Thursday, February 6, 2014

’না না করবেন না শিরক বিদআত’



আগে একটা ছোট সত্য ঘটনা শুনাব

১৯৬৫ সাল তখন এটা পাকিস্তানই ছিল (পূর্ব পাকিস্তান) । সে সময়ে ভারত- পাকিস্তান (পূর্ব+পশ্চিম) যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ভারত নাস্তানাবুদ হয়ে পরাজিত হয়। যুদ্ধ শেষেই তারা পরিকল্পনা নেয় ফারাক্কা বাধঁ নির্মানের। তাদের ফারাক্কা বাধেঁর সবচেয়ে বড় বিপদের সম্মখীন হবে পূর্ব পাকিস্তান। সে সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের যারা শাসক ছিলেন আইউয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান ( আমাদের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যাক্তি) একেবারে প্রকাশ্যে ঘোষণ দেন

ফারাক্কা বাধঁ আমরা বোম মেরে তা উড়িয়ে দিব।

১৯৬৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্টের সপ্ন দেশের আপমর জনতা দেখে নি। পাক শাসক আইউয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান তারাও সে সময় অবধি কল্পনা করেন নি পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্র হবে।

ফারাক্কা বাধেঁর এই ঘটনা এইজন্য বললাম পাক শাসক আইউয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান তারা অদূর ভবিষ্যৎের কথা চিন্তা করে এই উক্তি করেছিলেন। তারা সে সময় ভারত বিদ্বেষের কারণে এই বাস্তবতা বুঝতে পেরেছিলেন ফারাক্কা বাধঁ পূর্ব পাকিস্তান মানে বাংলাদেশের কিরূপ ক্ষতি করবে।

পরে ১৯৭১ যুদ্ধের পর যখন পুরো দেশ এক যুদ্ধপরবর্তী সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল তখন ভারত বিনা বাধায় ফারাক্কা বাধঁ নির্মাণ করে। যার পরিণতি আমরা ২০১৪ এর দিকে দেখছি নদী গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে ।

আসলে কিছু জিনিস আছে Long term effect

আমাদের শিক্ষাজীবনে পড়ালেখার কষ্ট এর আসল গুরত্ব বুঝব নিজ বুড়ো বয়সে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখলে টিপাইমুখ বাঁধ বা সুন্দরবন সংক্রান্ত বিদ্যুৎ প্রকল্প যার পরিণাম ২০-২৫ বছর পর পাওয়া যাবে।

এখন আসা যাক কেন প্রথমে শিরক, বিদআত কথা বললাম। ব্যপারটা ঐই Long term effect

বর্তমান যুগে Internet based যত Islamic website আছে সেগুলো সিহংভাগই আহলে হাদীস, সালাফী, লা-মাযহাবীদের কুক্ষিগত। তাই এর মাধ্যমে অত্যন্ত সুকৌশলে তারা নিজ আকিদা ছড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের একজন খুব বড় আলেম Peace Tv নিয়মিত প্রোগাম করেন, You tube তার শতশত লেকচার আছে । তার এবং তার পৃষ্ঠপোষক সংস্থা যারা আছে তাদের সব লেকচার গুলোর সারমর্ম এই পেলাম
বাংলাদেশে যত মুসলমান আছে তার মধ্যে
• দেওবন্দীরা ভুল ও বিভ্রান্ত
• বেরেলভীরা ভুল ও বিভ্রান্ত
• সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও জামাতে ইসলামীরা ভুল ও বিভ্রান্ত
• চরমোনাই পীর ভুল ও বিভ্রান্ত
• ছরছীনা পীর ভুল ও বিভ্রান্ত
• তাবলীগ জামাত ভুল ও বিভ্রান্ত

এছাড়া যত খানকা আছে সবাই ভুল ও বিভ্রান্ত
So the bottom line is
বর্তমান বিশ্বে একমাত্র মুসলিম হচ্ছে তারা আহলে হাদীস, সালাফী, লা-মাযহাবীরা । যাদের সূচনা হয়েছে মুসলিম বিশ্বে ১৫০-২০০ বছর আগে তারাই দাবী করছে শুধু তারাই সহীহ বাকী সবই ভুল । বাহরে কান্ড

