Thursday, March 19, 2015

গায়েবানা জানাযা জায়েয কি না ???




শরিয়তের দৃষ্টিতে জানাযার নামায আদায় করা ফরজে কিফায়া। কোনো এলাকায় যদি কাউকে জানাযার নামায ছাড়া দাফন করে দেওয়া হয় তাহলে ঐ এলাকার সবাই গুনাহগার হবে। জানাযার নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। যেমনঃ-
১। মৃত ব্যক্তিকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। কেননা কোনো অমুসলিম, কাফের, নাস্তিক, মুরতাদের জানাযার নামায পড়া জায়েয নয়।
২। ঐ ব্যক্তিকে জীবিত জন্মগ্রহণ করতে হবে। কেননা মৃত নবজাতক বা মৃত ভ্রুনের জানাযার নামায পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
৩। মৃত ব্যক্তির শরীর ও কাপড় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ধরনের নাপাকি থেকে পবিত্র হতে হবে। সে পবিত্রতা গোসলের দ্বারা হোক বা তায়াম্মুমের দ্বারা হোক।
৪। মৃতের সতর আবৃত থাকতে হবে। অন্যথায় জানাযার নামায সহিহ হবে না।
৫। মৃতের লাশ ইমাম ও মুক্তাদিগনের সামনে থাকতে হবে। পাশে বা পিছনে থাকলে বা একেবারে অনুপস্তিত থাকলে জানাযা শুদ্ধ হবে না।
৬। মৃতের লাশ মাটিতে বা খাটিয়ার ওপর রাখতে হবে। কোনো ওজর ছাড়া মৃতের লাশ যানবাহনের ওপর বা মানুষের কাঁধের ওপর রেখে জানাযার নামায আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে না।
৭। মৃতের লাশ অবশ্যই জানাযা স্থলে উপস্তিত থাকতে হবে। অনুপস্তিত লাশের ওপর জানাযা অর্থাৎ গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েয নয়। 

সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, আমাদের সমাজে যারা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে বা সহিংসতায় মারা যান, কর্মসুচি দিয়ে তাদের গায়েবানা জানাযা পড়া হয়।
হানাফী, মালিকী মাযহাবের সব ফকিহ ও হাম্বলী মাযহাবের ফকিহদের একাংশের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হল লাশ অনুপস্তিত রেখে গায়েবানা জানাযা জায়েয নয়। কেননা সাহাবায়ে কেরানের যুগের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায় যে, সে যুগে গায়েবানা জানাযা পড়ার কনো প্রচলন ছিল না। অথচ সে যুগেও বড় বড় সাহাবি দূর-দূরান্তে ইন্তেকাল করেছিলেন; কিন্তু তাদের গায়েবানা জানাযা পড়া হয়নি। যেমন বীরে মাঊনার ঘটনায় সত্তরজন কারী আলেম সাহাবীর শাহাদাতের খবর জেনেও নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়েবানা জানাযা পড়েননি। এমনকি স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পরও কোথাও কোনো সাহাবী এমনকি মক্কা শরিফ যা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মস্তান সেখানেও কোনো গায়েবানা জানাযা পড়া হয়নি। আর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কাজ ব্যাপকভাবে বর্জন করা তা বর্জননিও হওয়ার প্রমান।
হানাফি, মালেকি ও হাম্বলি ঊলামায়ে কেরামদের মতে জানাযার নামাযে মৃত ব্যাক্তি সামনে থাকা জরুরী নতুবা গায়েবানা জানাযা পড়া যাবেনা আর গায়েবানা জানাযা সুন্নাহসম্মত নয়।

