাকে তীর
দিয়ে তাকে শহীদ করা হলো।
তার মা হযরত আয়েশা (রাঃ) বোন কে ডাক
দিয়ে দেখানো হলো তোমার ছেলে কেমন অাছে দেখ।
জুবাইর (রাঃ) এর মা বললেন আমার ছেলে আগের তুলোনায়
এখন ভালো আছে।
ছেলে আমার শহীদ হবে এটাই আমি চেয়েছিলাম।আল্লাহ
তাকে ইমাম হোসাইন (রাঃ) রাস্তাই নিয়ে গেছেন।
তারপর আসেন নামদারী মুসলমানরা পৃথিবীর শ্রেষ্ট মসজিদ
মসজিদে নববীতে সাতদিন পর্যন্ত তারা গাধা,
ঘোড়া বেধে রাখলো। গাধা, ঘোড়া প্রেশাব,
পায়খানা করলো। আযান একামত বন্ধ করে দিল। এইকাজ
কিন্তু বিধর্মীরা করে নাই। এই কাজ করেছেন
নামদারী মুসলমানরা।
যার অন্তরে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু
অালাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেম না তারা মুসলমান
হতে পারে না। যার অন্তরে রাসূলে পাক (দঃ) প্রেম আর
আওলাদে রাসূলের প্রেম থাকবে তারা হলো ইমানদার।
খালী নামায, রোজা, হজ্ব করলে জুব্বা,টুপি পড়লে মুসলমান
হওয়া যায় না। মুসলমান প্রথম শর্ত হলো ঈমান গ্রহন
করা। ঈমান না থাকলে নামায, রোজা, হজ্ব ও যাকাত
করলে কোন লাভ হবে না।
ইমান হলো মূল আর আমল হলো শাখা-প্রশাখা।
আসুন আমরা এয়াজিদ নামদারী কাফের মুসলমানদের
থেকে দুরে থাকি। আর ইমাম হোসাইন (রাঃ) পতাকার
নিচে থাকি।
ইমাম হোসাইন (রাঃ) গোলামী হয়ে মরতে পারি। আল্লাহ
পাকের দরবারে এই আরজি করি।

Wednesday, October 22, 2014

মাজার আছে অ্যান্ড থাকবে

✒ মাজার নাই ফেরাউনের,
✒ মাজার নাই নমরুদের,
✒ মাজার নাই আবু লাহাবের,
✒ মাজার নাই আবু জাহেলের,
✒ মাজার নেই ইয়াজিদের,
✒ মাজার নাই ইবনে ওহাবের,
✒ মাজার নাই মওদুদীর....
✒ মাজার হবেনা জাকির নায়কের,

→→→→→কিন্তু ↓↓↓↓↓↓↓↓↓↓↓
☞ পৃথিবীতে যত নবী রাসুলের সন্ধান আছে, সবার মাজার আছে,
☞ খোলফায়ে রাশেদিনের মাজার আছে,
☞ মাজহাবের ইমাম গনের মাজার আছে,
☞ জামানার মোজ্জাদেদের মাজার আছে।
☞ হাদিসের ইমাম দের মাজার আছে,
☞ তাফসীরের ইমাম দের মাজার আছে,
☞ তরিকতের ইমাম দের মাজার আছে,
☞ যারা ভারতবর্ষে ইসলাম এনেছেন তাদের মাজার আছে,
☞ যারা ভারতবর্ষে কোরান-হাদিস এনেছেন উনাদেরও মাজার আছে,
☞ সুতরাং যারা মাজারের পক্ষে ও তাজিমকারি তারাই সঠিক পথে রয়েছেন, এতে কোন সন্দেহ নাই।।
(( এবার বুঝে নিন, কার সাথে কার মিল))

Friday, September 19, 2014

আজকের এই জুমার দিনে শাহাদাত বরণ করেন “হযরত উসমান জুননুরাইন (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু)’’ তার শাহাদাতের ঘটনা......