স্বীকার করছি উপরের প্রতিটি ফিরকা কিছু না কিছু ভুল হচ্ছে তার মানে এই নয় এরা সবাই কাফের।

আসলে এই কথা বলার উদ্দেশ্য কি বর্তমানে তারাই বিশ্বে মুসলিম যুবসমাজকে আকর্ষিত করছে তাদের আকর্ষণীয় বুলি দ্বারা। এবং এই সমস্ত চিহ্নিত আহলে হাদীস, সালাফীরা সবার মাথায় পোকার মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছে
এটা শিরক, ঐটা শিরক, ডানে শিরক, বামে শিরক সবই শিরক
আর শিরক না হলে তো বাকী সবই বিদআত।
আর আগেকার উলামায়ে কেরামরা যা বলেছেন সব যয়ীফ হাদীস দুর্বল হাদীস, মানতে হবে না।
যুবসমাজ কিছু না বুছেই তাদের সব বাণী সত্য মেনে চলছে।

শুনলে অবাক হবেন এদের সংগা মতে

মিলাদ, কিয়াম, শবে মেরাজ, শবে বরাত, সব শিরক

প্রিয়নবীর ওসীলা নিয়ে দুআ চাওয়া শিরক , মাযার যিয়ারাত শিরক (মাজার সিজদা অবশ্যই শিরক) , পীর মুরীদী সব শিরক বালাগাল উলা বিকামালিহী ৮০০ বছর পুরানো আরবী কবিতা, এটাও শিরক কাসীদায়ে বুরদা ৭০০ বছর পুরানো নবীপ্রেমের কবিতা এট্ওা শিরক।

শিরককে একটা মশকরা বানিয়ে ফেলেছে

ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় গুনাহ হচ্ছে শিরক যা দয়াময় আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না।

আল্লাহ এতই দয়াময় যে একজন খুনীও যদি খাঁটি তওবা করে, তাকেও মাফ করে দেন, এক যেনাকারী মহিলা কুকুরকে পানি খাওয়াল বিধায় তাকে মাফ করে দেন। অনেক এরকম সাহাবী আছেন যারা কাফির থাকাকালীন নিজ মেয়েকে জীবন্ত পুতে ফেলেন, নবীজীর সামনে অশ্রুসিক্ত হয়ে তারাও মাগফেরাত লাভ করেন।

সেখানে চিন্তা করুন শিরক কত বড় গুনাহ যা আল্লাহ কখনই মাফ করবেন না।
আর বর্তমানে আহলে হাদীস, সালাফীরা প্রিয়নবীর ওসীলা নিয়ে দুআ চাওয়া, মাযার বালাগাল উলা বিকামালিহী, ইয়া নবী সালামু আলাইকা সব গুলোকে এক বাক্যে শিরক বলছে ।
মানে কি দাড়াচ্ছে এগুলো খুন, যিনার চেয়েও বড় অপরাধ । আস্তাগফিরুল্লাহ

আর যা শিরক বলতে পারবে না তা সবই বিদআত
শবে মেরাজ, শবে বরাত বিদআত, হাত তুলে দুআ বিদআত

এক্কেরে মগের মুল্লুকের মত কান্ড।

তাহলেতো বর্তমানে আহলে হাদীস, সালাফীদের যুক্তি অনুযায়ী সবাই কেজি ধরে কাফির

বাহ কি তামাশা

বর্তমান যুব সমাজে এক শ্রেণী আছে যারা শাহবাগী মুসলিম, মানে শুধু নাম মুসলিম বাকী আর ইসলামের কোন কাজ নাই