Thursday, March 12, 2015

সাহাবীদের যামানায় মাযহাব ছিলঃ

সাহাবীদের যামানায় মাযহাব ছিলঃ
++++++++++++++++++
১/ ইবনু তাইমিয়াহ এর কিতাব থেকে সরাসরি প্রমাণঃ
______________________________
ওয়াহাবী, লা মাযহাবী মানে মাযহাব নিয়ে তামাশা, টিটকারী ও অস্বীকারকারী ফেতনাবাযদের ইমাম, তাদের শায়েখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ স্বীকার করেছেন, সাহাবায়ে কেরামের যামানায় মাযহাব ছিল। তিনি তাঁর কিতাবে সাহাবাদের কথা বলতে গিয়ে “মাযহাব” শব্দটি স্বয়ং উল্লেখ করেছেন।
ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেন,
কোর’আনে কারীমের কোন একটি আয়াতের তাফসীরের ব্যাপারে যদি সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীগণ এবং ইমামগণের কোন কাওল বা বানী থাকে, আর অন্য কোন দল যদি তাদের নিজেদের মাযহাবের পক্ষে অন্য কোন কাওল বা কথা দ্বারা ঐ আয়াতের তাফসীর করে, যা সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়ীগণের মাযহাবের বিরুদ্ধে চলে যায়, তবে তা হবে বেদ’আতীদের কাজ।
তিনি তাঁর কিতাবে “মাযাহিবুস সাহাবাহ” অর্থাৎ সরাসরি “মাযাহিব” শব্দ উল্লেখ করেছেন। মাযাহিব বহুবচন। একবচনে মাযহাব। অর্থাৎ তিনি প্রমাণ করেছেন, সাহাবায়ে কেরামের যুগে ও মাযহাব বিদ্যমান ছিল।
রেফারেন্সঃ
মাজমু উল ফাতাওয়াঃ খন্ড ১৩
___________________
ঠিক তেমনি তিনি ফেকহী মাস’আলার ক্ষেত্রে ও সাহাবীদের মাযহাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। এখানে ও তিনি সরাসরি ‘মাযহাব’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন।
রেফারেন্সঃ
মাজমু উল ফাতাওয়াঃ খন্ড৩২
নিকাহ অধ্যায়।
++++++++++++++++++++++
২/ আলী বিন মাদীনী রাহিমাহুল্লাহ এর কিতাব থেকে প্রমাণঃ
____________________________________
আলী বিন মাদীনী রাহিমাহুল্লাহ হচ্ছেন, বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উস্তাদ। তিনি তাঁর কিতাবে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে প্রমাণ করেছেন, সাহাবায়ে কেরামের যুগে মাযহাব বিদ্যমান ছিল।
আলী বিন মাদীনী বলেন,
সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে মাত্র তিনজন সাহাবী ছিলেন, যাদের মাযহাবকে বাকী সকলে অনুসরণ করতেন।
যে তিনজন সাহাবীর মাযহাবকে অনুসরণ করা হত, তারা হচ্ছেন,
১/ আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু
২/যায়েদ বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু
৩/আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু।
আলী বিন মাদীনী বলেছেন,
এই তিনজন সাহাবীর প্রত্যেকের ছিলেন অনুসারীগণ। একেক দল সাহাবায়ে কেরাম একেক সাহাবীর মাযহাব অনুসরণ করতেন এবং ঐ সাহাবীর ফতোয়া মেনে চলতেন এবং একই ফতোয়া দিয়ে অন্যদেরকে ফতোয়া দিতেন।
রেফারেন্সঃ
কিতাবুল ইলাল
পৃষ্ঠা : ১০৭-১৩৫
____________________________
তাহলে কী দাঁড়ালো?
সাহাবাদের তিনটি মাযহাব প্রমাণিত হলোঃ
১/হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রা) এর মাযহাবঃসাহাবাগণের মধ্য থেকে এই মাযহাবের আলাদা অনুসারী ছিলেন। তাঁরা আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রা) এর মাযহাবকে ফলো করতেন এবং সে অনুসারে ফতোয়া দিতেন। এ মাযহাব যারা অনুসরণ করতেন তারা হলেন নিন্মোক্ত ছয়জন।
