Friday, April 10, 2015

ক্বাছীদায়ে নু'মান :


ক্বাছীদায়ে নু'মান :

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহাম শান মুবারকে রচিত একটি মহা মূল্যবান কিতাব হচ্ছে "ক্বাছীদায়ে নু'মান"।

এ সুমহান কিতাব খানা রচনা করেছেন বিশ্ব বিখ্যাত ইমাম, ইমামুল আইম্মাহ, ইমামে আযম,ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

এ সুমহান কাব্যগ্রন্থে প্রতিটা পংক্তিতে তিনি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-সিফাত করেছেন, এবং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার অনেক আক্বীদা শরীফ গুলো এ মহান কিতাবে বর্ননা করেছেন।
এ কিতাবে মোট ৫৩ টি পংক্তি রয়েছে । ইতিপূর্বে ধারাবাহিকভাবে ১০ টি পোস্ট করেছিলাম। এখন আপনাদের খেদমতে সবগুলো পংক্তি একত্রে পোস্ট করা হলো-

ﻳﺎﺳﻴﺪ ﺍﻟﺴﺎﺩﺍﺕ ﺝﺀﺗﻚ ﻗﺼﺪﺍ
ﺍﺭﺟﻮ ﺭﺿﺎﻙ ﻭﺍﺣﺘﻤﻲ ﺑﺤﻤﺎﻙ

অর্থ: হে মহান সাইয়্যিদ ! আপনার মহান সন্তুষ্টি ও আশ্রয় লাভের উদ্দেশ্যে আমি আপনার নিকটে এসেছি। "

ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺧﻴﺮﺍ ﺍﺧﻼﺀﻕ ﺍﻥ ﻟﻲ
ﻗﻠﺒﺎ ﻣﺸﻮﻗﺎ ﻻ ﻳﺮﻭﻡ ﺳﻮﺍﻙ

অর্থ: হে সৃষ্টির সর্বোত্তম ! আল্লাহ পাক উনার কসম করে বলছি আমার এই আশেক হৃদয় শুধু আপনাকেই চায়, আর কাউকে নয়।"

ﻭﺑﺤﻖ ﺟﺎﻫﻚ ﺍﻧﺒﻲ ﺑﻚ ﻣﻐﺮﻡ
ﻭﺍﺍﻟﻠﻪ ﻳﻌﻠﻢ ﺍﻧﻨﻲ ﺍﻫﻮﺍﻙ

অর্থ: আল্লাহ পাক উনার মহিমার কসম ! আমি শুধ আপনারই অনুরাগী। আল্লাহ পাক জানেন, আমি শুধু আপনাকে চাই।"

ﺍﻧﺖ ﺍﻟﺬﻱ ﻟﻮﻻﻙ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻣﺮﺀ
ﻛﻼﻭ ﻻ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻮﺭﻱ ﻟﻮﻻﻙ

অর্থ : আপনি না হলে কোন কিছু সৃষ্টি করা হতো না। আপনি না হলে কিছুতেই কায়িনাত সৃষ্টি হতোনা।"

ﺍﻧﺖ ﺍﻟﺬﻱ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻙ ﺍﻟﺒﺪﺭ ﺍﻛﺘﺴﻲ
ﻭﺍﻟﺸﻤﺲ ﻣﺸﺮﻗﺔ ﺑﻨﻮﺭ ﺑﻬﺎﻙ

অর্থ : আপনার নূর মুবারকের পোশাক পরে চন্দ্র আলোকিত হয়েছে ।
আপনারই নূর মুবারকের আভায়
সূর্য জ্যোতির্ময় হয়েছে।

انت الذي لما رفعت الي السماء
بك قد سمت وتزينت لسراك

অর্থ: আপনাকে (হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উর্ধাকাশে ভ্রমন করানোর জন্যেই আকাশ সুউচ্চ এবং শুশোভিত হয়েছে।"

انت الذي ناداك ربك مرحبا
ولقد دعاك لقربه وحباك

অর্থ: আপনাকে আপনার মহান রব (মীরাজ শরীফে) সাদর সম্ভাষণ জানিয়েছেন। তিনি আপনাকে একান্তে নিজের কাছে ডেকে নিয়ে নৈকট্য দান করেছেন।

انت الذي فينا سالت شفاعة
لباك ربك لم تكن لسواك

অর্থ: আপনি যখন আমাদের জন্য শাফায়াত চাইলেন, আপনার রব সেটা মঞ্জুর করলেন। এ মর্যাদা আপনি ছাড়া আর কেউ অর্জন করতে পারে নাই।

انت الذي لما توسل ادم
من زلة بك فاز وهو اباك

অর্থ: আপনার সুমহান উসীলায় হযরত আদম আলাইহিস সালাম দুয়ার অনুমতি লাভ করলেন,অথচ তিনি আপনার আদি পিতা।

وبك الخليل دعا فصارت نره
بردا وقد خمدت بنور سناك

অর্থ: আপনারই সুমহান উসীলা দিয়ে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম দোয়া করলেন, ততক্ষনাৎ সে আগুন ঠান্ড হয়ে গেল।"

ﻭﺩﻋﺎﻙ ﺍﻳﻮﺏ ﻟﻀﺮ ﻣﺴﻪ
ﻓﺎﺯﻳﻞ ﻋﻨﻪ ﺍﻟﻀﺮ ﺣﻴﻦ ﺩﻋﺎﻙ

অর্থ: হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ প্রয়োজনের সময় (রোগে আক্রান্ত) আপনাকে ডাকলেন। তৎক্ষণাৎ উনার সে প্রয়োজন পুরা হয়ে গেল (সুস্থ
হয়ে গেলেন)।

ﻭﺑﻚ ﺍﻟﻤﺴﻴﺢ ﺍﺗﻲ ﺑﺸﻴﺮﺍ ﻧﺤﺒﺮﺍ
ﺑﺼﻔﺎﺕ ﺣﺴﻨﻚ ﻣﺎﺩﺣﺎ ﺑﻌﻼﻙ

অর্থ: হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আপনার সুমহান আগমনের সুসংবাদ নিয়ে এসেছিলেন। তিনি আপনার সৌন্দর্য এবং সুউচ্চ মর্যাদার
প্রসংসা করেছেন।

ﻭﻛﺬﺍﻙ ﻣﻮﺳﻲ ﻟﻢ ﻳﺰﻝ ﻣﺘﻮﺳﻼ
ﺑﻚ ﻓﻲ ﺍﺍﻗﻴﺎﻣﺔ ﻳﺤﺘﻤﻲ ﺑﺤﻤﺎﻙ

অর্থ: হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এই দুনিয়াতে আপনারই
উসীলা নিয়েছেন। আবার হাশরের দিনও আপনার আশ্রয় চাইবেন।

ﻭﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﻭﻛﻞ ﺧﻠﻖ ﻓﻲ ﺍﻟﻮﺭﻱ
ﻭﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﻭ ﻻﻣﻼﻙ ﺗﺤﺖ ﻟﻮﺍﻙ

অর্থ: সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, রাজা বাদশা এবং সমস্ত সৃষ্টি জগৎ আপনারই ঝান্ডাতলে আশ্রয় চাইবে

لك معجزات اعجزت كل الوري
وفضاءل جلت فليس تحاك

অর্থ: আপনার অনেক বিস্ময়কর মুজিজা শরীফ আছে। আরো আছে অগনিত সুমহান গুনাবলি, যা বর্ননা করে শেষ করা যাবে না।"

نطق الذراع بسمه لك معلنا
والضب قد لباك حين اتاك

অর্থ: বিষধর প্রানী নত মস্তকে আপনার সাথে কথা বলেছে। গুইসাপও আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হয়েছে ।

والذءب جاءك و الغزالة قد اتت
بك تستجير و تحتمي بحماك

অর্থ: জঙ্গলের নেকড়ে বাঘ এবং হরিনী আপনার নিকট আশ্রয় এবং নিরাপত্তা লাভের জন্য এসেছে।

وكذ الو حوش اتت اليك وسلمت
وشكا البعير اليك حين راك

অর্থ: বন্যপশুরা আপনার কাছে এসে সালাম দিয়েছে। আর উট আপনাকে দেখে নিজের কষ্টের কথা ব্যক্ত করেছে।

ودعوت اشجارا اتتك مطيعة
وسعت اليك مجيبة لنداك

অর্থ: আপনি গাছকে ডাক দিয়েছেন, আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে গাছ অনুগত হয়ে আপনার পানে ছুটে এসেছে।

والماء فاض براحتيك وسبحت
صم الحصي بالفضل في يمناك

অর্থ: আপনার পবিত্র হাত মুবারক থেকে পানির ফোয়ারা প্রবাহিত হয়েছে, আর আপনার ডান হাতে নির্বাক পাথরও তাসবীহ পাঠ করেছে।

وعليك ظللت الغمامة في الوري
والجذع حن الي كريم لقاك

অর্থ: মেঘ আপনার মাথা মুবারকের উপর ছায়া দিয়েছে। আপনার সাক্ষাৎ লাভের আশায় শুষ্ক খেজুর গাছের কান্ড ঢুকরে কেঁদেছিলো।

وكذاك لا اثرلمشيك في الثري
والصخر قد غاصت به قدمك

অর্থ: নরম মাটিতে আপনার চলার চিহৃ পরে নাই, আবার কঠিন পাথরে আপনার কদম মুবারকের ছাপ বসে গিয়েছে।

وشفيت ذالعاهات من امراضه
وملات كل الارض من جدواك

অর্থ: আপনি রোগীকে রোগ ব্যাধি হতে আরোগ্য দান করেছেন, এবং সমগ্র পৃথিবী তথা ক্বায়িনাতকে আপনার অনুগ্রহ দ্বারা পরিপূর্ণ করেছেন।

ورددت عين قتادة بعد العمي
وابن الحصين شفيته بشفااك

অর্থ: অন্ধ হয়ে যাওয়া হযরত ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন, আর অসুস্থ হযরত ইবনে হাসীন রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাকে সুস্থ করে দিয়েছেন।

