Friday, January 23, 2026

আবুল আলা মওদূদীর

 জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা,আবুল আলা মওদূদীর ভ্রান্ত এবং কুফুরী  নবী গোনাহগার। (তাফহীমাত ২য় খন্ড ৫৭ পৃঃ)


২। মওদূদী বলেছে, নবী ও সাহাবীদের মধ্যে লোভ, লালসা, ঘৃনা-বিদ্ধেষ, কার্পন্য, স্বার্থপরতা ও প্রতিহিংসা ছিল, যার ফলে ওহুদ যুদ্ধে পরাজিত হয়েছেন। (তাফহীমুল কুরআন ২য় খন্ড পৃঃ ৬০ , ৯৯ নং টীকা।)


৩। কুরআন নাযিল হওয়ার একশত বছর পরে তা পরিবর্তন হয়ে গেছে। (কুরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা পৃঃ ১৪ ও ১৫)


৪।মওদূদী বলেছে, আমাদের নবী তাঁর রেসালতের দায়িত্ব আদায়ে ভূল ত্রুটি করেছেন। (তাফহীমুল ১৯ খন্ড পৃঃ ২৮৬ , ৪নং টীকা , কুরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা পৃঃ ১১৮)


৫। নবী عليه السلام এর মত লম্বা দাড়ি রাখা বা অন্যান্য কর্ম নবী এর মত করা মারাত্মক ধরনের বিদাত ও দ্বীনের বিপজ্জনক বিকৃতি। (রাসায়েল ও মাসায়েল ১ম খন্ড পৃঃ ১৮২ ও ১৮৩ নং)


৬। হাদীসের দ্বারা যদি বেশি কিছু অর্জিত হয় তবে সহীহ হওয়ার ধারনার উপর দৃঢ় বিশ্বাস ইয়াকিন রাখা যায় না। (তরজমানুল কুরআন পৃঃ ২৬৭ খন্ড ২৬ সংখ্যা ৩)


৭। আল্লাহ পাকের বিধান অস্বীকার করে মওদূদী বলেছিলো - "যে ক্ষেত্রে নর-নারীর অবাধ মেলামেশা সেক্ষেত্রে যেনার কারনে (আল্লাহ পাক উনার আদেশ কৃত) রজম শাস্তি প্রয়োগ করা জুলুম। (তাহফীমাত ২/২৮১)


নোট- অথচ জেনাকারীদের জন্যে রজমের শাস্তি স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই দিয়েছেন।


৮। ফেরেশতা ঐ জিনিস যাকে গ্রীক, ভারত ইত্যাদি দেশের মুশরিকরা দেব-দেবী হিসাবে স্থির করেছে। (তাজদীদ ও ইহইয়ায়ে দীন ১০ পৃ)


৯।হযরত আদম আলাইহিস সালাম মানবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত ছিলেন। (তাহফীমুল কুরআন উর্দু ,৩/১২৩)


১০। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম এর চিন্তা ধারার দিক থেকে দীনের চাহিদা থেকে সরে গিয়েছিলেন। (তাহফীমুল কুরআন ২/৩৪৪, ৩য় সংস্করন ,১৯৬৪ ইং )


১১। নবী হওয়ার পূর্বে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম দ্বারা একটি কবীরা গুনাহ হয়েছিলো। (রাসায়েল ও মাসায়েল ১/৩১)


১২। মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক দুর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। অর্থাৎ তিনি মানবিক দুর্বলতার বশিভুত হয়ে গুনাহ করেছিলেন। (তরজমানুল কুরআন , ৮৫ সংখ্যা , ২৩০ পৃষ্ঠা , তরজমানুস সুন্নাহ ৩/৩০৫ )


১৩। কোরআনুল কারীম নাজাতের জন্য নয়; নিছক হেদায়াতের জন্য।  (তাফহীমুল কোরআন ১ম খন্ড, ৩২১ পৃষ্ঠা)


১৪। হযরত আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু খিলাফতের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অযোগ্য ছিলেন| (তাজদীদ ও এহহীয়ায়ে দীন ২২ পৃ )


১৫। হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার মাঝে স্বজন প্রীতীর বদগুন বিদ্যমান ছিলো। (খেলাফত ও মুলকিয়াত ৯৯ পৃ )


১৬। হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু খেলাফত কালে এমন কিছু কাজ করেছেন যাকে অন্যায় বলা ছাড়া উপায় নাই ! ( খেলাফত এ মুলকিয়াত ১৪৬ পৃ)


১৭। হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু স্বর্থবাদী, গনিমতের মাল আত্বসাৎকারী, মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহনকারী ও অত্যাচারী ছিলেন। (খেলাফত ও মুলকিয়াত ১৭৩ পৃ)