আরেক শ্রেণী যারা সত্যিই ইসলাম জানতে চায়
তবে তাদের মধ্যে প্রায় সবাই শর্টকার্ট মেথডে ও সহজে শিখতে গিয়ে আহলে হাদীস, সালাফীদের আকীদা ওয়ালা হচ্ছে।
Internet based কিছু আর্টিকেল পড়ল, কিছু লেকচার শুনল নিজেকে খুব বড় আলেম ভাবা শুরু করে
আসলে হয়ে গেল
অল্প বিদ্য ভয়ংকর
বর্তমানে এদের সংখ্যই বেশী
আর খুবই সামান্য কিছু মানুষ আছে যারা কিতাব পড়ে হাক্কানী আলেমেদ্বীন এর সোহবতে থেকে হাতে কলমে প্রকৃত ইসলাম শিখতে চায়

কি প্রসঙ্গে এত বিরাট আলোচনা করলাম ???
৪ ফেব্রুয়ারী হিন্দু ধর্মালম্বীদের স্বরস্বতী পূজা গেল

অধিকাংশ স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে স্বরস্বতী পূজার প্রার্থনা হল
এছাড়াও খেয়াল করবেন বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে, বড়দিন উপলক্ষেও নানা অনুষ্ঠান হয়
হয়না শুধু মুসলমানদের কোন মাহফিল।

আরে হবেও কেমনে
এ সমস্ত শিরক বিদআত বুলি আওড়ানো তো বসে আছে কেজি দরে সবগুলোকে শিরক বিদআত বানানোর জন্য।

আশুরা বা ইমাম হুসেইনের শাহাদাতে করবেন, তারা বলবে আরে এতে শিয়াদের জিনিস আমরা কেন করব। আর কিছু তো আসে ঈয়াজিদপন্থী যারা বলে ঈয়াজিদ ঠিক ছিলেন কারবালার হত্যাকান্ডও জায়েজ ছিল ভুল তো ছিলেন ইমাম হুসেইন (নাউযুবিল্লাহ) ।

১২ই রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করবেন
আরে এগুলোতো শিরক, বিদআত, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীনদের কেউ করেননি আপনি করেন কেন।

কওমী মাদ্রাসারা সীরাতুন্নবী মাহফিল করত, তখন শিরক বিদআত বুলি আওড়ানো ব্যবসায়ীরা বলত এটা কি দরকার, রবিউল আউয়াল মাসে করার কি দরকার সব বন্ধ করেন।

শবে মেরাজ এর মাহফিল করবেন >>> বিদআত
শবে বরাত করবেন >>>> সবতো যয়ীফ হাদীস

তফসীর মাহফিল করবেন, শানে রেসালাত মাহফিল করবেন, কি দরকার এগুলো তো সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীনদের কেউ করেননি আপনি করেন কেন।

Totally Crazy

সবাই হিন্দু বৌদ্ধরা তাদের ধর্মীয় কাজ করলে কোন স্বধর্মীয়রা বাধা দেয় না ।

আর আমরা মুসলিমরা করতে গেলেই আহলে হাদীস, সালাফীদের আকীদা ওয়ালা শিরক বিদআত করতে করতে কান ঝালাপালা করে দিবে ।

আপনারা নিজে বাস্তব উদাহরণ দেখুন

আজ থেকে
৭/৮ বছর আগেও প্রচুর ওয়াজ মাহফিল হত

প্রায় সব স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বার্ষিক মিলাদ, দুআ হত
১২ই রবিউল আউয়াল তো মিলাদের হিড়িক পড়ত।

এখন হয়???

লাভ কার ক্ষতি কার আপনারাই ভাবুন
৯০ ভাগ মুসলিম দেশে স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে
পূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা, বড়দিন সবই হয় যথাযথভাবে
হয়না তো মুসলমানদের কিছু, আর হলেও তা নামকা ওয়াস্তে

এর Long term effect
পরিণাম পাওয়া যাবে ২০৩০+ এর পর যখন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মরা
পূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা, বড়দিন সবই চিনবে
চিনবে না তো নিজ মুসলমানদের কোন অনুষ্ঠান সমূহ