وكذا خبيبا وابن عفرا بعدما
جر حا شفيتهما بلمس يداك

অর্থ: হযরত খুবাইব এবং হযরত ইবনে আফরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনাদের আপনার দুই হাত মুবারকের স্পর্শে সুস্থ করে দিয়েছেন ।"

وعلي من رمد اذ داويته
في خيبر فشفي بطيب لماكا

অর্থ: খয়বারে আপনার ঠোঁট মুবারকের সুগন্ধি মুবারক দ্বারা হযরত আলী আলাইহিস সালাম ওয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার চোখ মুমারকের অসুস্থতা সারিয়ে দিয়েছেন।

وسالت ربك في ابن جابر بعد ما
ان مات فاحياه و قد ارضاك

অর্থ: আপনার দোয়ায় হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার শহীদ হয়ে যাওয়া দুই সন্তানকে জীবিত করে আল্লাহ পাক আপনাকে সন্তুষ্ট করেছিলেন।

شاة مست لام معبد التي
نشفت فدرت من شفا رقياك

অর্থ: হযরত উম্মে মা'বাদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহা উনার দুধ শুকিয়ে যাওয়া বকরী আপনার হাত মুবারকের স্পর্শে আবারো দুগ্ধবতী হয়েছিল।

ودعوت عام القحط ربك معلنا
فانهل قطر السحب حين دعاك

অর্থ: অনাবৃষ্টি এবং দুর্ভিক্ষের বছর আপনি দোয়া করেছিলেন, সাথে সাথে মুশুলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল।

ودعوت كل الخلق فانقادوا الي
دعواك طوعا سامعين نداك

অর্থ: সমগ্র সৃষ্টি জগৎকে আপনি সত্যের দাওয়াত দিলেন, সবাই স্বেচ্ছায় আপনার দাওয়াত মুবারকে সাড়া দিয়েছিল।"

وخفضت دين الكفر يا علم الهدي
ورفعت دينك فاستقام هداك

অর্থ: হে সমগ্র ক্বায়িনাতের হেদায়েত ! আপনি কুফরের দ্বীনকে অবনত করে নিজের পবিত্র দ্বীন মুবারককে উন্নত করেছেন। তাই আপনার পথ সুদৃঢ় হয়েছে ।

اعداك عادوا افي القليب بجهلهم
صر عي وقدحرموا الرضي بجفاك

অর্থ: আপনার প্রতি শত্রুতা তাদের অজ্ঞতা নিয়ে অন্ধ কুপেই পড়ে রয়েছে। আপনার সাথে শত্রুতার কারনে তারা আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে ।

في يوم بدر قد اتتك ملاءك
من عند ربك قاتلت اعداك

অর্থ: বদরের জিহাদে আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ফিরিশতাগন এসে আপনার শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন।

والفتح جاءك يوم فتحك مكة
والنصر في الاحزاب قد وافاك

অর্থ: মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন আপনার চুড়ান্ত বিজয় প্রকাশ হয়েছিল। আহযাব বা খন্দকের জিহাদে আল্লাহ পাক উনার সাহায্য আপনার সাথেই ছিল।

هود و يونس من بهاك تجملا
وجمال يوسفا من ضياء سناك

অর্থ: হযরত হুদ আলাইহিস সালাম হুদ আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইউনূছ আলাইহিস সালাম আপনার সৌন্দর্যচ্ছটায় ভূষিত ছিলেন। হযরত ইউসূফ আলাইহিস সালাম উনার সৌন্দর্য আপনার মুবারক নূরের ঝলক থেকেই উৎসারিত।"

فقد فقت ياطه جميع الانبياء
طرا فسحان الذي اسراك

অর্থ: ইয়া ত্বোয়াহা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আপনার স্থান সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের উর্ধে। সকল প্রসংসা সেই আল্লাহ পাক উনার যিনি রাতের কিছু সময় আপনাকে নিজের কাছে সফর করিয়েছিলেন।

والله يا يسين مثلك لم يكن
في العالمين و حق من انباك

অর্থ: ইয়া ইয়াসীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আল্লাহ পাক উনার কসম , সমগ্র সৃষ্টিকুলে আপনার মত কোন মেছাল নাই।

عن وصفك الشعراء يامدثر
عجزوا وكلوا من صفات علاك

অর্থ: ইয়া মুদ্দাসির ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আপনার সুমহান শান মুবারক কবিগন বর্ননা করতে অক্ষম। আপনার মর্যাদা তুলে ধরতে তার অপারগ।

انجيل عيسي قد اتي بك مخبرا
ولنا الكتاب اتي بمدح حلاك

অর্থ: হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম পবিত্র ইঞ্জিল শরীফে আপনার সুসংবাদ দিয়েছেন। কুরআন শরীফেও আপনার প্রশংসা বিদ্যমান।

ماذا يقول الماد حون وما حسي
ان تجمع الكتاب من معناك

অর্থ: প্রশংসাকারীগন আপনার কি প্রসংসা করবে? লেখকগনই বা আপনার ছানা সিফত কতটুকু লিখতে পারবে ?"

والله لو ان البحار مدادهم
والشعب اقلام جعلن لذاك

অর্থ: আল্লাহ পাক উনার কসম! সকল সমুদ্রকে যদি কালিতে পরিনত হয়, আর সকল গাছগুলোর ডাল যদি কলম বানানো হয়।

لم يقدر الثقلان يجمع قدره
ابدا وما استطاعوا له ادراك

অর্থ: তরপরও জ্বিন-ইনসান আপনার শান লিখে শেষ করতে পারবে না। উনার হাক্বীকী মর্যাদার সঠিক উপলব্ধি তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

بك لي قليب مغرم ياسيدي
وحشاشة محشوة بهواك

অর্থ: হে আমার সাইয়্যিদ ! আমার হৃদয় আপনারই ইশকে আসক্ত। আমার প্রান শুধু আপনারই ভালোবাসায় পরিপূর্ণ ।

فاذا سكت ففيك صمتي كله
واذا نطقت فماد حا علياك

অর্থ: আমি যখন চুপ থাকি তখন আপনারই চিন্তা করি, আবার যখন কথা বলি তখন আপনারই প্রসংসা করি।

واذا سمعت فعنك قولا طيبا
واذا نظرت فما اري الاك

অর্থ: যখন কিছু শুনি, তখন আপনারই কোন উত্তম বানী শুনি। যখন কিছু দেখি, তখন শুধু আপনাকেই দেখি ।"

ﻳﺎ ﻣﺎ ﻟﻜﻲ ﻛﻦ ﺷﺎﻓﻌﻲ ﻓﻲ ﻓﺎﻗﺘﻲ
ﺍﻧﻲ ﻓﻘﻴﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﻮﺭﻱ ﻟﻐﻨﺎﻙ

অর্থ: হে আমার মালিক ! আমার প্রয়োজন কালে আপনি আমার জন্য সুপারিশ করুন।
পৃথিবীতে আমি শুধু আপনারই ঐশ্বর্যের মুখাপেক্ষী।

ﻳﺎﺍﻛﺮﻡ ﺍﻟﺜﻘﻠﻴﻦ ﻳﺎ ﻛﻨﺰ ﺍﻟﻮﺭﻱ
ﺟﺪ ﻟﻲ ﺑﺠﻮﺩﻙ ﻭ ﺍﺭﺿﻨﻲ ﺑﺮ ﺿﺎﻙ

অর্থ: হে জ্বীন-ইনসানের সবচাইতে সম্মানিত। হে সমগ্র মখলুকাতের
ধনভান্ডার! আমাকে আপনার দানে ধন্য করুন। আপনার সন্তুষ্টি দিয়ে খুশি করুন।

ﺍﻧﺎ ﻃﺎﻣﻊ ﺑﺎﻟﺠﻮﺩ ﻣﻨﻚ ﻭ ﺍﻡ ﻳﻜﻦ
ﻻﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻓﻲ ﺍﻻﻧﺎﻡ ﺳﻮﺍﻙ

অর্থ: আমি আপনার করুনার প্রত্যাশী। আপনি ছাড়া সারা জাহানে আবু হানীফার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) কেউ নেই।.

ﻓﻌﺴﺎﻙ ﺗﺸﻔﻊ ﻓﻴﻪ ﻋﻨﺪ ﺣﺴﺎﺑﻪ
ﻓﻠﻘﺪ ﻏﺪﺍ ﻣﺘﻤﺴﻚ ﺑﻌﺮﺍﻙ

অর্থ: একটাই আশা, হিসাবের দিনে আপনি আমার জন্য সুপারিশ করবেন। কারন আমিতো আপনারই রশি আঁকড়ে ধরেছি।

ﻓﻼﻧﺖ ﺍﻛﺮﻡ ﺷﺎﻓﻊ ﻭ ﻣﺸﻔﻊ
ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺘﺠﻲ ﺑﺤﻤﺎﻙ ﻧﺎﻝ ﺭﺿﺎﻙ

অর্থ: সবচাইতে মহান সুপারিশকারী সেতো একমাত্র আপনি। যে আপনার আশ্রয়
গ্রহণ করেছে সে আপনার সন্তুষ্টি লাভ করেছে ।

ﻓﺎﺟﻌﻞ ﻗﺮﺍﻙ ﺳﻔﺎﻋﺔ ﻟﻲ ﻓﻲ ﻏﺪ
ﻓﻌﺴﻲ ﺍﺭﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺸﺮ ﺗﺤﺖ ﻟﻮﺍﻙ

অর্থ: আপনার মেহমানদারীকে আমার জন্য কাল সুপারিশে পরিনত করুন। যাতে হাশরের ময়দানে আমি আপনারই ঝন্ডাতলে শামিল হতে পারি।

ﺻﻠﻲ ﻋﻠﻴﻚ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺎﻋﻠﻢ ﺍﻟﻬﺪﻱ
ﻣﺎ ﺣﻦ ﻣﺸﺘﺎﻕ ﺍﻟﻲ ﻣﺸﻮﺍﻙ

অর্থ: হে সমগ্র জগতের হিদায়েতের প্রতিক ! আপনার প্রতি আল্লাহ পাক উনার বেশুমার ছলাত, যতক্ষন কোন আশেক আপনার আশ্রয়ের প্রত্যাশী থাকে।

ﻭﻋﻠﻲ ﺻﺤﺎﺑﺘﻚ ﺍﻟﻜﺮﺍﻡ ﺟﻤﻴﻌﻬﻢ
ﻭﺍﻟﺘﺎ ﺑﻌﻴﻦ ﻭ ﻛﻞ ﻣﻦ ﻭﺍ ﻻﻙ

অর্থ: আপনার সম্মানিত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, উনাদের অনুসারী, আর যারা আপনাকে মুহব্বত করেছেন সকলের
প্রতি বেশুমার ছলাত। "

সুবহানাল্লাহ্ !! সুবহানাল্লাহ্ !!