১৮। সাহাবায়ে কিরাম অনেকে মনগড়া হাদীস বর্ননা করেছেন। (তরজুমানুল কুরআন ,৩৫ সংখ্যা)


১৯। হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তৎকালীন যুগে ইসরাঈলী সোসাইটি দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এক বিবাহীত যুবতীর উপর আসক্ত হয়ে তাকে বিবাহ করার জন্য তার স্বামীর নিকট তালাকের আবেদন করেছিলেন (তাহফিমাত ২/৪২, ২য় সংস্করণ , নির্বাচিত রচনাবলী ২/৭৩ , আধুনিক প্রকাশনী ১ম প্রকাশ ১৯৯১ ইং)


২০। হযরত দাউদ আলাইহিসসালাম উনার কাজের মধ্যে নফস ও অভ্যন্তরীন কুপ্রবৃত্তির কিছুটা দখল ছিলো ( তাহফীমুল কুরআন উর্দু, ৪/৩২৭, সূরা রাদ এর তাফসীর , অক্টোবর ১৯৬৬, ১ম সংস্করণ )


২১। রাসূলে কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়তের ২৩ বছরের দায়িত্ব পালনে অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি করেছেন। (তাফহীমুল কোরআন: ১৯ তম খন্ড ২৯০ পৃষ্ঠা, আবদুল মান্নান তালিব অনুদিত)


২২। রাসূল না অতিমানব না মানবীয় দুর্বলতা থেকে মুক্ত। তিনি যেমন খোদার ধনভান্ডারের মালিক নন, তেমনি খোদার অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী নন বলে সর্বজ্ঞও নন। তিনি অপরের কল্যাণ বা অকল্যাণ সাধন তো দূরে, নিজের কোন কল্যাণ বা অকল্যাণ করতেও অক্ষম। (সূত্র: লন্ডনের ভাষণ: সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী, মুদ্রণে: অরিয়েন্টাল প্রেস, ১৩, কারকুনবাড়ি লেন, ঢাকা। প্রথম মুদ্রণ ১১ অক্টোবর, ১৯৭৬ ইং)


২৩। দাজ্জাল কখন কোথায় আবির্ভূত হবে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানানো হয়নি। তিনি দাজ্জাল সম্পর্কে যা বলেছেন- প্রকৃতপক্ষে তা তাঁর কাল্পনিক ও অনুমান মাত্র। এ ব্যাপারে তিনি নিজেও সন্দিহান ছিলেন। (সূত্র:তরজুমানুল কোরআন- পৃষ্ঠা ৪৬)


২৪। আলেম ব্যক্তির জন্য ‘তাক্বলীদ’ বা মাযহাব গ্রহণ কবীরা গুনাহ; বরং তার চেয়েও জঘন্য। (ইসলামী রেনেঁসা আন্দোলন)


২৫। কোন নবী বা অলীর মাজার জেয়ারত করার উদ্দেশ্যে সফর করা হারাম (ইবনে তাইমিয়া, মওদুদী ও মৌং আবদুর রহীম) 


২৫। কোরআন বুঝার জন্য কোন তাফসীরের প্রয়োজন নেই। একজন দক্ষ প্রফেসরই যথেষ্ট। (তানক্বীহাত, পৃষ্ঠা ৩১২)


২৬। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরবের মধ্যে যে বিশেষ সফলতা অর্জিত হয়েছে, তার কারণ এটাই ছিল যে, তাঁর ভাগ্যে আরবের উত্তম মানবীয় পূঁজি জোটে ছিল। তিনি যদি সাহসহীন, দুর্বল ইচ্ছা শক্তি সম্পন্ন অযোগ্য মানুষের দল পেতেন তারপরও কি এ সফলতা অর্জন হতো? (তাহরীকে ইসলামী কি আখলাকী বুনিয়াদী, পৃষ্ঠা: ১৭)


২৭। ইসলাম কোন ধর্ম নয়, বরং জিহাদের নাম। নামায কোন ইবাদাত নয় বরং জিহাদের ট্রেনিং মাত্র। (নামাযের হাকীকত: মওদুদী)


এমন আক্বীদা কি কোন মুসলিম ব্যক্তি পোষন করতে পারে?


এরা কোন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়?