শুরু করলাম বাস্তব ঘটনা , সমাপ্তিও টানছি একটি সত্যি ইতিহাস

প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু দিন হল ওফাত হল। হযরত আবু বকর এখন খলিফা ।
প্রিয়নবীর সময়ে পুরো কুরআন নাযিল ও হয়, এবং এর পান্ডুলিপিগুলো লেখাও হয়। কিন্তু তখন এর সব পান্ডুলিপিগুলো একত্রিত করা হয়নি।
সাহাবায়ে কেরামরা প্রায় সবাই হাফেজ ছিলেন এবং জানতেন কোনটার পর কোন আয়াত কিন্তু তখনও
কুরআনকে একটি পূণাঙ্গ কিতাব আকারে সাজানো হয়নি।

হযরত উমর একদিন খলিফা হযরত আবু বকরকে বললেন পুরো কুরআনের সব পান্ডুলিপি রাষ্ট্রীয় ভাবে একত্রিত করে কুরআনকে একটি পূণাঙ্গ কিতাব এর রূপ দেয়া।

খলিফা হযরত আবু বকর বলেন উমর আমি এমন কাজ করব যা প্রিয়নবী নিজে করেন নি বা করার আদেশ দেন নি।

জবাবে হযরত উমর হযরত আবু বকরের বুকে হাত রেখে বাড়ি দিয়ে বলেন
খলিফা আপনি এই উদ্যোগ নেন। অবশ্যই এই কাজে বরকত আছে।
হযরত আবু বকর বলেন উমরের সেই হাতের স্পর্শ আমার অন্তরকে শীতল করে অনুপ্রাণিত করেছে কুরআনকে একটি পূণাঙ্গ কিতাব হিসেবে নেয়ার কাজে । তারই ফলশুতিতে কুরআন একটি পূণাঙ্গ কিতাব আকারে রূপ পায়।

ভাগ্যিস সে যুগে আব্দুল্লাহ বিন ওহাব নজদী বা আহলে হাদীস, সালাফীরা ছিল না
তা না হলে তারা এই সমস্ত কথা বলে ত্যনা পেচাত

’না না করবেন না শিরক বিদআত’

[NB: গালাগালি না করতে অনুরোধ করা হল]

Wednesday, February 5, 2014

কবি আল্লামা শেখ সাদী(রহঃ)বলেছেন,

কবি আল্লামা শেখ সাদী(রহঃ)বলেছেন,
তোমার যখন বৃদ্ধকালের ছাপ পড়ে গেছে,
তখন আর দেরী না করে তাড়াতাড়ি নিজের জন্য
পরকালে রওয়ানা হওয়ার আসবাবপত্র যোগাড় করা উচিত।
বিলম্ব করলে কাফেলা পরিত্যাক্ত পথিকের মত কপালে হাত
দিয়ে কাঁদতে হবে। শত কাঁদলেও সময় আর ফিরে পাবে না।
যদি তোমার জ্ঞান থাকে, তাহলে জলদি করে কবরের পুঁজি সংগ্রহ
কর, নতুবা কবরে গিয়ে তুমি কিছুই করতে পারবেনা। তোমার কোন
সাধ্য থাকবে না। তোমার দেহ, মাংস সবই মাটি হয়ে যাবে।

Tuesday, February 4, 2014

অসাধারন একটি হাদীসঃ (পড়ার পর শেয়ার করবেন)


আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা’য়ালা, ফেরেশতাগণকে আদেশ দিয়ে বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ!
“আমার বান্দা যদি কোন অসৎ কাজ করার ইচ্ছা করে,
তবে উহা পাপ হিসেবে লিখিও না, যতক্ষণ সে উহা বাস্তবায়ন না করে।
যদি উহা বাস্তবায়ন করেই ফেলে তবে মাত্র একটি পাপ লিখে দাও।
আর যদি আমার ভয়ে উহা পরিত্যাগ করে, তহালে উহা একটি সৎকাজ হিসেবে লিখে দাও।
আর যদি কোন সৎকাজের ইচ্ছা করে তবে উহা একটি সৎকাজ হিসেবে লিখে দাও।
আর যদি উহা বাস্তবায়ন করে তাহলে তা দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে লিখে দাও।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৪৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৮]