আল্লাহ পাক আমাদের উক্ত মহান ক্বাছীদা শরীফ উনার হাক্বীকত বুঝার তৌফিক দান করুন।
এবং সকল ফযিলতের হিসসা দান করুন।

আমীন !

পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পর্ব-১


পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার সময় ইয়া নবী, ইয়া রসূল বলে সম্বোধন করার শরয়ী ফায়সালা
এবং বিরোধী পক্ষের খোরা যুক্তির খন্ডন মূলক জবাব ........................ পর্ব-১

আলীমুল হাকীম আল্লাহ্ পাক উনিই সকল হামদ ও শুকরিয়ার মালিক | যিনি পবিত্র মহামহিম | সর্বোত্তম আখলাকের অধিকারী আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অনন্তকালের জন্য অফুরন্ত ছলাত ও সালাম |

কিছু সংখ্যক জাহিল ও গুমরাহ লোক কিল্লতে ইলম ও কিল্লতে ফাহম অর্থাৎ কম জ্ঞান ও কম বুঝের কারণে বলে থাকে যে, “পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার সময় ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা, ইয়া রসূল সালামু আলাইকা, ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা, ছলাওয়াতুল্লাহ আলাইকা’- এভাবে পবিত্র সালাম শরীফ পেশ করলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানহানী হয় | তাই এভাবে সালাম পেশ করা ঠিক নয় |”

তাদের আপত্তিকর বিষয়গুলো হচ্ছে-

(ক) نبى-رسول- حبيب এ শব্দগুলো نكرة (নাকিরাহ) বা অপরিচিত তাই এগুলোকে يا (ইয়া) হরফে নিদা দ্বারা ডাকলে معرفة (মা’রিফাহ) বা পরিচিত হয়ে যায় বটে, তবে ডাকার পূর্বে অপরিচিত থেকে যায় | তাই يا نبى ‘ইয়া নবী’ এভাবে সালাম পেশ করা ঠিক নয় | বরং يا ايها النبى ও يا ايها الرسول ইত্যাদি নিয়মে সালাম পেশ করাই সঠিক বা ক্বাওয়ায়িদ সম্মত |

(খ) يا ইয়া হরফে নিদা শুধু নিকটবর্তী আহ্বানের জন্য আসে | দূরবর্তীর জন্য আসে না | তাই يا نبى বলে সালাম দেয়া ঠিক হবে না | কারণ, তিনি তো আমাদের দেশ থেকে অনেক দূরে আছেন |

(গ) سلام এক পেশ দিয়ে পড়া শুদ্ধ হবে না |

(ঘ) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র সালাম শরীফ পাঠের পূর্বে পবিত্র ছলাত শরীফ বা পবিত্র দুরূদ শরীফ পড়া যাবে না | প্রথমে পবিত্র সালাম শরীফ দিতে হবে | তারপর পবিত্র ছলাত বা পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করতে হবে |

(ঙ) ছন্দ আকারে মিলযুক্ত বাক্যের মাধ্যমে পবিত্র সালাম শরীফ পাঠ করা ঠিক নয় | কারণ, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে এভাবে উল্লেখ নেই | নাউযুবিল্লাহ!

জাহিল ও গুমরাহ লোকদের আপত্তির কারণে কেউ সুওয়াল করতে পারে, يا نبى سلام عليك (ইয়া নবী সালামু আলাইকা) এভাবে সালাম পেশ করা শুদ্ধ হবে কিনা? শুদ্ধ হলে তার দলীল-আদিল্লাহ কি রয়েছে?

এদের জবাবে বলতে হয়, মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

ان الله وملئكته يصلون على النبى يايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما

অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস্ সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ পাঠ করেন | হে মু’মিনগণ! আপনারাও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ তথা পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করো এবং পবিত্র সালাম শরীফ প্রেরণ করো প্রেরণ করার মতো |”
(পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৫৬)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ ও পবিত্র সালাম শরীফ পাঠ করতে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন | তবে পবিত্র ছলাত শরীফ ও পবিত্র সালাম শরীফ কিভাবে, কোন পদ্ধতিতে পাঠ করতে হবে তা সরাসরি নির্ধারিত করে দেননি | আর এককভাবেও এমন কোনো নিয়ম নির্ধারণ করে দেননি যে, কেবলমাত্র সে নিয়মেই পাঠ করতে হবে, তার বাইরে অন্য কোনো নিয়মে পাঠ করা যাবে না | তাই হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বিভিন্ন পদ্ধতিতে পবিত্র ছলাত শরীফ ও পবিত্র সালাম শরীফ পাঠ করেছেন ও করেন | তন্মধ্যে পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মজলিসে পবিত্র ছলাত শরীফ ও পবিত্র তাওয়াল্লুদ শরীফ পাঠ করার পর দাঁড়িয়ে যে পবিত্র সালাম শরীফ পাঠ করা হয় তা ছন্দ, কবিতা বা ক্বাছীদা শরীফ আকারে | যেহেতু ছন্দ, কবিতা বা ক্বাছীদা শরীফ তৈরি করা, পাঠ করা এবং লেখা সবগুলোই সুন্নত মুবারক |

পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পর্ব-৪

. পর্ব-৪

মূলকথা হলো- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হিসেবে যারা যেভাবে ‘ইয়া নবী’, ‘ইয়া রসূল’, ইয়া হাবীব বলে খেয়াল করে উনাকে ডাকবে তাই শুদ্ধ হবে | শুধু ‘ইয়া’ ‘হরফে নিদা’ যোগ করার দ্বারাও পূর্বাপর সমস্ত সময়ের জন্য নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই নির্দিষ্ট ও পরিচিত হন |

আধুনিক আরবী সাহিত্য বিশারদগণের সম্রাট অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত কবি আহমদ শাওকী বেক উনার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ “আশ শাওকিয়াত” এর الهمزية النبوية শীর্ষক কবিতায় শুধু يا ‘ইয়া’ হরফে নিদা উল্লেখ করে رسول কে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেছেন। যেমন,

يا من له عز الشفاعة وحده + وهو المنزه ماله شفعاء

অর্থ: “ইয়া (হে) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনিই সেই মহান রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যার রয়েছে পরকালে শাফায়াত করার একক মর্যাদা | জাত ও ছিফাতগতভাবে তিনি পূত-পবিত্র ও কলুষমুক্ত | উনার নিজের জন্য কোনো শুপারিশকারীর প্রয়োজন নেই |”

لى فى مديحك يا رسول عرائس+ تيمن فيك وشاقهن جلاء.

অর্থ: “ইয়া রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার প্রশংসা করার ব্যাপারে আমার রয়েছে প্রেমাস্পদের সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্খার মতো অফুরন্ত বাসনা | যা আমাকে পূন্য-ধন্য করবেই | আর ওই বাসনাকে আপনার দিবালোকের মতো উজ্জ্বল সুন্দরতম চরিত্র মুবারক আরো উৎসাহিত করে তুলেছে |

অত্র কবিতায় يا رسول আলিফ-লাম যোগ করা ছাড়াই লিখা হয়েছে | এটা ক্বাওয়ায়িদ ও কবিতার নিয়মসম্মত | এভাবে ব্যবহার করায় সম্মানহানী হয় না | বরং এতে সম্মান প্রকাশ হয়েছে |

আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যাপারে যেমন কবিগণ يا نبى، يا رسول (ইয়া নবী, ইয়া রসূল) বলে নিদা করেছেন | তেমনি উনার বংশধর তথা আওলাদে রসূলগণকেও সাহিত্যিক ও কবিগণ يا ‘ইয়া’ হরফে নিদা দ্বারা আহ্বান করেছেন |

“দুরূসুল্ বালাগাহ” উনার ‘মুহাস্সানাতুল মা’নুবিয়্যাহ’র আলোচনায় জনৈক কবির কবিতায় উল্লেখ আছে-

يا سيد احاز لطفا+ له البرايا عبيد
انت الحسين ولكن + جفاك فينا يزيد

অর্থ: “হে ইমাম, সাইয়্যিদ আলাইহিস সালাম! যিনি প্রত্যেক প্রকারের গুণ ও পবিত্রতা নিজের মধ্যে একত্রিত করে রেখেছেন, সমস্ত সৃষ্ট যার গোলাম | আপনি হলেন হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম | কিন্তু কি করা যাবে যে, আমাদের মধ্যে আপনার অমনোযোগ দৈনন্দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে |”

কবি অত্র শ্লোকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে يا سيد বলে আহ্বান করেছেন | এতে একমাত্র হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে বুঝানো হয়েছে | অথচ পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ সাইয়্যিদ বা আওলাদে রসূল রয়েছেন | অর্থাৎ এখানে سيد শব্দটি যদিও নাকিরাহ, এর পূর্বে يا ‘ইয়া’ হরফে নিদা যুক্ত করার সাথে সাথে তা معرفة (মা’রিফাহ) বা নির্দিষ্ট হয়েছে | যা পূর্বাপর সব সময়ের জন্য হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে বুঝাচ্ছে |