এরা পবিত্র ধর্ম ইসলামের নাম ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারনা করছে যুগ যুগ যাবত। এই কুলাঙ্গার ও ভন্ডদের প্রতিহত করা মুমিন মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব।


আল্লাহ পাক আমাদের এদের ফিতনা থেকে হেফাযত করুন। আমিন বিযাহী সাইয়িদিল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

Wednesday, May 21, 2025

ইনকামে বরকত

 ইনকামে বরকত পাচ্ছিনা এই অভিযোগ নিয়ে একদিন আমার এক প্রিয় উস্তাযের (মেন্টর) কাছে গেলাম। কোনো কিছু নিয়ে দ্বিধান্বিত-কনফিউজড কিংবা অশান্তিতে থাকলে তার সাথে কথা বললে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি আমি পাই।

তো একবার এইরকম একটা ডাউট নিয়ে আমি মেন্টরের সাথে দেখা করলাম।
আমাকে দুধ এবং চিনি ছাড়া স্রেফ গরম পানিতে ডুবানো একটা টি প‍্যাক এগিয়ে দিয়ে বললেন-, বাবু আছো কেমন?
আমি কিছুটা আড়ষ্টতা নিয়ে তাকে বললাম, কনফিউজড উস্তায!
তিনি আমার চেহারার দিকে গভীর ভাবে তাকালেন, মিনিট খানেক। তারপর চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন-কি নিয়া পেরেশানিতে আছো?
আমি তার আরো একটু সামনে এসে নিচু কন্ঠে বললাম-উস্তায, আমার ইনকাম নিয়া আমি দ্বিধায় আছি। আমি সৎ পথে উপার্জন করি। পেশাগত কাজে পারলে ২০০ ভাগ নিবেদন দিয়ে কাজ করি। তারপরও কেন জানি এতো বছর কাজ করার পরও আমার মনে হয়ে যে আমার উপার্জনে কোনো বরকত পাচ্ছিনা।
উস্তায মন দিয়ে আমার কথা শুনলেন, তারপর জিজ্ঞেস করলেন
-কেন তোমার এমন মনে হচ্ছে?
আমি এবার বললাম, যে আমার সেভিংস হচ্ছেনা। প্রতিবছর যেমন আয় বাড়ছে, তেমনি খরচও বাড়ছে।
উস্তায আবার কী মনে করে যেন আমার ডান হাতটা তার হাতে নিলেন। তারপর আবার গভীর ভাবে আমার কপাল আর চোখের দিকে তাকালেন। প্রশ্ন করলেন
-কিসের খরচ বাড়ছে তোমার?
-এই ‍যেমন বাচ্চাদের এডুকেশন-ওদের স্কুলের বেতন, ওদের টিচারদের বেতন, কিছু অস্বচ্ছল আত্নীয় স্বজনদের খরচ।
-কোন স্কুলে পড়ে তোমার বাচ্চারা?
-আমি স্কুলের নাম বললাম।
-তানভীর, তুমি কি মনে করো, শুধু ব‍্যাংকে জমা বাড়া মানেই আয়ের বরকত?
আমি আমতা আমতা করি।
-এই যে তুমি সেরা একটা স্কুলে তোমার বাচ্চাদের পড়াতে পারছ, এটা কি বরকত নয়? কয়জন বাবা-মা এরকম ভালো স্কুলে তার বাচ্চাদের পড়াতে পারছে?
হ‍্যাঁ, তা তো ঠিক। আমি মাথা নাড়ি।
-তোমার বাচ্চারা কেমন? ওরা কি উচ্ছৃংখল? তোমাদের কথা বার্তা শোনেনা?
-না, না উস্তায। খুব লক্ষি বাচ্চা ওরা।
-এটা কি বরকত নয়, তানভীর?
-জি, অবশ‍্যই।
-বিগত ৫/৭ বছরে তোমার পরিবারে কেউ বড় রকম অসুস্থ হইছে? বা তুমি নিজে?
-না উস্তায, আল্লাহর রহমতে কেউ ওরকম সিরিয়াস অসুস্থ হয়নাই। আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়েছিল, আল্লাহর রহমতে দ্রুত সুস্থ হয়ে গেছে।
-হাসপাতালে ভর্তি করাতে হইছিল?
-না উস্তায, আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়েছে।
-এই যে তোমরা সুস্থ আছো, এটা কি বরকত না, আমার মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করেন তিনি।
-জি অবশ‍্যই।
-বাবু , তোমার স্ত্রী কেমন মানুষ? সে কি তোমার সাথে সদাচারণ করে? তোমার খেয়াল রাখে? সে কী উন্নত চরিত্রের নয়?
-না না, উস্তায। সে অসাধারণ উন্নত চরিত্রের মানুষ। সে শুধু আমাকেই নয়। আমার সন্তাদের, আমার বাবার, আত্নীয় স্বজনেরও যত্ন নেয।
-আর কী বরকত চাও, তুমি? পরিবারে শান্তির চেয়ে বড় বরকত কী হতে পারে?
-জি উস্তায, আমি আসলে এভাবে গভীরে গিয়া চিন্তা করিনাই।
-তোমার বাবা-মা আছেন?
-বাবা নেই, মা আছেন?
-বাবা কি তোমার সাথে থাকেন, নাকি আলাদা থাকেন?
-আমার সাথে থাকেন, উস্তায। আমার সাথে।
-তোমার মা তোমার সাথে থাকেন, এ যুগে বাবা-মা সাথে থাকা, কত বড় বরকত তানভীর, তুমি টের পাওনা?
-টের পাই উস্তায। টেরপাই। মা সাথে আছেন, এইটা
অনেক বড় বারাকা, উস্তায।
তিনি আর কথা বাড়ান না। আমাকে বুকে জড়াই ধরেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। তারপর বলেন, জীবনে টাকা পয়সা-ধনসম্পদ বৃদ্ধিই শুধু বরকত না। জীবনে তুমি সুস্থ আছো, তোমার একটা সুন্দর পরিবার আছে, তুমি তাদের এবং তারা তোমার দেখভাল করতে পারছে-এটাও বরকত। জীবনে তুমি সঠিক জ্ঞানের আলো পাচ্ছ-এটাও বরকত। আত্নীয় স্বজনের খবর নিতে পারছ-এটাও বরকত। প্রতিদিন মার চেহারা দেখতে পাচ্ছ-এটাও বরকত।
-তুমি টাকা পয়সা ব‍্যাংকে জমাইয়া কী এরচেয়ে বেশি বরকত পাবে, বাবু ?
-উস্তায, আপনি ঠিক বলছেন।