Saturday, February 1, 2014

পীর ধরতে হবে

প্রশ্নঃ
পীর ধরতে হবে এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআন শরীফে কোন নির্দেশ আছে কিনা ? , ঊত্তরঃ হ্যাঁ পীর ধরতে হবে, এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআন পাকে বহু নির্দেশ আছে । তবে পীর শব্দটি পবিত্র কোরআন পাকে নেই । কারন পীর শব্দটি ফার্সি ভাষা হতে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে । যেমনঃ নামাজ, রোজা, ফিরিস্তা, খোদা, ইত্যাদি শব্দগুলো কোরআন শরীফে-এ নেই । কারন উহা ফার্সি শব্দ , তবে এর প্রতিটি ফার্সি শব্দেরই প্রতিশব্দ কোরআন শরীফ আছে, যেমনঃ নামাজ- সালাত, রোজা- সাওম, ফিরিশ্তা-মালাকুন ইত্যাদি । আবার সালাত আরবি শব্দটি স্থান বিশেষ বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয় । অনুরূপভাবে পীর ফার্সি শব্দের প্রতিশব্দ পবিত্র কোরআন শরীফের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন শব্দে প্রকাশ করেছেন, যথাঃ 'অলি' বহুবচনে আউলিয়া, মুর্শিদ, ইমাম, বহুবচনে আইম্মা, হাদি, ছিদ্দিকিন, ইত্যাদি । , নিম্নে কিছু আয়াত শরিফের অর্থ পেশ করা হলঃ , ১) হে মুমিনগণ! তোমরা অনুস্মরণ কর, আল্লাহ্ পাক এর, তাঁর রাসুল পাক (দঃ) এর এবং তোমাদের মধ্যে যারা ধর্মীয় নেতা । (সুরাঃ নিসা, আয়াতঃ ৫৯) । , ২) স্মরণ কর! সেই দিনকে যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাঁদের (ইমাম) নেতা সহ আহ্বান করব । (বনি ইসরাইল, আয়াতঃ ৭১ )। , ৩) মুমিন পুরুষ ও মুমিনা মেয়েলোকের ভিতর হতে কতেক কতেকের বন্ধু । (সুরাঃ তাওবাহ, আয়াতঃ ৭১) । , ৪) তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে । (সুরাঃ আল-ইমরান, আয়াতঃ ৭১) । , ৫) অনুস্মরণ কর তাঁদের যারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাহে না, এবং যারা সৎ পথ প্রাপ্ত । (সুরাঃ ইমায়িন, আয়াতঃ ২১) । , ৬) যে বিশুদ্ধ চিত্তে আমার অভিমুখি হয়েছে তাঁর পথ অনুস্মরণ কর সুরাঃ লোকমান, আয়াতঃ ১৫। , ৭) জিকির সম্বন্ধে তোমাদের জানা না থাকলে জিনি জানেন তাঁর নিকট হতে জেনে নাও । (সুরাঃ আম্বিয়া, আয়াতঃ ৭)। , ৮) হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং (ছাদেকিন) সত্যবাদী গণের সঙ্গী হয়ে যাও । (সুরাঃ তাওবাহ, আয়াতঃ ১১৯) । , ৯) নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাকের রহমত (মুহসিনিন) আউলিয়া কিরামগনের নিকটবর্তী । (সুরাঃ আরাফ, আয়াতঃ ৫৬) । , ১০) আল্লাহ্ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন, সে সৎপথ প্রাপ্ত হয় এবং তিনি (আল্লাহ্) যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি কখনো তাঁর জন্য কোন পথপ্রদর্শনকারী (অলি- মুরশিদ) পাবে না । (সুরাঃ কাহাফ, আয়াতঃ ১৭) । , ১১) সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহ্র অলিগণের কোন ভয় নেই, এবং তারা কোন বিষয় এ চিন্তিতও নহে । তাঁদের জন্য আছে সুসংবাদ দুনিয়া ও আখেরাতে, আল্লাহ্র কথার কোন পরিবর্তন হয় না, উহাই মহা সাফল্য । (সুরাঃ ইউনুছ, আয়াতঃ ৬২-৬৪) । , ১২) হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ্ পাককে ভয় কর, এবং তাকে পাবার জন্য (নৈকট্য লাভের) অছিলা তালাশ কর । - (সুরাঃ মায়েদা, আয়াতঃ ৩৫) । , হে আল্লাহ আমাদের্কে সত্ত ও সঠিক জানা ও বুজার তৌফিক দান করুন এবং কামেল পীরের মুরিদ হয়ার তৌফিক দান করুন। আমাদের মদ্দে যারা পীর মুর্শিদের মান সম্মান বুজে না তাদের্কে হেদায়েত কর তুমার হেদায়েত জদি না মানে তবে তুমার গায়েবি শক্তি ধারা তুমি তাদের্কে ধংস করে দাও। আমীন ইয়া রাব্বুল আলামীন। , পড়া শেষে শেয়ার করতে ভুল কর্বেন না। , ¤নুর নবীজির গোলাম¤ , ¤বড় পীরের সৈনিক¤