তেমনিভাবে يا حبيب، يا نبى، يا رسول দ্বারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই আহ্বান করা হয়েছে বুঝতে হবে | তাই আলিফ-লাম ছাড়া শুধু يا ‘ইয়া’ হরফে নিদা দ্বারা সম্মান ও মর্যাদাই প্রকাশ পায়।

বাতিল ও গুমরাহদের বক্তব্য হলো- معرفة অর্থ পরিচিত ও نكرة অর্থ অপরিচিত |

এর জবাবে বলতে হয়-

আরবী ক্বাওয়ায়িদ অনুযায়ী বাতিলদের প্রদত্ত অর্থ ভুল, ধোঁকাপ্রসূত, মনগড়া ও ফিতনামূলক | কারণ, معرفة ও نكرة আরবী নাহু শাস্ত্রের দুটি অন্যতম পরিভাষা, যার অর্থ হলো معرفة (নির্দিষ্ট) ও نكرة (অনির্দিষ্ট) | যদিও লুগাত বিশারদগণ বিভিন্ন অর্থ নিয়েছেন | তবে লুগাতে হাজারো অর্থ থাকলেই যে সব অর্থ সবক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে তা নয় | বরং পরিভাষা অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে |

যেমন, আল্লামা হযরত সিরাজুদ্দীন উছমান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “হিদায়াতুন্ নাহু” কিতাবে উল্লেখ করেছেন,

المعرفة اسم وضع لشىء معين ... والنكرة ما وضع لشىء غير معين كرجل

অর্থ: “ معرفة (মারিফাহ) এমন একটি اسم (ইস্ম) বা বিশেষ্য যাকে কোনো নির্দিষ্ট কিছুর জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে | ..... نكرة (নাকিরাহ) এমন একটি اسم বা বিশেষ্য যাকে কোনো অনির্দিষ্ট কিছুর জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে | যেমন, رجل (রজুলুন) বা এক ব্যক্তি |

হযরত আল্লামা ইবনে হাজিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “কাফিয়া” নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেন,

المعرفة ما وضع لشىء بعينه ... النكرة ما وضع لشىء لا بعينه

অর্থ: “معرفة (মারিফাহ) এমন একটি اسم (বিশেষ্য) যাকে কোনো নির্দিষ্ট কিছুর জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে | ... نكرة (নাকিরাহ) এমন একটি اسم (বিশেষ্য) যাকে কোনো অনির্দিষ্ট কিছুর জন্য প্রনয়ণ করা হয়েছে |”

অনুরূপ নাহুমীর, মাবাদিউল আরাবিয়া ও অন্যান্য ক্বাওয়ায়িদের কিতাবসমূহে বর্ণিত আছে | তাই প্রমাণিত হলো যে, গুমরাহ ও বেআক্বলদের বক্তব্য অশুদ্ধ; যা ক্বাওয়ায়িদের খিলাফ |

অতএব, প্রমাণিত হলো يا نبى، يارسول، يا حبيب এভাবে সালাম পেশ করা সম্মান প্রকাশক, ক্বাওয়ায়িদ হিসেবে শুদ্ধ এবং গ্রহণযোগ্য |

পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পর্ব-৬



পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার সময় ইয়া নবী, ইয়া রসূল বলে সম্বোধন করার শরয়ী ফায়সালা
এবং বিরোধী পক্ষের খোরা যুক্তির খন্ডন মূলক জবাব ........... পর্ব-৬

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

قال رب فانظرنى الى يوم يبعثون

অর্থ: “শয়তান (মহান আল্লাহ পাক উনার সামনে) বললো, হে আমার মহান রব! আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন |” (পবিত্র সূরা হিজর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৬)

وقل رب زدنى علما

অর্থ: “বলুন, হে আমার মহান রব! আমার ইল্ম বৃদ্ধি করুন |” (পবিত্র সূরা ত্ব-হা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৪)

وقل رب اعوذ بك من همزت الشيطين

অর্থ: “বলুন, হে আমার মহান রব! আমি আপনার কাছে (আমার উম্মত উনাদের ব্যাপারে) শয়তানের প্ররোচনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি |” (পবিত্র সূরা মু’মিনুন শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৯৭)

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

قال رب ان قومى كذبون

অর্থ: “হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম তিনি বললেন, হে আমার মহান রব! আমার সম্প্রদায় তো (অন্যায়ভাবে) আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে |” (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৭)

رب هب لى من الصالحين

অর্থ: “(হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট প্রার্থনা করলেন:) হে আমার মহান রব! আমাকে একজন সৎপুত্র দান করুন |” (পবিত্র সূরা ছফ্ফাত শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০০)

এ রকম সর্বমোট ৬৭খানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ربى এর শেষে ياء متكلم বাদ দেয়া হয়েছে | অনুরূপভাবে নিম্নোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফগুলোতেও ياء বাদ দিয়ে নিদর্শন হিসেবে যের রাখা হয়েছে |

যেমন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وما خلقت الجن والانس الا ليعبدون

অর্থ : “আমার ইবাদত-বন্দেগী (মা’রিফত-মুহব্বত অর্জন) করার জন্য আমি জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছি |” (পবিত্র সূরা যারিয়াত শরীফ : নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)

ان ارضى واسعة فاياى فاعبدون

অর্থ: “(মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন) আমার যমীন প্রশস্ত | অতএব, তোমরা আমারই ইবাদত-বন্দেগী করো |” (পবিত্র সূরা আনকাবূত শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ)

পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ উনার ২৫ ও ৯২ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেও অনুরূপ নিয়মে উল্লেখ আছে |
তেমনিভাবে এর বিপরীতও আমরা দেখতে পাই هى যমীরের সাথে هيه যুক্ত করে উচ্চাঙ্গের ছন্দ মিলানো হয়েছে |

যেমন, পবিত্র সূরা ক্বারিয়াহ শরীফ উনার ১০, ১১ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে,

وما ادراك ماهية نار حامية

অর্থ: “আপনি জানেন তা (হাবিয়া দোযখ) কি? তা হচ্ছে প্রজ্জ্বলিত অগ্নি |”

এখানে هيه আসলে ছিল هى যা যমীর বা সর্বনাম | هى সর্বনামের পরে ه অক্ষর যুক্ত করণের মধ্যে লক্ষ-কোটি কারণ নিহিত রয়েছে | তন্মধ্যে একটি কারণ হচ্ছে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বাক্যের সাথে মিল ও সাদৃশ্যতা বুঝানো | তাই هيه (হিয়াহ) শব্দ মুবারক ইরশাদ হয়েছে |

অতএব প্রমাণিত হলো, পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সালাম শরীফ প্রেরণের সময়
يا نبى، يا رسول، يا حبيب উনাদের ياء متكلم কে বাদ দিয়ে নিদর্শন হিসেবে যের দেয়া হয়েছে | ওয়াক্ফের সময় উক্ত যের উহ্য রেখে ইয়া নবী, ইয়া রসূল ও ইয়া হাবীব পড়া হয়; যা পবিত্র কুরআন শরীফ ও ক্বাওয়ায়িদের ভিত্তিতেই ছহীহ |

পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পর্ব-৭

পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার সময় ইয়া নবী, ইয়া রসূল বলে সম্বোধন করার শরয়ী ফায়সালা
এবং বিরোধী পক্ষের খোরা যুক্তির খন্ডন মূলক জবাব ........... পর্ব-৭

কিছু সংখ্যক জাহিল ও গুমরাহ লোক কিল্লতে ইলম ও কিল্লতে ফাহম অর্থাৎ কম জ্ঞান ও কম বুঝের কারণে বলে থাকে যে, “পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার সময় ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা, ইয়া রসূল সালামু আলাইকা, ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা, ছলাওয়াতুল্লাহ আলাইকা’- এভাবে পবিত্র সালাম শরীফ পেশ করলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানহানী হয় | তাই এভাবে সালাম পেশ করা ঠিক নয় |”

তাদের আপত্তিকর বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে-
(ক) “ نبى-رسول- حبيب এ শব্দগুলো نكرة (নাকিরাহ) বা অপরিচিত তাই এগুলোকে يا (ইয়া) হরফে নিদা দ্বারা ডাকলে معرفة (মা’রিফাহ) বা পরিচিত হয়ে যায় বটে, তবে ডাকার পূর্বে অপরিচিত থেকে যায় | তাই يا نبى ‘ইয়া নবী’ এভাবে সালাম পেশ করা ঠিক নয় | বরং يا ايها النبى ও يا ايها الرسول ইত্যাদি নিয়মে সালাম পেশ করাই সঠিক বা ক্বাওয়ায়িদ সম্মত |”

তাদের উপরোক্ত বক্তব্যের খন্ডনমূলক জবাবের এটি ৬ষ্ঠ পর্ব যা ধারাবাহিকভাবে পেশ করা হচ্ছে |

(ধারাবাহিক)

হযরত আল্লামা আবূ যায়েদ মুহম্মদ ইবনে আবুল খত্তাব আল ক্বারশী সঙ্কলিত “জামহারাতু আশয়ারিল আরব” নামক কিতাবে বিখ্যাত কবি আমর ইবনে সালিম আল খুযায়ী তিনি আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রশংসায় বলেন,

يا رب انى ناشد محمد صلى الله عليه وسلم+ حلف ابينا وابيه الاتلدا

অর্থ: “হে আমার মহান রব! আমি সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ছন্দাকারে কবিতা পাঠ করছি | যিনি আমার পিতা ও উনার প্রবীণ পিতার সঙ্গী |”
এখানে ربى ছিল, সহজতার জন্য ياء متكلم কে হযফ করে নিদর্শন হিসেবে যের দেয়া হয়েছে | যের বিশিষ্ট يا رب এতে ওয়াক্ফ করলে ইয়া রব্ পড়তে হয় |