Thursday, February 6, 2025

আবুল আলা মওদূদীর ভ্রান্ত এবং কুফুরী আক্বীদা সমূহ

 আপনি মুসলমান না জামাত? 

আমরা কেন জামাতের বিরোধিতা করি??


সেটা কি রাজনৈতিক স্বার্থে নাকি ধর্মীয় স্বার্থে??

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা,

আবুল আলা মওদূদীর ভ্রান্ত এবং কুফুরী আক্বীদা সমূহ রেফারেন্সসহ নিম্নে পেশ করা হলো।


১।মওদূদী বলেছে, সমস্ত নবী গোনাহগার। (তাফহীমাত ২য় খন্ড ৫৭ পৃঃ)


২। মওদূদী বলেছে, নবী ও সাহাবীদের মধ্যে লোভ, লালসা, ঘৃনা-বিদ্ধেষ, কার্পন্য, স্বার্থপরতা ও প্রতিহিংসা ছিল, যার ফলে ওহুদ যুদ্ধে পরাজিত হয়েছেন। (তাফহীমুল কুরআন ২য় খন্ড পৃঃ ৬০ , ৯৯ নং টীকা।)


৩। কুরআন নাযিল হওয়ার একশত বছর পরে তা পরিবর্তন হয়ে গেছে। (কুরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা পৃঃ ১৪ ও ১৫)


৪।মওদূদী বলেছে, আমাদের নবী তাঁর রেসালতের দায়িত্ব আদায়ে ভূল ত্রুটি করেছেন। (তাফহীমুল ১৯ খন্ড পৃঃ ২৮৬ , ৪নং টীকা , কুরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা পৃঃ ১১৮)


৫। নবী عليه السلام এর মত লম্বা দাড়ি রাখা বা অন্যান্য কর্ম নবী এর মত করা মারাত্মক ধরনের বিদাত ও দ্বীনের বিপজ্জনক বিকৃতি। (রাসায়েল ও মাসায়েল ১ম খন্ড পৃঃ ১৮২ ও ১৮৩ নং)


৬। হাদীসের দ্বারা যদি বেশি কিছু অর্জিত হয় তবে সহীহ হওয়ার ধারনার উপর দৃঢ় বিশ্বাস ইয়াকিন রাখা যায় না। (তরজমানুল কুরআন পৃঃ ২৬৭ খন্ড ২৬ সংখ্যা ৩)


৭। আল্লাহ পাকের বিধান অস্বীকার করে মওদূদী বলেছিলো - "যে ক্ষেত্রে নর-নারীর অবাধ মেলামেশা সেক্ষেত্রে যেনার কারনে (আল্লাহ পাক উনার আদেশ কৃত) রজম শাস্তি প্রয়োগ করা জুলুম। (তাহফীমাত ২/২৮১)


নোট- অথচ জেনাকারীদের জন্যে রজমের শাস্তি স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই দিয়েছেন।


৮। ফেরেশতা ঐ জিনিস যাকে গ্রীক, ভারত ইত্যাদি দেশের মুশরিকরা দেব-দেবী হিসাবে স্থির করেছে। (তাজদীদ ও ইহইয়ায়ে দীন ১০ পৃ)


৯।হযরত আদম আলাইহিস সালাম মানবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত ছিলেন। (তাহফীমুল কুরআন উর্দু ,৩/১২৩)


১০। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম এর চিন্তা ধারার দিক থেকে দীনের চাহিদা থেকে সরে গিয়েছিলেন। (তাহফীমুল কুরআন ২/৩৪৪, ৩য় সংস্করন ,১৯৬৪ ইং )


১১। নবী হওয়ার পূর্বে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম দ্বারা একটি কবীরা গুনাহ হয়েছিলো। (রাসায়েল ও মাসায়েল ১/৩১)


১২। মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক দুর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। অথাৎ তিনি মানবিক দুর্বলতার বশিভুত হয়ে গুনাহ করেছিলেন। (তরজমানুল কুরআন , ৮৫ সংখ্যা , ২৩০ পৃষ্ঠা , তরজমানুস সুন্নাহ ৩/৩০৫ )


পর্ব-১

চলবে.....