Friday, January 31, 2014

প্রসঙ্গ মীলাদুন্নবী ও সীরাতুন্নবী

১২ই রবিউল আউয়াল, ঈদ-এ-মীলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করাকে নাজায়েজ বলে ফতোয়া আরোপ করছে, এবং ওই দিনে "সীরাতুন্নবী" (ﷺ) পালন করতে হবে বলে ফতোয়া দিচ্ছে, ওই মৌলভীদের জানা থাকা উচিত ছিলো যে "মীলাদুন্নবী" (ﷺ) মানার মধ্য দিয়েই "সীরাতুন্নবী" (ﷺ) প্রতিষ্ঠিত হয়।
যেমন "মীলাদুন্নবী" (ﷺ) আগে এর পরে ধারাবাহিকভাবে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ৬৩ বছরের জিন্দেগী সীরাতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

তাহলে আসুন আমরা জেনে নেই পবিত্র
ঈদ-এ-মীলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বা মীলাদুন্নবী বলতে কি বুঝায়?

"মীলাদুন্নবী" (ﷺ) মূলত ‘ঈদ’ অর্থ হচ্ছে খুশি বা আনন্দ
প্রকাশ করা।আর
‘মীলাদ’ ও ‘নবী’ দুটি শব্দ
একত্রে মিলে ‘মীলাদুন্নবী’
বলা হয়।‘মীলাদ’-এর
তিনটি শব্দ রয়েছে (মীলাদ) (মাওলিদ) ও (মাওলুদ) এ তিনটি শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো- জন্মদিন,জন্মকাল ও জন্মস্থান প্রভুতি।

অনুরূপ মিসবাহুল লুগাতের ৯৬৬ পৃষ্টায় রয়েছেঃ-

"মীলাদ"অর্থঃ জন্মের সময়,

"মাওলিদ"অর্থঃ জন্মস্থান,

"মাওলুদ" অর্থঃ ছোট শিশু।

মোট কথা মীলাদ শব্দটি জন্মকাল বা জন্মদিন ব্যতীত অন্য কোন অর্থে ব্যবহৃত হয় না।সুতরাং মীলাদুন্নবী, মাওলেদুন্নবী ও মাওলুদুন্নবী শব্দগুলীর অর্থ হলো- হুজুরপাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মদিন বা জন্মকাল।