তেমনিভাবে يا نبى، يا رسول، يا حبيب উনাদের শেষে যে ياء ছিল তা বাদ দিয়ে নিদর্শন হিসেবে যের দিয়ে পড়া হয় | এখানে ওয়াক্ফ করার কারণে ইয়া নবী, ইয়া রসূল, ইয়া হাবীব পড়া হয় | যেমন, يا رب (ইয়া রব) পড়া হয় |

Friday, April 3, 2015

বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী(রহ) এর সময়কালের ঘটনা।

বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী(রহ) এর সময়কালের ঘটনা। বোরানপুর গ্রামে একজন ধনবান হিন্দু বাস করতো। লোকজনের মুখে বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানি (রহ) এর গুন গরিমা ও ইসলামের কথা বহুদিন যাবৎ শুনে তার অন্তরে ইসলাম ও বড়পীর (রহ) এর প্রতি শ্রদ্ধা বীজ উপ্ত হতে থাকে। শেষে এমন অবস্থা দাঁড়ায় যে, শেষ পর্যন্ত সে ইসলাম গ্রহন করার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ল।
কিন্তু পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের কারনে প্রকাশ্যে মুসলিম হওয়া সম্ভব হলনা। তাই সে গোপনে ইসলাম গ্রহন করল ও হিন্দু ধর্মের সকল আচার অনুষ্ঠান ও পূঁজা পার্বন ত্যাগ করল।এবং সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।
এর কিছুদিন পরে ঔ নবমুসলিমটি ইন্তেকাল করেন, ফলে তার আত্মীয় স্বজনরা হিন্দু ধর্মের নিয়ম অনুসারে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য শ্মশানে নিয়া গেল। সেখানে অতি জাঁকজমকের সাথে নিম-চন্দন দিয়ে তার জন্য চিতা তৈরী করলো। শেষে লোবান ঢেলে চিতায় অগ্নিসংযোগ করলো। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লো। দেখতে দেখতে সমস্ত কাঠ-খড়ি পুড়ে শেষ হয়ে গেল, কিন্তু মৃতদেহের একটি পশমও আগুন স্পর্শ করল না। এই কান্ড দেখে উপস্থিত জনতা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। যেভাবেই হোক শবদেহ দাহ করতেই হবে তাই অপর একটি চিতা তৈরী করে পূর্বের চেয়ে অধিক পরিমান ঘি-চন্দন ও শুকনো কাঠ-খড়ি সাজিয়ে অগ্নি সংযোগ করল। সাথে সাথে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠলো। কিন্তু তার একটি লোমও দাহ হোক এটা আল্লাহর ইচ্ছা নয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সব কাঠ পুড়ে ছাই। কিন্তু গোপনে ইসলাম পালনকারী এই হিন্দুর একটি পশম অগ্নি স্পর্শ করল না। নিরুপায় হয়ে তার আত্মীয় স্বজন লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিল।
ইতিমধ্যে বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ) তার এক শিষ্যকে ডেকে বললেন,কয়েকজন লোক নিয়ে নদীর পাড়ে যাও, সেখানে একটা মৃতদেহ পাবে। সে গোপনে ইসলাম গ্রহন করেছিল। তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করো। জেনে রেখো, তার নাম আব্দুল্লাহ।
বড়পীর (রহ) এর প্রধান শিষ্য জানতে চাইলেন যে,আব্দুল্লাহ কোন পুণ্যে জ্বলন্ত ভয়াবহ অগ্নি তার কিছুই করতে পারলো না? বড়পীর (রহ) বললেন,সারা জাহানের মালিক ওয়াদা করেছেন যে ব্যাক্তি ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করবে, তার কোন ভয় নেই।তাকে আল্লাহ রক্ষা করবেন । - সুবহানাল্লাহ -