Sunday, July 14, 2024

বিশ্বখ্যাত প্রজ্ঞাবান হযরত লোকমান হাকীম

এক সাহসী রাজা বন্ধু হযরত লোকমান হাকীমের ছিলেন। রাজা যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হযরত লোকমান হাকীমের পরামর্শ অনুসারে সম্পন্ন করতেন। তাছাড়া, ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন সমস্যা আসলে তা থেকে উত্তরণের জন্য হাকীম লোকমানের শরণাপন্ন হয়ে সমাধান খুঁজতেন এবং তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ দিক-নির্দেশনা নিয়ে আশাতীত উপকৃত হতেন।


রাজা একদা রাজ্যের প্রসিদ্ধ সোনা বনে হরিণ শিকারে গিয়েছিলেন। তিনি এক পর্যায়ে একাকী বনের গভীরে গিয়ে পৌঁছে যান।


বনের একটি বড় গাছের আড়াল থেকে এক নারীর কন্ঠে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসলো। সাহসী রাজা উচ্চস্বরে বললেন, "কে তুমি? মানুষ, নাকি জিন্? সামনে এসো, দেখি তোমার সমস্যার সমাধান আমি করতে পারি কিনা।" উত্তর

আসলো- "আমিও আপনার মতো মানুষ। তবে আমি এক নারী। আমি আপনার সামনে আসতে পারছিনা। কারণ, আমি বিবস্ত্র। আমাকে এক টুকরা কাপড় দিতে পারলে আমি তা পরিধান করে আপনার সামনে আসতে পারি।" রাজা তাঁর মাথার পাগড়িটা খুলে বৃক্ষটির অপর প্রান্তের দিকে ছুঁড়ে মারলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে নারীটি ওই সাদা বস্ত্র পরিধান করে রাজার সামনে আসলো। তিনি বললেন, “তুমি এখানে কিভাবে আসলে? তোমার পরিচয় কি?” নারীটি বললো, "আমিও আপনার মতো মানুষ। এখানে কিভাবে এসেছি তা আমার জানা নেই। তবে সে নিজের নাম বললো 'কোঁয়া কোঁয়া'।


এ অতি সুন্দরী নারীটার অসহায়ত্বের কথা ভেবে রাজা বললেন, "তুমি চাইলে আমার সাথে আমার রাজ্যে আমার মহলে চলে যেতে পারো।” নারীটা বললো, "আমি আপনার সাথে যেতে রাজি। তবে আপনি আমাকে বিয়ে করলেই আমি আপনার সঙ্গে যেতে পারবো। অন্যথায় না।” রাজা কিছুক্ষণ নিশ্চুপ র'য়ে চিন্তা করলেন, আর বললেন, “ঠিক আছে। তুমি আমার সাথে চলো। রাজ দরবারে গিয়ে বিয়ের কাজ সমাধা করবো।” সফর  সঙ্গীদের প্রশ্নের জবাবেও তিনি বললেন, এ নারী আমার দ্বিতীয় রাণী হবে। রাজ দরবারে পৌঁছলে প্রথম রাণীকেও তিনি একই জবাব দিলেন এবং নিয়ম মাফিক বিয়েও সম্পন্ন হলো। নতুন রাণীর জন্য রাজা পৃথক দালান তথা বাসস্থানের ব্যবস্থা করলেন। নতুন রাণীকে পেয়ে রাজা খুব খুশী। আনন্দের আতিশয্যে তিনি অন্য সবাইকে, এমনকি ■ তাঁর পরম বন্ধু হাকীম লোকমানকেও ভুলে - গেলেন। এভাবে সময় অতিবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে এরপর রাজ্যে এক নতুন সমস্যা ও বিপর্যয় দেখা দিলো। প্রতি রাতে প্রজাদের গোয়ালের গরু, মহিষ ও ছাগল ইত্যাদি খোয়া  যাচ্ছিলো। চতুর্দিক থেকে অভিযোগ আসছিলো। কোন্ অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে এমন বিপর্যয় ঘটছে তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছিলো না। এবার এহেন করুণ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে গিয়ে রাজার হাকীম বন্ধু (লোকমান হাকীম)-এর কথা স্মরণ হলো। সুতরাং তিনি লোকমান হাকীমের শরণাপন্ন হলেন এবং যাবতীয় ঘটনা বর্ণনা করলেন।