আলকামাহ (মৃত্যু : ৬২ হিজরী),
আসওয়াদ (মৃত্যু : ৭৫ হিজরী),
মাসরূক (মৃত্যু : ৬২ হিজরী),
আবীদাহ (মৃত্যু : ৭২ হিজরী),
আমর ইবনে শারাহবীল (মৃত্যু : ৬৩ হিজরী) ও
হারিস ইবনে কাইস (মৃত্যু : ৩৬ হিজরী)।
লক্ষ্য করুন,
এখানে আরেক বিষয় প্রমাণিত হয়ে গেল, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রা) এর অনুসারীগণ তাঁর তাকলীদ করতেন। অর্থাৎ কোন প্রকার যাচাই বাচাই না করে সরাসরি তাঁর ফতোয়া তাঁরা মেনে নিতেন।
২/ হযরত যায়েদ বিন সাবিত (রা) এর মাযহাবঃ যায়েদ বিন সাবিত (রা) এর এই মাযহাবের আলাদা অনুসারী ছিলেন। তারা এই মাযহাবকে ফলো করতেন এবং সে অনুসারে ফতোয়া প্রদান করতেন। যায়েদ বিন ছাবিত রা. এর যে শাগরিদগণ তাঁর মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং তাঁর মত ও সিদ্ধান্তসমূহ সংরক্ষণ ও প্রচার প্রসারে মগ্ন ছিলেন তাঁরা বারো জন।
তাদের নাম উল্লেখ করার পর ইবনুল মাদীনী রাহ. লেখেন, এই বারো মনীষী ও তাদের মাযহাবের বিষয়ে সবচেয়ে বিজ্ঞ ছিলেন
ইবনে শিহাব যুহরী (৫৮-১২৪ হিজরী),
ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ আনসারী (মৃত্যু : ১৪৩ হিজরী),
আবুয যিনাদ (৬৫-১৩১ হিজরী),
আবু বকর ইবনে হাযম (মৃত্যু ১২০ হিজরী)।
লক্ষ্য করুন,
এখানে ও প্রমাণিত হয়ে গেল, যায়েদ বিন সাবিত (রা) এর অনুসারীগণ তাঁর তাকলীদ করতেন। অর্থাৎ কোন প্রকার যাচাই বাচাই না করে সরাসরি তাঁর ফতোয়া মেনে নিতেন।
৩/হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) এর মাযহাব। এই মাযহাবের ও একইভাবে আলাদা অনুসারী ছিলেন। তাঁরা শুধু আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) এর মাযহাবকে ফলো করতেন এবং সে অনুসারে ফতোয়া দিতেন।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.এর যে শাগরিদগণ তার মত ও সিদ্ধান্তসমূহ সংরক্ষণ ও প্রচারে মগ্ন ছিলেন, সে অনুযায়ী ফতওয়া দিতেন এবং তার অনুসরণ করতেন, তাঁরা ছয়জন।
লক্ষ্য করুন,
এখানে ও প্রমাণিত হয়ে গেল, হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) এর অনুসারীগণ তাঁর তাকলীদ করতেন। অর্থাৎ কোন প্রকার যাচাই বাচাই না করে তারা সরাসরি তাঁর ফতোয়া মেনে নিতেন।
এ লেখাটি পড়ার পর যে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে গেলোঃ
_______________________________
মাযহাব নতুন উদ্ভাবিত কোন বিষয় নয়। সাহাবীগণের যামানায় মাযহাব বিদ্যমান ছিলো। গোটা কয়েক সাহাবী ফতোয়া প্রদান করতেন আর বাকী সকলে তাদের ফতোয়া অনুসরণ করতেন। নির্দ্বিধায় তা মেনে নিতেন।
সুতরাং—
১/কেউ যদি মাযহাব অস্বীকার করে, সে প্রকারান্তরে সাহাবী ও তাবেয়ীগণের পথ ও মতকে অস্বীকার করলো।
২/ কেউ যদি মাযহাব নিয়ে টিটিকারী, টাট্টা, উপহাস করে, তবে সে প্রকারান্তরে সাহাবা ও তাবেয়ীগণের পথ ও মত নিয়ে টাট্টা মশকরা করলো।
৩/ মাযহাব নিয়ে এমন বেয়াদবীপূর্ণ কথা যে বলে, তাকে ভালভাবে চিনে রাখা প্রয়োজন। কারণ এই লোক সাহাবাদের সম্পর্কে আপনার আমার মনে শয়তানী ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করতে পারে। আমাদেরকে সঠিক পথ থেকে ছিটকে দিতে পারে।