Thursday, April 2, 2015

ইসলাম ধর্মে পা ধরে সালাম করা

পাল্টা জবাব ওহাবীর মুখে ছুড়ে মারলাম
এইটা এক ওহাবী খারেজীর আইডি
সে পোষ্ট করেছে আর লিখেছে
****** ইসলাম ধর্মে পা ধরে সালাম করা হারাম ! ! ! এটি হিহুদী , নাছারা, বিধর্মীদের কাজ। কিন্তু আফসোসের বিষয় আজ কত গুলো ভন্ডরা এই রিতি পালন করে থাকে।************
আসুন ওহাবীদের গালে দলিলের থাপ্পর মারি।
দেখ খবিশেরা নিজের চখে দেখ
কদমবুসি বা কদম চুম্বন, পবিত্র কোন বস্তু চুম্বন বা তাজিমের জন্য দাঁড়ানো জায়েজ কি না?
প্রথমে যারা, বেদাত বেদাত, শেরক শেরক করে চিল্লায় তাদেরই কেতাব থেকে প্রমান, অর্থাৎ দেওবন্দিদের কেতাব হইতে। তার পরে হাদিস দিয়ে প্রমান দেব ইনশা আল্লাহ।
মাওঃ রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী ফাতওয়ায়ে রশিদিয়া ১/৫৪ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেন -দ্বিননদার ব্যক্তির তাজিমের জন্য দাঁড়ানো দুরস্ত আছে। এইরূপ ব্যক্তির কদম চুম্বনও দুরস্ত হইবে। ইহা হাদিসের দ্বারা সাব্যস্ত আছে।
(২) -মাওঃ থানবী সাহেব আত্তাকাশ শুফ পুস্তকের ৪২৪ পৃষ্ঠায় একটি হাদিস উদ্ধৃত করিয়া প্রমান করিয়াছেন পীরের প্রিয় পাত্রগণের অভ্যাস এই যে, পীরের হস্ত বা পদ বা কপালে চুম্বন দিয়া থাকেন। ইহাতে কোন দোষ নাই, অবশ্য খিয়াল রাখিতে হইবে যে শরীঅতের হুকুমের কোন ব্যতিক্রম না ঘটে। অর্থাৎ কদম চুম্বন করিতে গিয়ে পীরের পা চাঁটা, পায়ের আঙ্গুল চোষা ইত্যাদি নাজায়েজ কার্য হইতে সতর্ক থাকিতে হইবে।
(৩) - মাওলানা আহমাদ সাঈদ দেও বন্দি সাহেবের লিখিত রাসুলুল্লাহ কি মুযেজাত পুস্তকের ১৪১ টৃষ্ঠায় আছেঃ - বাযযারের হাদিস -(সারমর্ম) বরীদা হইতে বর্ণিত, একটি গ্রামে অমুসলমান (আরবী) হুজুর সঃ কে বলিয়া ছিলেন আমি আপনাকে সিজদা করিব, তখন হুজুর সঃ বলিয়া ছিলেন আমি যদি কোন মানুষকে তাজীমের সেজদা আদেস দিতাম তবে বিবিগণকে তাঁহাদের স্বামীদিগকে সিজদা করিতে বলিতাম। মোটকথা হুজুর সঃ উহাকে আদেশ দিলেন না। তখন ঐ ব্যক্তি বলিল তবে আমাকে হস্ত -পদ চুম্বন করিতে আদেশ দেন। তখন হুজুর সঃ আদেশ দিলেন। সে হুজুর সঃ এঁর হস্ত পদ চুম্বন করিল। এই রূপ একটি হাদিস মুহাদ্দেস হাকিম বর্ণনা করিয়া সহীহ বলিয়া ছেন।। এইরূপ ধরনের একটি হাদিস কে ফাতওয়ায়ে শামীর বরাত দিয়ে
* মাওঃ শফী সাহেব জাওয়াহেরুল ফিকাহ কেতাবে ১/১৯৭ পৃষ্ঠায় সহি হাদিস বলিয়া উল্লেখ করিয়া ছেন। , ইমাম নবাবী আল আজগার কিতাবে উক্ত হাদীস হইতে ইহাই প্রমান করিয়াছেন যে, মুহাব্বত বা ভালবাসা সূত্রে বযুর্গদিগের হস্ত -পদ চুম্বন করিতে পারে।
মিশকাত শরীফে الصا فحة و ا لعا نقة অধ্যায়ে দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে - হজরত যেরা রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, যানি আব্দুল কায়েসের প্রতিনিধিভুক্ত ছিলেন, তিনি বলেন যখন আমরা মদীনা মানোয়ারায় আসলাম তখন আমরা নিজ নিজ বাহন থেকে তাড়া তাড়ি অবতরন করতে লাগলাম। অতঃপর আমরা হুজুর সঃ পবিত্র হাত পায়ে চুমু দিয়ে ছিলাম।,
সময় হাতে আর পেলাম না বলে এত টুকুই লিখলাম প্রয়জন বোধ হলে দ্বিতীয় খণ্ড লিখবো, বানান ভূল থাকলে থাকতে পারে সংশোধনের সময় নেই।
আশা করি যারা শেরেক বেদাত বলে লাফায় তাদের মুখ বন্ধ হল।
কদমবুসীর অর্থ ও দলিল :
কদমবুছীর সংজ্ঞাঃ “কদমবুছী” -এর “কদম”
শব্দটি আরবী যার অর্থ “পা”, আর “বুছী”
শব্দটি ফার্সী যার অর্থ “চুম্বন করা”।
সুতরাং “কদমবুছী” অর্থ হলো “পায়ে চুম্বন করা”।
অর্থাৎ সরাসরি মুখ দিয়ে পায়ে চুম্বন
দেয়াকে “কদমবুছী” বলে। কিন্তু প্রচলিত
অর্থে কদমবুছী বলতে আমাদের দেশে হাত
দিয়ে পা স্পর্শ করে হাতে চুমু খাওয়ার যে প্রচলন
তা মূলতঃ কদমবুছী নয় বরং তা দস্তবুছী।
কদমবুছীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ দেখিয়েছেন হযরত
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ।
আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল
মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কদম
মুবারকে সরাসরি চুম্বন করতেন বা বুছা দিতেন তাঁরা,
এমনকি তাঁরা একে অপরকেও
কদমবুছী করেছেন। আর তাই
কদমবুছী হচ্ছে খাছ সুন্নত।
কদমবুছী হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিতঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, “হযরত
ওযায়ে ইবনে যারে, তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন, আমরা আব্দুল কায়েস
গোত্রে থাকা অবস্থায় যখন মদীনা শরীফ-এ
আসতাম তখন তাড়াতাড়ি করে নিজেদের
সওয়ারী হতে নেমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন,
ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাত মুবারক
এবং কদম মুবারকে চুম্বন করতাম।” (আবূ দাউদ
শরীফ, ২য় জিলদ্, পৃষ্ঠা ৭০৯; বযলুল মাজহুদ, ৬ষ্ঠ
জিলদ্, পৃষ্ঠা ৩২৮; ফতহুল বারী, ১১ জিলদ্, পৃষ্ঠা ৫৭;
মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, ৭ম জিলদ্, পৃষ্ঠা ৮০;
আশয়াতুল লুময়াত, মুযাহিরে হক্ব)
হযরত সাফওয়ান ইবনে আস্সাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
বলেন, “একবার ইহুদীদের একটি দল
এসে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল
মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উভয় হাত মুবারক ও
পা মুবারকে বুছা (চুম্বন) দিলো।” (আবূ দাউদ
শরীফ; নাসাঈ শরীফ; ইবনে মাযাহ শরীফ,
পৃষ্ঠা ২৭০; তিরমিযী শরীফ, ২য় জিলদ্, পৃষ্ঠা ৯৮;
ফতহুল বারী, ১১ জিলদ্, পৃষ্ঠা ৫৭; তুহফাতুল
আহওয়াযী শরহে তিরমিযী, ৭ম জিলদ্, পৃষ্ঠা ৫২৫;
মুছান্নিফে ইবনে আবী শায়বা, ৭ম জিলদ্,
পৃষ্ঠা ৫৬২)
হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত আছে, “এক
ব্যক্তি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল
মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বলল,
ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
আমাকে এমন কোন বিষয়ে আদেশ করেন,
যা আমার বিশ্বাসকে আরো বৃদ্ধি করবে। তখন
আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল
মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি ঐ
গাছটিকে ডেকে আনো।” অতঃপর
সে ব্যক্তি গাছটির নিকটে গিয়ে বললো, নিশ্চয়
রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তোমাকে ডেকেছেন।
সুতরাং গাছটি এসে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাম করলো।
আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে চলে যেতে বললেন,
গাছটি তখন চলে গেল। অতঃপর ঐ
ব্যক্তি অনুমতি সাপেক্ষে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাথা মুবারক ও
উভয় কদম মুবারক বুছা দিল।” (মুস্তাদিরেকে হাকিম;
ফতহুল বারী, ১১ জিলদ্, পৃষ্ঠা ৫৭; তুহফাতুল
আহওয়াযী শরহে তিরমিযী, ৭ম জিলদ্, পৃষ্ঠা ৫২৮;
আল কালামুল মুবীন, পৃষ্ঠা ১৪৬)
হযরত বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, “(গাছের সিজদা দেয়ার ঘটনা সংঘটিত হওয়ার
পর) একদিন আমি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,
ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খিদমতে আরজ
করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাক আপনার উভয় হাত মুবারক
এবং পা মুবারকে বুছা দেয়ার অনুমতি দিন। আল্লাহ্ পাক-
এর হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
অনুমতি দিলেন। অতঃপর তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উভয় হাত মুবারক
এবং পা মুবারকে বুছা দিলেন।” (নাসীমুর রিয়াজ
শরহে কাজী আয়াজ ৩য় জিলদ্, পৃষ্ঠা ৫০; কিতাবুল
আযকার লিন্ নববী)
হযরত যায়েদ বিন সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
থেকে বর্ণনা রয়েছে যে, “নিশ্চয়ই তিনি হযরত
আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর হাত
মুবারকে বুছা দিয়েছেন। তিনি এটাও বর্ণনা করেন
যে, নিশ্চয়ই হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর হাত ও
পা মুবারকে বুছা দিয়েছেন।” (ফতহুল বারী, ১১
জিলদ্, পৃষ্ঠা ৫৭; তুহফাতুল
আহওয়াযী শরহে তিরমিযী, ৭ম জিলদ্, পৃষ্ঠা ৫২৮)
শুধু তাই নয় বরং হাদীছ শরীফ-এ মাকেও
কদমবুছী করার ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে,
যেমন এ প্রসঙ্গে ফিক্বাহের কিতাবে উল্লেখ
আছে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল
মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি তার
মায়ের কদমবুছী করলো সে যেন জান্নাতের
চৌকাঠে চুম্বন করলো।” (মাবসূত লিস্ সারাখ্সী, ১ম
জিলদ্, পৃষ্ঠা ১৪৯)
ইমাম-মুজতাহিদ তথা আউলিয়ায়ে কিরাম
রহ্মতুল্লাহি আলাইহি-এর জীবনীতে কদমবুছীঃ
বস্তুত গভীর শ্রদ্ধা, আদব, মুহব্বত
এবং আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে কদমবুছীর