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) বর্ণনা করেন যে,
যখন আমীরুল মু’মিনীন হযরত উসমান গনী (রাদিয়াল্লাহু
তা’আলা আনহু)’এর বাসগৃহ তাঁর দুশমনেরা ঘেরাও করলো,

তখন আমি তাঁকে সালাম আরজ করার জন্যে হাজির হলাম,
তিনি আমাকে দেখে বললেন, ভাই ভাল করেছো যে এসেছ,

আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর সাক্ষাৎ লাভ করেছি, তিনি এরশাদ করেছেন,“উসমান তোমাকে এরা ঘেরাও
করে রেখেছে।"
আমি আরজ করলাম,জি হ্যাঁ। এরপর তিনি আমাকে একটু
পানি দিলেন যা আমি পান করলাম। সেই সুশীতল পানির অনুভূতি আমি এখনও আমার বক্ষে উপলব্ধি করছি।

এরপর হুজুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ
করলেন,“যদি তুমি চাও দুশমনদের মোকাবেলায়
তোমাকে সাহায্য করা যেতে আর যদি চাও আমার নিকট
এসে ইফতার করবে। তখন আমি আরজ করলাম,"আপনার
খিদমতে হাযির হতে চাই।"

আর সেদিনই হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু
তা’আলা আনহূ) কে শহীদ করা হয়। এ ঘটনা সংঘটিত হয় ৩৫
হিজরিতে।

অন্য একটি বর্ণনা রয়েছে যে, এ স্বপ্ন দেখার পর হযরত উসমান
(রাঃ) জাগ্রত হয়ে তাঁর সম্মানিত স্ত্রীকে বললেন,“আমার
শাহাদাতের সময় এসে গেছে, এখনিই বিদ্রোহী দল
আমাকে শহীদ করে ফেলবে।"
তখন অত্যন্ত ব্যথিত কণ্ঠে তাঁর স্ত্রী বললেন, “আমীরুল
মু’মিনীন এমন হতে পারেনা!"

হযরত উসমান গনী (রাঃ) সেই পায়জামাটি পরিধান করলেন
যা ইতিপূর্বে পরিধান করেননি। এরপর বিশটি গোলাম আজাদ
করেন এবং কোরআন শরীফ তেলাওয়াতে মশগুল হন। এরই
মধ্যে বিদ্রোহীরা দেয়াল টপকিয়ে বাসভবনের
অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। কোরআনে কারীম তাঁর সম্মুখে উন্মুক্ত
ছিল, তারা তাঁকে শহীদ করলো, তাঁর রক্তে পবিত্র কোরআন রঞ্জিত হল।
যে আয়াতখানি উপরে রক্ত জমেছিল তা হলোঃ
“অতএব, তাদের জন্যে তোমাদের পক্ষ থেকে আল্লাহ্ পাকই
যথেষ্ট,তিনি সর্বস্রোতা, সর্বজ্ঞাত।”

জু’মার দিন আসরের নামাজের সময় তিনি শাহাদাত বরণ করেন,
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।

(শরহুস সুদূর- ইমাম জালালুদ্দিন
সুয়ুতি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি,ফতহুশ শাম)