Thursday, March 5, 2015

হুজাফাহ (রাঃ) এর ঈমানী দৃঢ়তা ।


.
.
খলীফা হযরত ওমর (রাঃ) এর খেলাফতকাল। তিনি ১৯
হিজরী সনে রোমানদের
বিরুদ্ধে একটি বাহিনী পাঠালেন। সেই
বাহিনীতে ছিলেন সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ
ইববে হুজাফাহ
আস সাহমী (রাঃ)। রোমান সম্রাট প্রায়ই রাসূল (সঃ)
এর
সাহাবীদের ঈমান ও বীরত্বের কথা শুনতেন। তাই
তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন কোন মুসলিম সৈনিক
জীবিত
অবস্থায় বন্দী হলে যেন তার
কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আল্লাহর ইচ্ছায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ
(রাঃ)কে রোমানরা বন্দী করে এবং সম্রাটের
সামনে উপস্থিত
করে।
.
রোমান সম্রাট হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ
(রাঃ)কে বললেন, ”আমি প্রস্তাব করছি তুমি খ্রিষ্টান
ধর্ম
গ্রহণ কর। যদি তা কর, তাহলে তোমাকে মুক্তি দেব
এবং তোমাকে সম্মানিত করবো।”
বন্দী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ (রাঃ) খুব
দৃঢ়তার
সাথে বললেন, ”আফসোস! যেদিকে আপনি আহবান
জানাচ্ছেন
তার থেকে হাজার বার মৃত্যু আমার অধিক প্রিয়।”
তখন রোমান সম্রাট বললেন,
”আমি মনে করি তুমি একজন
বুদ্ধিমান লোক। আমার প্রস্তাব
মেনে নিলে আমি তোমাকে আমার ক্ষমতার অংশীদার
বানাবো, আমার কন্যা তোমার হাতে সমর্পণ
করবো এবং আমার এ সাম্রাজ্য তোমাকে ভাগ
করে দেব।”
বেড়ী পরিহিত বন্দী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ
(রাঃ)
মৃদু হেসে বললেন, ”আল্লাহর কসম! আপনার
গোটা সাম্রাজ্য
এবং সেই সাথে আরবদের অধিকারে যা কিছু আছে সবই
যদি আমাকে দেওয়া হয়, আর
বিনিময়ে আমাকে বলা হয় এক
পলকের জন্য মুহাম্মদের (সঃ) দ্বীন আমি পরিত্যাগ
করি,
আমি তা করবো না।”
রোমান সম্রাট বললেন,
”তাহলে আমি তোমাকে হত্যা করবো।”
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ (রাঃ) দৃঢ়তার
সাথে বললেন,
”আপনার যা খুশী করতে পারেন।”
এরপর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ
(রাঃ)কে শূলকাষ্ঠে হাত পা বেঁধে ঝুলিয়ে খ্রিষ্টধর্ম
গ্রহণ
করতে বলা হল। এতে রাজী না হওয়ায় বিশাল এক
কড়াই
এনে তাতে তেল ফুটানো হল। টগবগে সেই উত্তপ্ত
তেলে ফেলা হল একজন মুসলিম বন্দীকে। ফেলার
সাথে সাথে দেহের গোশত ছিন্ন ভিন্ন হয়ে হাড় পৃথক
হয়ে গেল।
.
সেটা দেখিয়ে এবার হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ
(রাঃ)কে আবারও খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণের আহবান
জানানো হল। এবারও তিনি দৃঢ়ভাবে তা প্রত্যাখ্যান
করেন।
সম্রাটের নির্দেশে তাকে উত্তপ্ত কড়াইয়ের নিকট
আনা হয়।
এতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ (রাঃ) এর
চোখে ।
পানি চলে আসে।
এতে তার মন পরিবর্তন হয়েছে মনে করে সম্রাট
তাকে আবারও খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করতে বললেন। কিন্তু
তিনি তা আবারও প্রত্যাখ্যান করেন। তাহলে কাঁদছ
কেন
জিজ্ঞেস করলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ (রাঃ)
বলেন, “আমি একথা চিন্তা করে কাঁদছি যে, এখনই
আমাকে এই
কড়াইয়ের মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে এবং আমি শেষ
হয়ে যাব।
অথচ আমার বাসনা, আমার দেহের পশমের সমসংখ্যক
জীবন
যদি আমার হতো এবং সবগুলিই আল্লাহর রাস্তায় এই
কড়াইয়ের মধ্যে বিলিয়ে দিতে পারতাম।” সত্যিই
আল্লাহর
রাসূল (সঃ) এর সাহাবীদের ঈমান ছিল পর্বতের
মতো অটল।
আল্লাহু আকবার!
.
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে রাসূল (সঃ) এর
সাহাবীদের
মতো সুদৃঢ় ঈমান দান করুন। আমীন।