মাধ্যমে। আর তাই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহুমগণ আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,
ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কদম
মুবারকে সরাসরি চুম্বন দিয়ে তাঁর প্রতি গভীর
শ্রদ্ধা, মুহব্বত, তা’যীম এবং আনুগত্যের চরম
পরাকাষ্ঠা প্রকাশ করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় মুরীদও
তাঁদের অনুসরণে একইভাবে স্বীয় মুর্শিদ
ক্বিবলার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, পরম মুহব্বত
এবং আনুগত্য প্রকাশ করে থাকে কদমবুছীর
মাধ্যমে। কেননা হাদীছ শরীফ-এ এসেছে,
“হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, শায়খ
(বা মুর্শিদ বা পীর ছাহেব) তাঁর ক্বওম
তথা মুরীদের কাছে তেমন; নবী (আলাইহিস্
সালাম) তাঁর উম্মতের
মাঝে যেমন।” (দাইলামী শরীফ, মাকতুবাত
শরীফ, আত্ তায্কিরাহ ফি আহাদীসিল মুশ্তাহিরাহ,
মাকাছিদুল হাসানা)
হাদীছ শরীফ-এ আরো এসেছে, “হযরত আনাছ
বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত,
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
তোমরা পীর-মাশায়িখকে সম্মান করবে। পীর-
মাশায়িখকে সম্মান করা আল্লাহ্ পাককে সম্মান করারই
নামান্তর। কাজেই যে ব্যক্তি তাঁদের যথাযথ সম্মান
করে না সে আমাদের দলভূক্ত
নয়।” (দাইলামী শরীফ, আত্ তায্কিরাহ
ফি আহাদীসিল মুশ্তাহিরাহ)
পক্ষান্তরে যারা অহংকারী, যাদের
অন্তরে রয়েছে আত্ম-অহংকার তারা কখনও
কদমবুছীর ফযীলত, বরকত লাভ করতে পারে না।
অন্তরে লালিত অহংকারই
তাকে কদমবুছী থেকে বিরত রাখে। অহংকার
ব্যক্তি কখনও
হাক্বীক্বীভাবে কদমবুছী করে না। যদি লোক
লজ্জার ভয়ে কিংবা অবস্থার চাপে করে তা হয় একান্ত
অন্তঃসারশুন্য। খুব কমসংখ্যক লোক
নিজেকে নিকৃষ্ট, হীন ও তুচ্ছ
মনে করতে পারে, “বড় যদি হতে চাও ছোট হও
আগে” এই নীতি বাক্যের উপর আমল
করতে পারে।
---------------------
আসুন ওহাবীদের গালে দলিলের থাপ্পর মারি।
প্রসঙ্গঃ কদমবুসি ও হাতবুসি ১০০% জায়েজ- কুরআন হাদিস থেকে প্রমান এবং ওহাবী আহলে খাব্বিসদের পর্দা ফাস।
কুরআন-হাদিস থেকে দলিল দেওয়ার আগে ওহাবীরা সাধারন মানুষকে যেভাবে বলে ধোকা দেয় তার পর্দা ফাস করা আগে প্রয়োজন মনে করতেছি।
আহলে খাব্বিস ওহাবীরা এই বলে সাধারন মানুষকে ধোকা দেয় যে, মা-বাবা,ওস্তাত এর হাত-পা চুম্বন করলে মাথা নত হয়ে যায় আর সাজদা একমাত্র আল্লাহর কাছেই করতে হয় তাই কদমবুসি-হাতবুসি হারাম, শীরক ইত্যাদি।
যারা এরুপ বলে সেইসব গাধার কাছে আগে প্রশ্ন যে যে ‘সাজদা’ আর ‘মাথা নত করা কি এক জিনিস.?
নিষ্চয় সাজদা একমাত্র আল্লাহর জন্য অন্য কাউকে করলে তা নিঃসন্দেহ শিরক হবে এতে কোন সন্ধেহ নয়।
কিন্তু মাথা নত করলে কি সাজদা হয়।........?
ওহাবীদের মতে যদি এরুপ হয় তাহলে
লক্ষ করুন
- আমরা জুতা পড়ি কিন্তু জুতার ফিতা বাধার সময় আমাদের মাথা নত হয়ে যাচ্ছে তাহলে কি জুতা পড়াও শিরক..?
- রাস্তা হাটতে আপনার হাত থেকে কোন কিছু পড়ে গেল ধরুন কলম এখন কলমকে উঠাতে আপনার মাথা নত হয়ে যাচ্ছে তাহলে এটাও কি শিরক..?
- এভাবে একটা না হাজারটা কারন আমরা দাড়াতে পারি যেখানে আপনি মাথা নত না করলে আপনার চলবেই না।
ওহাবীদের এই ধোকাবাজী এখন দিবালোকের মত পরিস্কার যে এরা সাজদাকে মাথা নত এর সাথে মিলিয়ে মুসলিম মিল্লাতকে ধোকা দিচ্ছে। আসলে মাথা নত করা,কুদমবুসি,হাতবুসি ইসলামে জায়েজ যা আমাদের সাহাবাদের সংস্কৃতি থেকে লক্ষ করা যায়।
এখন যদি হাতবুসি বা কদম বুসি হারাম হয় তাহলে আমি পুরো জ্ঞানে বলছি যে যারাই এরুপ বলে অর্থাত ওহাবীরা তারা এবং তাদের সন্তানরাও হারামী, কারন সুত্র তাদেরই যেমন জানি না ওহাবীরা বাসর রাতে তাদের স্ত্রীকে কোথায় কোথায় চুম্বন দিয়েছে আর সেই চম্বনের ফল তাদের সন্তানরা কি হারামী হবে না। (মাইন্ড করবেন না আমি আপনাদের সুত্রেই কথা বলছি।)
কথা অনেক হল। এবার্ আসুন পবিত্র কদম বুসি,হাতবুসি কুরআন হাদিস থেকে প্রমান করি।
Lokho korun-
পবিত্র বস্তুকে চুমু দেয়া জায়েয। কুরআন করীম ইরশাদ ফরমান-
وَادْ خُلُوالْبَابَ سُجَّدًا وًّقُوُلُوُا حِطَّةٌ
অর্থাৎ ওহে বনী ঈসরাইল বায়তুল মুকাদ্দিসের দরজা দিয়ে নতশিরে প্রবেশ কর। এবং বল আমাদের গুনাহ মাফ করা হোক। এ আয়াত থেকে অবগত হওয়া গেল যে আম্বিয়া কিরামের আরামগাহ বায়তুল মুকাদ্দিসকে সম্মান করানো হলো অথর্ৎ বনী ঈসরাইলকে ওখানে নতশিরে প্রবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ আয়াত দ্বারা এটাও বোঝা গেল যে পবিত্র স্থান সমূহে তওবা তাড়াতাড়ি কবুল হয়। মিশ্কাত শরীফের اَلْمُصَافَحَةِ وَالْمُعَانَقَةِ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে-
وَعَنْ ذِرَاعٍ وَّكَانَ فِىْ وَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ قَالَ لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِيْنَةَ فَجَعَلْنَا نَتَبَادَرُ مِنْ رَّوَاحِنَا فَنُقَبِّلُ يَدَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَه‘
হযরত যেরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, যিনি আব্দুল কায়সের প্রতিনিধিভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন- যখন আমরা মদিনা মনোয়ারায় আসলাম তখন আমরা নিজ নিজ বাহন থেকে তাড়াতাড়ি অবতরণ করতে লাগলাম। অতঃপর আমরা হুযুর আলাইহিস সালামের পবিত্র হাত-পা চুমু দিয়েছিলাম।
মিশ্কাত শরীফের اَلْكَبَائِرُ وَعَلَامَاْتِ النِّفَاقِ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত ছিফওয়ান ইবনে আস্সাল, থেকে বর্ণিত আছে فَتَقَبَّلَ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ (অতঃপর হুযুর আলাইহিস সালামের হাত-পায় চুমু দেন।) মিশ্কাত শরীফে مَا يُقَالَ عِنْدَ مَنْ حَضَرَهُ الْمَوْتِ শীর্ষক অধ্যায়ে তিরমিযী ও আবু দাউদ শরীফের বরাত দিয়ে বর্ণিত আছে-
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَبَّلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُثْمَانَ ابْنُ مَطْعُوْنٍ وَهُوَ مَيِّتٌ
অর্থাৎ হুযুর আলাইহিস সালাম হযরত উছমান ইবনে মাতউনকে মৃতবস্থায় চুমু দিয়েছেন। প্রসিদ্ধ শিফা শরীফে উলল্লেখিত আছে-
كَانَ اِبْنُ عُمَرَ يَضَعُ يَدَهْ عَلَى الْمِنْبَرِ الَّذِىْ يَجْلِسُ عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى الْخُطْبَةِ ثُمَّ يَضَعُهَا عَلَى وَجْهِهِ
যে মিম্বরে দাঁড়িয়ে হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুৎবা দিতেন, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর সেটাতে হাত লাগিয়ে মুখে মাখতেন (চুমু দিতেন) আল্লামা ইবনে হাজরের রচিত শরহে বুখারীর ষষ্ঠ পারায় ১১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত আছে-
اِسْتَنْبَطَ بَعْضُهُمْ مِنْ مَشْرُوْعِيَّةِ تَقْبِيْلِ الْاَرْكَانِ جَوَازَ تَقْبِيْلِ كُلِّ مَنْ يَّسْتَحِقُّ الْعَظْمَةَ مِْن اَدَمِىٍّ وَغَيْرِهِ نُقِلَ عَنِ الاِْمَامْ اَحْمَدَ اَنَّه‘ سُئِلَ عَنْ تَقْبِيْلِ مِنْبَرِ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ وَتَقْبِيْلِ قَبْرِهِ فَلَمْ يَرَبِهِ بَاسًا وَّنُقِلَ عَنْ ِابْنِ اَبِى الصِّنْفِ اليَمَانِى اَحَدِ عُلَمَاءِ مَكَّةَ مِنَ الشَّافِعِيَّةِ جَوَازَ تَقْبِيْلِ الْمُصْحَفِ وَاَجْزَاءِ الْحَدِيْثِ وَقُبُوْرِ الصَّالِحِيْنَ مُلْخَصًا
অর্থাৎ কাবা শরীফের স্তম্ভগুলোর চুম্বন থেকে কতেক উলামায়ে কিরাম বুযুর্গাণে দ্বীন ও অন্যান্যদের পবিত্র বস্তুসমূহ চুম্বনের বৈধতা প্রমাণ করেন। ইমাম আহমদ ইব্নে হাম্বল (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে তার কাছে কেউ জিজ্ঞাসা করেছিল- হুযূর আলাইহিস সাললামের মিম্বর বা পবিত্র কবর মুবারকে চুমু দেয়াটা কেমন? তিনি এর উত্তরে বলেছিলেন, কোন ক্ষতি নেই। মক্কা শরীফের শাফেঈ উলামায়ে কিরামের অন্যতম হযরত ইবনে আবিস সিন্ফ ইয়ামানী থেকে বর্ণিত আছে- কুরআন করীম ও হাদীছ শরীফের পাতাসমূহ এবং বুযুর্গানে দ্বীনের কবরসমূহ চুমু দেয়া জায়েয।
প্রখ্যাত ‘তুশেখ’ গ্রন্থে আল্লামা জালাল উদ্দিন সয়ুতী (রহঃ) বলেছেন-
اِسْتَنْبَطَ بَعْضُ الْعَارِفِيْنَ مِنْ تَقُبِيْلِ الْحَجَرِ الْاَسْوَدِ تَقْبِيْلَ قُبُورِ الصَّالِحِيْنَ
হাজর আসওয়াদের চুম্বন থেকে কতেক আরেফীন বুযুর্গানে কিরামের মাযারে চুমু দেয়ার বৈধতা প্রমাণ করেছেন।
উপরোক্ত হাদীছে, মুহাদ্দিছীন ও উলামায়ে কিরামের ইবারত থেকে প্রমাণিত হলো যে বুযুর্গানে দ্বীনের হাত, পা, ওনাদের পোশাক, জুতা, চুল মোট কথা সব কিছু পবিত্র বস্তু; অনুরূপ কাবা শরীফ, কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফের পাতা সমূহের উপর চুম্বন জায়েয ও বরকতময়। এমনকি বুযুর্গানে দ্বীনের চুল, পোশাক ও অন্যান্য পবিত্র বস্তুর সম্মান করা এবং যুদ্ধকালীন ও অন্যান্য মুসিবতের সময় এগুলো থেকে সাহায্য লাভ করা কুরআন করীম থেকে প্রমাণিত আছে। কুরআন করীম ইরশাদ ফরমান-