অর্থাৎ আভিধানিক
বা শাব্দিক অর্থে
"মীলাদুন্নবী"বলতে হুজুরপাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উনার বিলাদত
শরীফকে বুঝানো হয়ে থাকে।
আর পারিভাষিক
বা ব্যবহারিক অর্থে
ﻣﻴﻼﺩ ﺍﻟﻨﺒﻰ
"মীলাদুন্নবী" বলতে (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
উনার বিলাদত শরীফ
উপলক্ষে উনার ছানা-সিফাত বর্ণনা করা,
উনার প্রতি সালাত ও সালাম পাঠ করা,উনার
পুতঃপবিত্র
জীবনী মোবারকের
সামগ্রিক বিষয়
সম্পর্কে আলোচনা করাকে বুঝানো হয়।
আর সাইয়্যেদীল
আ’ইয়াদ, পবিত্র
ঈদ-এ-মীলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
বলতে প্রাণপ্রিয়
নবীজি,হুজুরপাক
(সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
উনার বিলাদত শরীফ
উনার জন্য খুশি প্রকাশ করা,শুকরিয়া আদায়
করাকে বোঝায়।এখন এ খুশি প্রকাশ করা বিভিন্ন রকম
হতে পারে।যে কোন
নেক আমলের মাধ্যমেই এ
খুশি প্রকাশ করা যেতে পারে।তবে সবচেয়ে উত্তম
হল হুজুরপাক
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উনার পবিত্র শান মোবারকে সালাত শরীফ,সালাম শরীফ পেশ
করা,জশনে জুলুস বের করা,মীলাদ শরীফ
পাঠ করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

১২ই রবিউল আউয়াল শরীফে ঈদ-এ-মীলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবর্তে কেন সীরাতুন্নবী পালন
করা যাবে না?

পবিত্র ১২ রবিউল
আউয়াল শরীফ
যেহেতু হুজুরপাক
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
উনার বিলাদত শরীফ
উনার সাথে সংশ্লিষ্ট
বিশেষ সম্মানিত
একটি দিন।তাই এই
পবিত্র দিনে ঈদ-এ-মীলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
পালন করাই যুক্তিসংগত,
"সীরাতুন্নবী" (ﷺ) কখনো নয়।
কেননা, "সীরাতুন্নবী" যদি বলা হয়
‘সীরাত’ হচ্ছে চরিত্র
মোবারক,আচার-আচরণ, জীবন পদ্ধতি,জীবন যাপনের পন্থা,মাযহাব, তরীকা,অবস্থা,জীবনাচার, জীবনচরিত সুতরাং সীরাতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শব্দের পারিভাষিক অর্থ হলো নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবনী বা জীবনচরিতকে বুঝায়,যেটা আল্লাহ
পাক-এর হাবীব হুজুরপাক (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
উনার একটা সিফাত
বুঝানো হয়েছে সীরাতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
যখন কেউ চরিত্র
মোবারক সম্পর্কে আলোচনা করবে
তখন সেটা "সীরাতুন্নবী" হবে।যদি "সীরাতুন্নবী" বলা হয় তাহলে আল্লাহপাক-এর হাবীব হুজুরপাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
উনার ছূরতন্নবী অর্থাৎ ছূরত মোবারক কেমন ছিলো?
আল্লাহপাকের
হাবীব হুজুরপাক
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
উনার যে নূর মোবারক
ছিলো ‘নূরে হাবীবী’
তাহলে সেটার মাহফিল
করতে হবে আলাদাভাবে।
এভাবে কেউ সীরাতুন্নবী,
কেউ ছূরাতুন্নবী, (ﷺ)
কেউ মিরাজুন্নবী, (ﷺ)
কেউ হিজরতুন্নবী, (ﷺ)
কেউ জিহাদুন্নবী, (ﷺ)
কেউ রিসালাতুন্নবী, (ﷺ)
কেউ রিহালাতুন্নবী, (ﷺ)
কেউ বিছালুন্নবী, (ﷺ)
কেউ নূরুন্নবী (ﷺ) -এর মাহফিল
করবে অর্থাৎ
প্রতিটি বিষয়
আলাদা আলাদা হয়ে যাবে
এবং আলাদা আলাদা নাম
দিয়ে আলোচনা করতে হবে।যেমন উনার যেহেতু জন্ম হয়েছে আগে,পরে ৬৩ বছরের জীবনচরিত। তাই ১২ই রবিউল আউয়ালে হুজুরপাকের বিলাদত বা জন্ম হয়েছে তাই "মীলাদুন্নবী" উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করা আল্লাহর হুকুম সুরা-ইউনূসের ৫৮ নং আয়াত তাঁর প্রমাণ, এ আয়াত থেকে "মীলাদুন্নবী" তথা খুশি উদযাপন করা কথা বলা হয়েছে,"সীরাতুন্নবী" নয়।
আর যেহেতু পবিত্র
দিবসটি বিলাদত শরীফ উনার সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই
ঈদ-এ-মীলাদুন্নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অপর কোন নামে সম্বোধন করা ঠিক হবে না।
এখানে উল্লেখ করতে চাই যে "মীলাদুন্নবী" একদিনের ঘটনা নয়,আল্লাহর সৃষ্টিতে যতদিন আছে সকল দিনেরই মূল হলেন নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
সুতরাং সকল দিনেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সৃষ্টির কারণে ধন্য।মোট কথা নবীজি (আলাইহিস সালাম) আগমন দিন, মাস, কিংবা বছরের সাথে সম্পর্কিত করা যাবে না।সব কিছুই উনার উসিলায় পয়দা হয়েছে