Friday, January 23, 2015

<¤>"একটি জটিল মাস'আলা"<¤>

<¤>"একটি জটিল মাস'আলা"<¤>
<¤>"পড়ার অনুরোধ রইল"<¤>
ইমামে আযম আবু হানীফা রহঃ এর নিকট একদা তাঁর কতিপয় ছাত্র একটি জটিল মাসয়ালা নিয়ে আসল এবং বলল,,,
হুজুর একটি কুকুর ও একটি বকরি মেলামেশা করার কারণে একটি বাচ্চা প্রসব করল। যার মাথার অংশ কুকুরের মত আর পিছনের অংশ বকরির মত হয়েছে।
এমতবস্থায় এই পশুর বিধান কি?
ইমামে আযম আবূ হানিফা রহঃ বললেন,,,
তোমরা একটি বাটিতে গোশত ও আরেকটি বাটিতে ঘাস নিয়ে আস। এরপর ঐ পশুকে ছেড়ে দাও, সে যদি ঘাস খায় তাহলে মাথার অংশটা বাদ দিয়ে বাকি অংশ খাওয়া জায়েয। আর যদি গোশত খায় তাহলে সম্পূর্নটা খাওয়া না জায়েয।
ছাত্ররা বলল,, হুজুর পুশুটি যদি গোশত ও ঘাস দুটাই খায়, এমতবস্থায় এর বিধান কি?
ইমাম আবূ হানিফা রহঃ বললেন,,,
একটি বেত নিয়ে এসে পশুটিকে প্রহার কর। যদি পশুটি কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করে তাহলে তা খাওয়া না জায়েয। আর যদি বকরির মত চিৎকার করে তাহলে মাথার অংশটা বাদ দিয়ে বাকি অংশ খাওয়া জায়েয।
এখন কথা হলো ''মাযহাব'' মানতে যাদের সমস্যা বা যারা মাযহাব মানা লাগবে না বলেন, তাদের কাছে জানতে চাই,, উপরোক্ত মাসআলার সমাধান কোন জায়গা থেকে দিবেন?
সুতরাং সহজেই বলা যায় মুজতাহিদগণ ''ইজতেহাদ'' করে আমাদেরকে মাসআলার সমাধান দিয়ে গেছেন বলেই আমরা এতো সহজে ইসলামের রীতি- নীতি পালন করতে পারি.....

Wednesday, January 21, 2015

নবীজী গায়েবের সংবাদদাতা:

নবীজী গায়েবের সংবাদদাতা:
বুখারী শরীফের بَدْءِ الْخَلْقِ শীর্ষক আলোচনায় ও মিশকাত শরীফের দ্বিতীয় খণ্ডের بَدْءِ الْخَلْقِ وَذِكْرُ الْاَنْبِيَاءِ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত উমর (রাদিয়াআল্লাহু আনহু) থেকে বর্নিতঃ
قَامَ فِيْنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا فَاَخْبَرَنَا عَنْ بَدْءِ لْخَلْقِ حَتَّى دَخَلَ اَهْلُ الْجَنَّةِ مَنَازِ لَهُمْ وَ اَهْلُ النَّارِ مَنَازِ لَهُمْ حَفِظَ ذلِكَ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ
অর্থাৎঃ হুযুর আলাইহিস সালাম এক জায়গায় আমাদের সাথে অবস্থান করেছিলেন সেখানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে আদি সৃষ্টির সংবাদ দিচ্ছিলেন এমন কি বেহেশতবাসী ও দোযখবাসীগণ নিজ নিজ মনযিলে বা ঠিকানায় পোঁছে যাওয়া অবধি পরিব্যাপ্ত যাবতীয় অবস্থা ও ঘটনাবলীর বর্ণনা প্রদান করেন। যিনি ওসব স্মরন রাখতে পেরেছেন তিনি তো স্মরন রেখেছেন, আর যিনি স্মরণ রাখতে পারেননি তিনি ভুলে গেছেন।
এখানে হুযুর আলাইহিস সালাম দু’ধরনের ঘটনাবলীর খবর দিয়েছেনঃ
১) বিশ্ব সৃষ্টির সূচনা কিভাবে হলো এবং
২) এর সমাপ্তি কিভাবে হবে।
অর্থাৎ রোযে আযল (সৃষ্টির ঊষালগ্ন) থেকে কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক অণু-পরমাণুর পুঙ্খাণুপুঙ্খরূপে বর্ননা দিয়েছেন।
সুবাহানাল্লাহ।।।।।