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ اِنَّ اَيَةَ مُلْكِهِ اَنْ يَّاْتِيَكُمُ التَّابُوْتُ فِيْهِ سَكِيْنَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِّمَّا تَرَكَ اَلُ مُوْسَى وَاَلُ هَرُوْنَ تَحْمِلُهُ اَلْمَلَئِكَةُ
(বনী ইসরাঈলীদেরকে তাদের নবী বলেছেন, তালুতের বাদশাহীর নিদর্শন হচ্ছে তোমাদের কাছে সেই তাবুত (সিন্দুক) আসবে যেথায় তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে চিত্ত প্রশান্তি এবং হযরত মুসা ও হযরত হারুনের পবিত্র বস্তু সমূহ থাকবে; ফিরিশতাগণ এটা বহন করে আনবে।) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তফসীরে খাযেন, রূহুল বয়ান, মদারেক, জালালাইন ও অন্যান্য তফসীরে লিখা হয়েছে যে তাবুত হচ্ছে সীসা ও কাঠের তৈরী সিন্দুক, যেখানে নবীগণের ফটো (এ সব ফটো কোন মানুষের তৈরী ছিল না বরং কুদরতী ছিল) ওনাদের আবাসসমূহের নকশা, হযরত মুসা (আঃ) এর লাঠি, তাঁর কাপড়, জুতা এবং হযরত হারুন (আঃ) এর লাঠি, টুপি ইত্যাদি ছিল। বনী ইসরাঈলগণ যখন শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতো, তখন বরকতের জন্য ওটাকে সামনে রাখতো এবং যখন খোদার কাছে দুআ করতো, তখন ওটাকে সামনে রেখেই প্রার্থনা করতো। সুতরাং সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে বুযুর্গানে দ্বীনের পবিত্র বস্তু থেকে ফয়েয গ্রহণ এবং ওগুলোকে সম্মান করা নবীগণেরই অনুসৃত পথ। তফসীরে খাযেন, মদারেক, রূহুল বয়ান ও কবীরে বার পারার সূরা ইউসুফের আয়াত فَلَمَّا ذَهَبُوْا بِهِ এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, যখন হযরত ইয়াকুব (আঃ) হযরত ইউসুফ (আঃ) কে তার ভাইদের সাথে পাঠালেন, তখন ওরা গলায় হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর কোর্তাকে তাবিজ বানিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে নিরাপদে থাকে। পৃথিবীর সমস্ত পানি আল্ললাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু যমযম কূপের পানির সম্মান এ জন্যেই করা হয় যে এটা হযরত ইসমাঈল (আঃ) এর পবিত্র পায়ের আঘাতে সৃষ্টি হয়েছে। মকামে ইব্রাহীমের পাথর ইব্রাহীম (আঃ) এর সানি্নধ্যের ফলে এর ইয্যত এতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে যে আল্ললাহ তাআলা ইরশাদ ফরমান- وَاتَّخِذُوْا مِنْ مَّقَامِ اِِبْرَاهِيْمَ مُصَلَّى (তোমরা ইব্রাহীম (আঃ) এর দাঁড়াবার স্থানকে নামাযের স্থানরূপে গ্রহণ কর।) অর্থাৎ সবার মস্তক ওই দিকে নত কর। মক্কা শরীফকে যখন হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে সম্পর্কিত করা হলো, তখন আলল্লাহ তাআলা এর নামের কসম করে ইরশাদ ফরমান-
لاَاُقْسِمُ بِهَذَا الْبَلَدِ وَاَنْتَ حِلٌّ بِهَذَا الْبَلَدِ
(শপথ করছি এ শহরের (মক্কা শরীফের) আর তুমি এ শহরের অধিবাসী) অন্যত্র বলেছেন وَهَذَا الْبَلَدِ الْاَمِيْنِ (এবং এ নিরাপদ শহরের (মক্কা) শপথ)। হযরত আয়ুব (আঃ) প্রসঙ্গে ইরশাদ ফরমান- اُرْكُضْ بِرِجْلِكَ هَذَاْ مُغْتَسَلٌ بَارِدٌ وَتُرَابٌ
(তুমি তোমার পা দ্বারা ভূমিকে আঘাত কর। এ-তো গোসলের সুশীতল পানি আর পানীয়।) অর্থাৎ হযরত আয়ুব (আঃ) এর পায়ের আঘাতে যে পানি বের হলো, সেটা রোগ নিরাময়ের সহায়ক হলো। এতে বোঝা গেল নবীদের পা ধোয়া পানি মর্যাদাবান ও রোগ নিরাময়ের সহায়ক। মিশ্কাত শরীফের শুরুতে কিতাবুল লেবাসে বর্ণিত আছে যে হযরত আস্মা বিনতে আবু বকর (রাঃ) এর কাছে হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আচকান শরীফ ছিল এবং মদীনা শরীফে কারো রোগ হলে, তিনি ওটা ধুয়ে তাকে সেই পানি পান করাতেন। সেই মিশ্কাত শরীফের কিতাবুল আত্-আমার اَلاشْرِبَةْ শীর্ষক অধ্যায়ে উলেল্লখিত আছে যে হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা হযরত কব্শা (রাঃ) এর বাসায় তশরীফ নিয়ে গেলেন এবং ওর মোশকে মুখ মুবারক লাগিয়ে পানিপান করেন। তিনি (কব্শা) মোশকের মুখটা বরকতের জন্য কেটে রেখে দিয়েছিলেন। একই মিশ্কাতের কিতাবুস সালাতের اَلْمَسَاجِدْ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে যে একদল লোক হুযূর (সাল্ললাল্ললাহু আলাইহি ওয়া সাল্ললামের (হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আরয করেন- আমাদের দেশে ইহুদীদের একটি উপাসনালয় আছে; আমরা একে ভেঙ্গে মসজিদ করার ইচ্ছে পোষণ করি। তখন হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি থালায় পানি নিয়ে ওখানে কুলি করেন এবং বলেন ওই উপাসনালয়কে ভেঙ্গে ফেল। অতঃপর এ পানি ওখানে ছিটিয়ে দাও। তারপর মসজিদ তৈরী কর। এতে বোঝা গেল হুযূর (সালল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়া সালল্লাম) পবিত্র থুথু কুফরীল অপবিত্রতা দূরীভূত করেন। হযরত খালিদ বিন ওলীদ (রাঃ) স্বীয় টুপীতে হুযূর (সালল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়া সালল্লাম) এর একটি চুল মুবারক রাখতেন এবং যুদ্ধের সময় ওই টুপী নিশ্চয় তার মাথায় থাকতো। মিশ্কাত শরীফে السترةঅধ্যায়ে বর্ণিত আছে, হুযূর (সালল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়া সালল্লাম) ওযু ফরমালেন, তখন হযরত বিলাল (রাঃ) হুযুরের ব্যবহৃত ওযুর পানি নিয়ে নিলেন। লোকেরা হযরত বিলালের দিকে দৌড়ে গেলেন এবং যিনি ওই পানিতে হাত ভিজাতে পারলেন, তিনি সে হাত নিজ মুখে মালিশ করে নিলেন। আর যিনি পেলেন না, তিনি অন্যজনের হাতের আদ্রতা নিজ মুখে বুলিয়ে নিলেন। এ সব হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, বুযুর্গানে দ্বীনের ব্যবহৃত বস্তুসমূহ থেকে বরকত লাভ করা সাহাবা কিরামের সুন্নাত। এবার ফকীহগণের বিভিন্ন উক্তির প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। ফাত্ওয়ায়ে আলমগীরী কিতাবুল কারাহিয়া مُلَاقَاتُ الْمُلُوْكِ শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-
اِنْ قَبَّلَ يَدَ عَالِمِ اَوْ سُلْطَانٍ عَّادِلٍ بِعِلْمِهِ وَعَدْلِهِ لَا بَاسَ بِهِ
যদি আলিম বা ন্যায়পরায়ণ বাদশাহের হাতে চুমু দেয়া হয় ওদের ইলম ও ন্যায়পরায়ণতার কারণে, তাহলে এতে কোন ক্ষতি নেই। একই গ্রন্থে কিতাবুল কারাহিয়াতে زِيَارَةُ الْقُبُوْرِ অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে-
وَلَاْبَاسَ بِتَقُبِيْلِ قَبْرِ وَالِدَيْهِ كَذَا فِى الْغَرَائِبِ
নিজের মা-বাপের কবরে চুমু দেয়ায় কোন ক্ষতি নেই যেমন গরায়েবে বর্ণিত হয়েছে। সেই আলমগীরীর কিতাবুল কারাহিয়াতের مَلَاقَاتِ الْمُلُوْكِ অধ্যায়ে আরও লিপিবদ্ধ আছে-
اِنَّ التَّقْبِيْلَ عَلَى خَمْسَةِ اَوْجَهٍ قُبَلَةُ الرَّحْمَةِ كَقُبْلَةِ الْوَالِدِ وَلَدَهُ وَقُبْلَةُ التَّحِيَّةِ كَقُبْلَةِ الْمُؤْمِنِيْنَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ وَقُبْلَةُ الشَّفَقَةَ كَقُبْلَةِ الْوَلَدِ لِوَالِدَيْهِ وَقُبْلَةُ الْمَوَدَّةِ كَقُبْلَةِ الرَّجُلِ اَخَاهُ وَقُبْلَةُ الشَّهْوَةِ كَقُبْلَةِ الرَّجُلِ اِمْرَأَتَهُ وَزَادَ بَعْضُهُمْ قُبْلَةَ الدِّيَانَةِ وَهِىَ قُبْلَةُ الْحَجْرِ الْاَسْوَدِ
চুম্বন পাঁচ প্রকার-
আশীর্বাদসূচক চুম্বন, যেমন বাবা ছেলেকে চুমু দেয়; সাক্ষাৎকারের চুম্বন, যেমন কতেক মুসলমান কতেক মুসলমানকে চুমু দেয়; স্নেহের চুম্বন, যেমন ছেলে মা-বাবাকে দেয়; বন্ধুত্বের চুম্বন, যেমন এক বন্ধু অপর বন্ধুকে চুমু দেয়; কামভাবের চুম্বন, যেমন স্বামী স্ত্রীকে দেয়। কেউ কেউ ধার্মিকতার চুম্বন অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদের চুম্বনকে এর সাথে যোগ করেছেন।
দুররুল মুখতারের পঞ্চম খন্ড কিতাবুল কারাহিয়াতের শেষ অধ্যায় الاستبراء এর মুসাফাহা পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে وَلَا بَاسَ بِتَقْبِيْلِ يَدِا الْعَالِمِ وَالسُّلْطَنِ الْعَادِلِ আলিম ও ন্যায়পরায়ণ বাদশাহের হাতে চুমু দেয়ায় কোন ক্ষতি নেই। এ জায়গায় ফাত্ওয়ায়ে শামীতে হাকিমের একটি হাদীছ উদ্ধৃত করেছে, যার শেষাংশে বর্ণিত আছে-
قَال ثُمَّ اَذِنَ لَه‘ فَقَبَّلَ رَأْسَه‘ وَرِجْلَيْهِ وَقَالَ لَوْ كُانْتُ اَمِرًا اَحَدًا اَنْ تَسْجُدَ لَاحَدٍ لَاَمَرْتُ الْمَرْ أَةَ اَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا وَقَالَ صَحِيْحُ الْاَسْنَادِ
হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই ব্যক্তিকে অনুমতি দিয়েছেন। তাই সে তাঁর মস্তক ও পা মুবারক চুমু দিলেন। অতঃপর হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ ফরমান যদি আমি কাউকে সিজ্দার হুকুম দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে হুকুম দিতাম স্বামীকে সিজ্দা করতে। দুররুল মুখতারে সেই জায়গায় আলমগীরীর মত পাঁচ প্রকার