ইতোপূর্বে রাজা না জানালেও হযরত লোকমান হাকীম সব ঘটনা জানতেন। নতুন রাণীর বংশ পরিচয়সহ তাঁর জানা ছিলো। তিনি রাজাকে বললেন, "আমাকে প্রাসাদে নিয়ে চলুন এবং আপনার নতুন রাণীর হাতে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করুন।” সুতরাং প্রাসাদে আসার পর রাজা রাণীকে বললেন, "ইনি আমার বন্ধু লোকমান হাকীম, তিনি তোমার হাতে এক গ্লাস পানি চাচ্ছেন।” রাণী পানি নিয়ে আসতেই হাকীম লোকমানকে দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। কারণ, এ রাক্ষসী জানতো, এ হাকীমই তার রাক্ষসী মাকে তাঁরই তৈরীকৃত এক ধরনের পাউডার ছিঁটিয়ে হত্যা করেছিলো। তখন সে ছোট ছিলো। তাকে তার মা একটি গাছের গর্তে রেখে খাবারের তালাশে বের হয়েছিলো। বাইরে তার মায়ের আর্তনাদ শুনে বের হয়ে আসলে মরতের মরতে তার মা এক হাকীমের কথা বলে গিয়েছিল।  রাণীর এহেন আচরণ দেখে লোকমান হাকীমকে বললেন, "আপনি কি আমার রাণীকে চিনেন? আসল অবস্থা সম্পর্কে বলুন।" হাকীম লোকমান রাণীর সামনে শুধু হাসছিলেন। প্রথমে কিছুই বলেননি। রাণী প্রস্থান করলে হাকীম লোকমান বললেন, "বন্ধু, আপনি এ'কে রাণী বানিয়ে আপনার রাজ্যে ও প্রাসাদে এনে চরম ভুল করেছেন। কারণ, সে কোন মানুষ নয়; বরং এক  রাক্ষুসী (জিন)। আপনাকে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় - রেখে প্রাসাদ থেকে বের হয়ে রাজ্যের পশুগুলো আহার করছে। সে ওই জঙ্গলের সব পশু সাবাড় করে লোকালয়ে এসে তার আহার সংগ্রহের জন্য পথ খুঁজছিলো। তখন আপনাকে পেয়ে আপনার হাত ধরে এ রাজ্যে ঢুকেছে। আপনি আমার পরামর্শ ছাড়া যেহেতু এ কাজটা করেছেন, সেহেতু ভুলের মাসুলতো কিছু দিতেই হচ্ছে।"


রাজা এ কথা শুনে দারুণভাবে ভীত হয়ে পড়লেন। আর প্রাসাদে নতুন রাণীর সাথ থাকতে ভয় পাচ্ছিলেন। তিনি হাকীম লোকমানকে বললেন, "আমাকে এবং আমার রাজ্যটাকে এ রাক্ষসীর হাত থেকে বাঁচান।" হাকীম বললেন, "সেটারও ব্যবস্থা হবে; কিন্তু আপনাকে তজ্জন্য কিছু কাজ করতে হবে। তা হচ্ছে- নতুন রাণীকে নিয়ে সমুদ্র ভ্রমণে যেতে হবে। তাও 'বাহরে কুলযম' সমুদ্রে। কথিত আছে যে, ওই সমুদ্রে যেমন তলদেশ নেই, তেমনি সেটার পানির উপরেও ভারী কোন জিনিষ স্থির থাকে না। তাই একটি দ্বিতল বেতের জাহাজ তৈরী করতে হবে।" সুতরাং তাই করা হলো।