Thursday, November 27, 2014

ইসলাম বনাম জঙ্গিবাদ

ইসলাম আর জঙ্গিবাদ পাশাপাশি চলতে পারে না। ইসলাম শান্তি প্রতিষ্ঠায় পরীক্ষিত উপায়। আর জঙ্গিবাদ হল ভয়াবহ সন্ত্রাস, চরম অশান্তির কারণ। ইসলামে জবরদস্তি এবং বাড়াবাড়ি কঠিনভাবে নিশিদ্দ অথচ জবরদস্তির অপর নামই জঙ্গিবাদ। বিশেষত এই উপমহাদেশে যারা ইসলামের শান্তির বাণী সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন সেই সব স্মরণীয়-বরণীয় সূফী-দরবেশ পীর-ফকিরদের ব্যক্তিগত জীবনাচার, এমনকি শাসন পদ্দতির কোথাও কোন জবরদস্তির আলামত খুজে পাওয়া যাবে না। কারণ তারা ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী এবং প্রচারকারী ছিলেন। খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর বিজয়ের পর হতে প্রায় সাতশো বছর মুসলিমদের হাতেই ভারত শাসিত হয়েছিল অথচ আজো সেই ভারত, দিল্লি - আজমির সবখানেই হিন্দুরা সংখ্যা গরিষ্ঠ আর মুসলিমরা সংখ্যালগু।স্পেনেও মুসলিমরা শাসন করেছে প্রায় সাতশো বছর। সেখানেও সংখ্যালগু থেকে গেছে মুসলিমরা আর সংখ্যাগুরু খ্রিস্টানরা। অর্থাৎ জবরদস্তি মুসলিম বানানোর কোন অনুশীলন যে কখনো ওখানে হয়নি, তাই ইতিহাস আজ পরিস্কার করে জানান দিচ্ছে এ বিশ্বাসীকে। এর পরও ইসলামের নামে জবরদস্তিকে বেছে নিয়েছে এবং সন্ত্রাসকে জেহাদ হিসেবে চালানোর চেষ্টা করছে কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী। অথচ ধর্মে কোন জবরদস্তি নেই। ( সূরা বাকারা, আয়াত-২৫৬ )

বলা হয়েছে সুতারাং যার ঈমান গ্রহন করুক এবং যার ইচ্ছা কুফরি করুক ( সূরা কাহাফ-২৯ ) 

আরও বলা হয়েছে, মুশরিকদের মদ্য কেউ তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করলে তুমি তাকে আশ্রয় দাও,
যাতে সে আল্লাহর বাণী শুনতে পায়। অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছিয়ে দাও। কারণ তারা অজ্ঞ সম্প্রদায়। ( সূরা তওবা- ৬ )
স্বয়ং আল্লাহ পাকের উক্ত কয়েকটি ঘোষণা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলাম প্রতিপক্ষের ব্যপারে কতটুকু উদার এবং উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারকারী আল্লাহর অলি মূলত সে আদর্শেরই অনুসারী এবং প্রতিষ্ঠাকারী ছিলেন। পক্ষান্তরে এসব জঙ্গি কখনো কখনো আত্নঘাতি বোমা হামলার মাদ্যমে শত শত মানুষকে প্রাণ সংহার করে ভয়াবহ আতংকের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। এবং নিজেদের গাজী, শহীদ মনে করছে। অথচ ইসলামের বক্তব্য একদম পরিষ্কার, আর তা হল আত্নহত্যা মহাপাপ। যেখানে কেউ নিজেকে  হত্যার অধিকার সংরক্ষণ করেনা, সেখানে অপরকে হত্যার অধিকার প্রশ্নই ওঠেনা।বরং কোন নিরহ মানুষের হত্যাকে সমগ্র মানব জাতির হত্যার সাথে তুলনা করা হয়েছে কোরআন করিমের সূরা মায়েদা ৩২ নম্বর আয়াতে। 