Tuesday, September 16, 2014

ইমাম সাদিক (আ.)’র অলৌকিক কিছু ঘটনা

মদীনায় জান্নাতুল বাকিতে ওয়াহাবিদের হাতে ধ্বংস হওয়ার আগে ইমাম সাদিক (আ.)সহ বিশ্বনবী (সা.)’র পবিত্র আহলে বাইতের চার সদস্যের মাজার (ডানে) এবং বাঁয়ে
১৪৮ হিজরির ২৫ শাওয়াল ইসলামের ইতিহাসে এক গভীর শোকাবহ দিন। কারণ, অাজ হতে ১২৮৬ চন্দ্রবছর আগে এই দিনে শাহাদত বরণ করেন মুসলিম বিশ্বের প্রাণপ্রিয় প্রবাদপুরুষ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ জাফর আস সাদিক (আ.)। ইসলাম ও এর প্রকৃত শিক্ষা তাঁর কাছে চিরঋণী।
ইসলামের ফেক্বাহ শাস্ত্র বা ইসলামী আইনসহ এই মহান ধর্মের নানা দিক বিকশিত হয়েছিল মহান ইমাম হযরত ইমাম জাফর আস সাদিক (আ.)’র মাধ্যমে। তাঁর হাজার হাজার উচ্চ-শিক্ষিত ছাত্রের মধ্যে অনেক উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও খ্যাতনামা বিজ্ঞানীও ছিলেন। রসায়ন বিজ্ঞানের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান ছিল তাঁর ছাত্র।
ইমাম আবু হানিফাসহ সুন্নি মাজহাবের কয়েকজন বড় ইমামও ছিলেন এই নিষ্পাপ ইমামের ছাত্র।
ইসলামের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ও এ ধর্মকে সাংস্কৃতিক বা চিন্তাগত হামলাসহ সার্বিক ক্ষতিকর দিক থেকে সুরক্ষার জন্য যা যা করার দরকার তার সবই তিনি করেছিলেন। তিনি ৮৩ হিজরির ১৭ ই রবিউল আউয়াল মদীনায় ভূমিষ্ঠ হন। ৩৪ বছর ধরে মুসলিম জাহানের নেতৃত্ব দেয়ার পর ১৪৮ হিজরির ২৫ শে শাওয়াল শাহাদত বরণ করেন। আব্বাসিয় শাসক মানসুর দাওয়ানিকি বিষ প্রয়োগ করে এই মহান ইমামকে শহীদ করে।
ইমাম জাফর আস সাদিক (আ.)’র অনেক অলৌকিক ক্ষমতা বা মু’জেজার ঘটনা রয়েছে। সেইসবের মধ্য থেকে আমরা অদৃশ্যের জ্ঞান সম্পর্কিত তাঁর কিছু ঘটনাসহ আরও ক’টি ঘটনা তুলে ধরছি:
এক. ইমাম জয়নুল আবিদিন (আ.)’র পুত্র হযরত জাইদ (আ.) জালিম উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন এবং বীরের মত যুদ্ধ করে শহীদ হন। পরবর্তীকালে তার বড় ছেলে ইয়াহিয়া (আ.)ও ইরানিদের একটি দলকে সংঘবদ্ধ করে বিদ্রোহ করে একইভাবে শহীদ হন। তার লাশও বাবার মতই শহরের দরজায় ঝোলানো ছিল। কয়েক বছর পর আবু মুসলিমের নেতৃত্বে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে সফল গণ-বিদ্রোহের সুবাদে উমাইয়া শাসকদের পতন ঘটলে আবু মুসলিম ইয়াহিয়ার লাশ নামিয়ে এনে সসম্মানে দাফন করেন।
(জাইদ (আ.)’র কিয়ামের উদ্দেশ্য ছিল জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ও বিদ্রোহে সফল হলে ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-কে মুসলমানদের খলিফার পদে আসীন করা।)
বিদ্রোহের আগে ইয়াহিয়া (আ.) যখন খোরাসানের দিকে যাচ্ছিলেন তখন মুতাওয়াক্কিল বিন হারুন নামে ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-‘র এক ভক্তের সঙ্গে তার দেখা হয়। মুতাওয়াক্কিল হজ করে মদীনায় ইমামের সঙ্গে দেখা করে ফিরে আসছিলেন। ইয়াহিয়া নিজ চাচা তথা ইমামের ও নিজের বাড়ীর লোকদের কুশলাদি জানতে চাইলে মুতাওয়াক্কিল যা যা জানত তা তাকে জানান। এক পর্যায়ে ইয়াহিয়া বলেন: আমার চাচা তথা ইমাম জাফর সাদিক (আ.) আমার বাবার (জাইদ-আ.’র) পরিণতি কি হবে তা জানতেন। এক পর্যায়ে ইয়াহিয়া বললেন: আমার চাচা আমার সম্পর্কে তোমাকে কি কিছু বলেছেন? মুতাওয়াক্কিল বলেন, বলেছেন কিছু অপছন্দনীয় কথা, তাই তোমাকে বলতে চাই না।