নতুন রাণীকে ওই বেতের জাহাজ করে কুলযম  সমুদ্রে ভ্রমণের প্রস্তাব দেওয়া হলো এবং বলা হলো যে, ওই ভ্রমণে রাজার বন্ধু লোকমান হাকীমও যাবেন। প্রস্তাব শুনে রাণী রাজী হলো- এ শর্তে যে, তিনি নিচের তলায় থাকবেন, উপরের তলায় উঠতে পারবেন না। কারণ উপরের তলায়. থাকবেন রাজা ও নতুন রাণী। তাছাড়া, রাণীও মনে মনে ভাবলেন যে, সুযোগ বুঝে হাকীম সাহেবকে সমুদ্রে ডুবিয়ে মেরে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এদিকে আর লোকমান হাকীমও রাক্ষসী রাণীকে চিরদিনের জন্য সমুদ্রে আটকে দেওয়ার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন।  যথাসময়ে সামুদ্রিক ভ্রমণ আরম্ভ হলো। জাহাজ উ যখন কুলযম সমুদ্রের গভীরের দিকে যাচ্ছিলো, তখন নিচের তলা থেকে হাকীম লোকমান রাণী কোঁয়া কোয়াঁর উদ্দেশে বললেন, "আমি জেনেছি যে, কুলযম সমুদ্রের নাকি তলা নেই। এ সম্পর্কে ভাবী সাহেবা! আপনার অভিমত কি?" রাণী কোঁয়া কোঁয়া বিরক্তির সুরে বললো, "এসব ভিত্তিহীন কথা। তলদেশ না থাকলে এত পানি কিসের উপর রয়েছে?" হাকীম বললেন, "আপনি কি এ কথা প্রমাণ করতে পারবেন যে, এ সমুদ্রের তলদেশ আছে?" রাণী বললেন, "অবশ্যই পারবো। তাও এভাবে যে, আমি নাগিনী (সাপ) হয়ে সমুদ্রে নামবো। আর আমার লেজ থাকবে পানির উপরি ভাগে আপনার হাতে। আমি সমুদ্রের তলদেশে পৌঁছে আমার লেজে নাড়া দেবো। অথবা আমার মুখে করে সমুদ্রের তলদেশ থেকে মাটি নিয়ে আসবো। এভাবে আমি আমার দাবীর বাস্তবতা প্রতিষ্ঠা করবো।" যেমন কথা তেমন কাজ। রাণী অমনি সাপ হয়ে সমুদ্রে নেমে গেলো। কিছুক্ষণ পর পানির  

উপরিভাগে সেটা আপন লেজে নাড়া দিলো। আর বুঝাতে চাইলো যে, সে সমুদ্রের তলদেশে পৌঁছে গেছে। এ দিকে হাকীম লোকমান তাঁর সাথে রাখা এক শিশি ঔষধ সাপটির লেজের চতুর্পাশে পানিতে ঢেলে দিলেন। অমনি লেজের চতুর্পাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পানি পাথর হয়ে গেলো এবং সাপটি আটকা পড়ে গেলো। এরপর হাকীম সেখানে আরো কিছু ঔষধ পানিতে ফেলে দিলেন। ফলে আরো বিশাল এলাকা পাথর হয়ে গেলো এরপর চিরদিনের জন্য সাপটি, তথা কোঁয়া কোঁয়া রাক্ষসী সমুদ্রে আটকা পড়ে গেলো। এভাবে রাজা ও তাঁর রাজ্য এ রাক্ষসীর হাত থেকে মুক্তি পেলো।

Monday, November 1, 2021

হযরত আলাউদ্দিন আহমদ সাবের কালিয়ার (র) বড় পীরের পর সবচেয়ে জালালি ফায়েজের আউলিয়া।।

 হযরত আলাউদ্দিন আহমদ সাবের কালিয়ার (র) বড় পীরের পর সবচেয়ে জালালি ফায়েজের আউলিয়া। বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানি (র) এর আপন নাতি। বড় পীরের পর তিনি হলেন সর্বাধিক জালালি তবীয়তের আউলিয়া। হযরত ইমাম জাফর সাদেক (র) বলেন "আল্লাহ্‌র অলি-আউলিয়াদের মধ্যে দুইটা অতি ধারালো খোলা তরবারি আছে, একটা হল বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানি (র) আর আরেকজন হল তাহার নাতি আলাউদ্দিন সাবের কালিয়ার (র)। যদি কোন ব্যাক্তি এই দুইজনের সাথে সামান্যতম বেয়াদবিও করে তাহলে আল্লাহর জালালি তেজে সে সাথে সাথে দুই খণ্ড হয়ে যাবে"। সাবের পাকের জালালি এতই বেশি ছিল যে তিনি যদি কাউকে লক্ষ করে একবার উচ্চারণ করতেন যে "লোকটির আচরণ ভালো না" তাহলে সাথে সাথে সেই লোক দুই খণ্ড হয়ে যেত। আর যদি সাবের পাক কখনও রেগে যেতেন তাহলে উক্ত এলাকা জ্বলে পুড়ে ছাড়-খার হয়ে যেত কেউ আর প্রানে বাঁচত না।সাবেরপাকের অসম্ভব জালালির কারনে তাহার মুর্শিদ শেখ ফরিদও তাহার সাথে রীতিমত কথা বলতে ভয় পেতেন এই ভেবে যদি সাবেরপাক কখনও খেপে যান।