Thursday, January 30, 2014

খাইরুল উমাম

যেভাবে আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম প্রথম থেকে আফজালুর রাসুল, অনুরূপ আমরা উম্মতে মোহাম্মদীয় প্রথম থেকে খাইরুল উমাম। আরশ-কুরসি সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ্‌-তা'আলা আমাদেরকে সাইয়িদুল মুরসালিন রাসুলে পাকের উম্মত হিসেবে নির্বাচন করেছেন। যেমন আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেছেন- তোমরা শ্রেষ্ঠতম ( উম্মতে মোহাম্মদী ) ঐসব অম্মতের মধ্যে, যাদের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে মানব জাতির মধ্যে, তোমরা সৎকাজের আদেশ দিচ্ছ এবং মন্দ কাজ থেকে বারন করেছো। এমনকি পূর্ববর্তী আসমানি কিতাব ও সহিফার মধ্যে আমাদের ফাজায়েল ও মানাকেবের বিশদ বিবরন ছিল। উম্মতে মোহাম্মদীকে কিয়ামত পর্যন্তের জন্য সর্বউত্তম উম্মত বানিয়েছেন আমাদেরকে পবিত্র কোরআন দিয়েছেন। আমাদের থেকে সিদ্দিক ,শহীদ,অলি,মুজাহিদ,ফকিহ-মুফতি,মুহাদ্দিস,মুফাসসির,আলিম,হাফেজ,বানিয়েছেন। এ সব নেয়ামত উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য সাইয়িদুল মুরসালিনের ওসিলায় হয়েছে।

সাইয়িদুশ শুহুদ

সাইয়িদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালিন (নবী-রাসুলগনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ) নবী আখেরুজ্জামানের ওসিলায় আমরা সাইয়িদুশ শুহুদ, ওয়া  সাইয়িদুশ শোহাদা' ( শ্রেষ্ঠ সাক্ষী ) হয়েছি। আমাদের সাক্ষীর বদলতে অন্য নবী রাসুলগন তাদের উম্মতের অভিযোগ ও মোকাদ্দামা হতে পরিত্রাণ পাবেন। তাদের উম্মতরা তাদের বিরুদ্দে কিয়ামত দিবসে অভিযোগ করে বলবে, হে আল্লাহ! আমাদের কাছে আপনি যে নবী পাঠিয়েছেন, উনি আমাদেরকে ঈমানের দাওয়াত দেননি। ফলে আমরা ঈমান আনতে পারিনি। আমরা যে ঈমান আনতে পারিনি, সেটা আমাদের অপরাধ নয়। বরং সেটা আপনার নবীর অপরাধ। তখন আল্লাহ ওই নবীকে ডাকবেন এবং বলবেন, তুমি কি ঈমানের দাওয়াত পৌঁছিয়েছ? তিনি (নবী) উত্তরে বলবেন, হ্যাঁ। তখন আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন তোমার পক্ষে সাক্ষী কে??
তখন তিনি উত্তর দিবেন হযরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মতগন। তখন তারা ( উম্মতে মহাম্মাদি ) সাক্ষ্য দিবেন যে, নিশ্চয় তিনি দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন। আর তখন আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাক্ষ্যকে সমর্থন করবেন।