&lt;a href='http://ritsllc.com/ads/server/adserve/www/delivery/ck.php?n=a1a091d0&amp;amp;cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE' target='_blank'&gt;&lt;img src='http://ritsllc.com/ads/server/adserve/www/delivery/avw.php?zoneid=354&amp;amp;cb=INSERT_RANDOM_NUMBER_HERE&amp;amp;n=a1a091d0' border='0' alt=''/&gt;&lt;/a&gt;
ইয়াহিয়া বললেন: তুমি কি আমাকে মৃত্যুর ভয় দেখাচ্ছ? যা কিছু শুনেছ বল।
মুতাওয়াক্কিল বললেন: তুমিও নিহত হবে তোমার বাবার মতই এবং শহরের সদর দরজায় ঝোলানো হবে তোমার লাশ।
ইয়াহিয়া তা শুনে ‘সহিফায়ে সাজ্জাদিয়া’র (ইমাম জয়নুল আবেদিন-আ’র দোয়া ও মুনাজাতের বই) একটি পাতা আমানত হিসেবে মদীনায় নিজ আত্মীয়-স্বজনের কাছে পৌঁছে দিতে মুতাওয়াক্কিলকে অনুরোধ জানান। এরপর বলেন: আমার চাচা আমার নিহত হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করায় এটা তোমাকে দিলাম, নইলে কখনও তা দিতাম না… কিন্তু আমি জানি, তিনি যা বলেছেন তা সত্য। কারণ, এই আধ্যাত্মিকতা তিনি তাঁর বাবার (ইমাম বাকির-আ.) কাছ থেকে পেয়েছেন।
কিছু দিন পর ইয়াহিয়ার ব্যাপারে ইমাম যা যা বলেছিলেন তার সবই ঘটেছিল।
দুই. সাফওয়ান বিন ইয়াহিয়া বলেন: জাফার বিন মুহাম্মাদ বিন আশআস বলেছেন, একদিন আব্বাসীয় শাসক মানসুর দাওয়ানাকি ইমাম জাফর আস সাদিক (আ.)-কে জব্দ করার জন্য আমার বাবার মামাকে কিছু টাকা দিয়ে বলে: মদীনায় গিয়ে আবদুল্লাহ বিন হাসান বিন হাসানের (ইমাম হাসান-আ.’র বংশধর) সঙ্গে ও তার আত্মীয়দের সঙ্গে বিশেষ করে, ইমাম জাফর আস সাদিক (আ.)’র সঙ্গে সাক্ষাত করবে। তাদেরকে বলবে যে তুমি খোরাসান থেকে এসেছ। খোরাসানে তাঁদের (নবী বংশ তথা ইমাম পরিবারের) অনুসারীরা হাদিয়া হিসেবে তাঁদের জন্য টাকা পাঠিয়েছে। আমি রিসিপ্ট বা রসিদ নিয়ে টাকা বুঝিয়ে দিতে চাই যাতে সেই রসিদ তাদেরকে দেখাতে পারি।
আমার বাবার মামা এই মিশন নিয়ে মদীনা গেলেন এবং ইমাম ও নবী-পরিবারের উক্ত সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে মানসুরের কাছে ফিরে আসেন। মানসুর জিজ্ঞেস করে: কি করলে?
তিনি (আমার বাবার মামা) বললেন: ”তাদের সবার সঙ্গে দেখা করেছি ও টাকাও দিয়েছি, তবে শুধু জাফর আস সাদিক (আ.) ছাড়া সবার কাছ থেকে রসিদও নিয়েছি। ইমামের কাছে যখন গিয়েছিলাম তিনি তখন মসজিদে নববীতে নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি তাঁর পেছনে বসেছিলাম। জাফর আস সাদিক (আ.) নামাজ শেষে আমার দিকে ফিরে বলেছেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং নবীর (দরুদ) আহলে বাইতকে ধোঁকা দিও না। আর মানসুরকে বলবে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে ও নবী-পরিবারকে ধোঁকা না দেয়।