Monday, November 3, 2014

নাম ধারী মুসলিম

নামদারী মুসলমান যারা তারা ইসলাম কে অনেক
ক্ষতি করতে চেয়েছিল। সেজন্য তারা রাসূলে পাক (দঃ) প্রান-
প্রিয় সাহাবায় কেরাম, আওলাদে রাসূল ইমাম হাসান ও
হোসাইন (রাঃ) শহীদ করছেন।
হযরতে ওমর ফারুক (রাঃ) কে শহীদ করেছে কারা। কোন
বিধর্মীরা তাকে শহীদ করে নাই। তাকে শহীদ
করেছে নামদারী মুনাফিক মুসলমানরা।
হযরতে ওসমান (রাঃ) কে শহীদ করেছেন এই নামদারী মুনাফেক
মুসলমানরা।ওসমান (রাঃ) বাড়ীর সামনে এই মুনাফিক
মুসলমানরা ৪০দিন আযান দিয়ে জামাত সহকারে নামায আদায়
করছে।
এরপর এই মুনাফেক মুসলমান অাব্দুর রহমান ইবনে মুলজিম
মাওলায়ে আলী (রাঃ) কে শহীদ করেছেন। এই আব্দুর রহমান
ইবনে মুলজিম এর আমল দেখে সাহাবায় কেরাম লজ্জা পেত,
তার চেহারায় দিয়ে নুর জ্বলকাতো,
সে ঘুমাইলে জিহ্বা জিকির করতো। এই খবিস মুলজিম
বলে আলীর চাইতে বড় কাফের আর কেউ না। (নাউজুবিল্লাহ)।
কাফির মুলজিম আরো বলে রাসূলুল্লাহর চাইতে জিব্রাইলের
মর্যাদা অনেক বেশি।(নাউজুবিল্লাহ)
এবার আসেন হযরতে ইমাম হোসাইন (রাঃ) কে শহীদ করেছেন
যারা তারা হলো এই নামদারী মুনাফেক মুসলমান এজিদ ।
তারা জুম্মার নামায আযান দিয়ে পড়েছেন। এবং হযরত
হোসাইন (রাঃ) কে শহীদ করার পর নিঃস্বপ্রান হযরত
হোসাইন (রাঃ) পাশে রেখে আযান দিয়ে আছরের নামায আদায়
করেন।
ইমাম হোসাইন (রাঃ) দেহ
মোবারকে ঘোড়া চালিয়ে দিয়ে দেহ মোবারকটা ক্ষত বিক্ষত
করে ফেলে। তারপর ও তাদের চোক্ষ
দিয়ে কারো পানি আসলো না।।
এরপর আরো আসেন এই নামদারী মুসলমানরা খোদার ঘর
কাবা শরীফ বায়তুল্লাহ ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিল।
বায়তুল্লাহর কাবা ঘরের পাথর ২২টুকরা হয়ে গেল আগুনের
তাপে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রাঃ) বের হলে তাকে তীর
দিয়ে তাকে শহীদ করা হলো।
তার মা হযরত আয়েশা (রাঃ) বোন কে ডাক
দিয়ে দেখানো হলো তোমার ছেলে কেমন অাছে দেখ।
জুবাইর (রাঃ) এর মা বললেন আমার ছেলে আগের তুলোনায়
এখন ভালো আছে।
ছেলে আমার শহীদ হবে এটাই আমি চেয়েছিলাম।আল্লাহ
তাকে ইমাম হোসাইন (রাঃ) রাস্তাই নিয়ে গেছেন।
তারপর আসেন নামদারী মুসলমানরা পৃথিবীর শ্রেষ্ট মসজিদ
মসজিদে নববীতে সাতদিন পর্যন্ত তারা গাধা,
ঘোড়া বেধে রাখলো। গাধা, ঘোড়া প্রেশাব,
পায়খানা করলো। আযান একামত বন্ধ করে দিল। এইকাজ
কিন্তু বিধর্মীরা করে নাই। এই কাজ করেছেন
নামদারী মুসলমানরা।
যার অন্তরে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু
অালাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেম না তারা মুসলমান
হতে পারে না। যার অন্তরে রাসূলে পাক (দঃ) প্রেম আর
আওলাদে রাসূলের প্রেম থাকবে তারা হলো ইমানদার।
খালী নামায, রোজা, হজ্ব করলে জুব্বা,টুপি পড়লে মুসলমান
হওয়া যায় না। মুসলমান প্রথম শর্ত হলো ঈমান গ্রহন
করা। ঈমান না থাকলে নামায, রোজা, হজ্ব ও যাকাত
করলে কোন লাভ হবে না।
ইমান হলো মূল আর আমল হলো শাখা-প্রশাখা।
আসুন আমরা এয়াজিদ নামদারী কাফের মুসলমানদের
থেকে দুরে থাকি। আর ইমাম হোসাইন (রাঃ) পতাকার
নিচে থাকি।
ইমাম হোসাইন (রাঃ) গোলামী হয়ে মরতে পারি। আল্লাহ
পাকের দরবারে এই আরজি করি।