 সাবের পাক একবার ক্ষেপে গেলে ৬ মাসের আগে তার সামনে কেউ আসতে পারত না।যদি কেউ এই সময় ভুলেও দেখা করতে যেত তাহলে আর প্রান নিয়ে ফিরতে পারত না সে যত বড় আল্লাহর অলি হোক না কেন। সাবেরপাকের শরীরের যদিও কেউ অজু ছাড়া স্পর্শও করত তাহলে তার গায়ে সঙ্গে সঙ্গে আগুনের জ্বালা-পোরা শুরু হয়ে যেত। সাবের পাকের এই অসম্ভব জালালির কারনে কেউই তার কাছে মুরিদ হইতে সাহস পেত না। সাবের পাক জীবিত থাকাকালিন শামসুদ্দিন তুর্কি পানিপথি নামের এক ব্যাক্তিকে শুধু মুরিদ করেছিলেন। এই ব্যাক্তি থেকে পরবর্তী সময়ে তাহার সিলসিলা চালু হয়ে আজ পর্যন্ত চালু হয়ে আছে। সাবেরপাকের ইন্তেকালের পর তার রওজাশরিফ ৪০ দিন এক পর্যন্ত একসিংহ পাহারা দিয়ে হটাৎ গায়েব হয়ে যায়। 

হযরত খাজা আলাউদ্দিন আহমেদ সাবের কালিয়ার (র)
জন্মঃ- ১৯ শে রবিউল আউয়াল ৫৯২ হিজরি
পর্দা-গ্রহনঃ-১৩ই রবিউল
পিতাঃ- হযরত আব্দুল রহিম (র)
মাতাঃ- হযরত জামিলা খাতুন (র)
পদবীঃ- কুতুবে আউলিয়া ,হযরত গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানি (র) এর আপন নাতী
মাজার শরিফঃ- ভারতের উত্তর-খণ্ড প্রদেশের কালিয়ায়র নামক শহরে।
তরিকাঃ- চিশতিয়া
পীর কেবলাঃ-হযরত শেখ ফরিদ (র)
ধর্মঃ- ইসলাম (সুন্নি)
সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ- জন্মের কয়েক বছর পর পিতা মারা গেলে শিশু সাবের আহমেদ ও তার মা অর্থ-নৈতিক দিক থেকে অসহায় হয়ে পড়েন।তারা উভয়েই দিনের বেলায় রোজা রাখতেন এবং রাতের বেলায় শুকনা রুটি দিয়ে ইফতার করতেন।ছোটবেলা থেকেই সাবের আহমদের মাঝে আল্লাহ্‌র অলৌকিক ক্ষমতা প্রকাশ পেতে থাকলে তাহার মাতা তাকে স্বীয় আপন ভাই হযরত শেখ ফরিদ (র) এর কাছে উচ্চতর সাধনার জন্য প্রেরন করেন।পরবর্তী-কালে তাহার ভাই সাবের আহমেদ (র) কে আপন মুরিদ করে নেন।কথিত আছে হযরত সাবের কালিয়ার এর অসম্ভব জালালির কারনে তার পীর কেবলা হযরত শেখ ফরিদ ও তাহাকে খুব ভয় পেতেন।ধীরে ধীরে বাবা শেখ ফরিদের তত্ত্বাবধানে সাবের আহমেদ ইল মে তাসাউফের উচ্চ শিখর লাভ করেন।পরবর্তীতে ভারতের কালিয়ার নামক স্থানে পর্দা গ্রহন করেন।
অলৌকিক কারামতঃ-
১। জন্মের সময় কারামতঃ- কথিত আছে যে বাবা সাবের আহমেদ যখন জন্ম নেন,তখন তার দায়ী মা তাকে অজু ছাড়া কোলে নিলে দায়ী মার সারা শরীরে সঙ্গে সঙ্গে জালা-পোড়া শুরু হয়ে যায়।

২। ১২ বছর অনাহারঃ-সাবের আহমেদকে তাহার মামা লঙ্গর-খানা পরিচালনার দায়িত্ব দিলে তিনি একটানা ১২ বছর সেই লঙ্গর খানা থেকে কোন খাবার গ্রহন করেন নি। এতে তার দেহ কঙ্কাল-সার হয়ে গেলে তার মামা শেখ ফরিদ জিজ্ঞাস করলেন"তোমাকে আমি পুরো লঙ্গর খানার দায়িত্ব দিলাম,তবুও তোমার শরীরের এই বেহাল অবস্থা কেন??" উত্তরে সাবের আহমেদ বললেন" আপনি আমাকে লংগর খানা দেখা শুনার কেবল দায়িত্ব দিয়ে ছিলেন,কিন্তু সেখান থেকে খাবার খাওয়ার কোন অনুমতি দেন নি,তাই আমি এত দিন না খেয়ে কাটিয়েছি"। এই উচ্চ পর্যায়ের সততার কথা শুনে শেখ ফরিদ (র) খুব অবাক হয়ে পড়েন।
৩। কেউ সামান্য বেদবি করলে তার নির্ঘাত মৃত্যুঃ- আল্লাহপাক তাকে এতই জালালি স্বভাব দান করেছিলেন যে তিনি যদি মুখে একবার উচ্চারণ করতেন যে লোকটির আচরণ ভাল না,তাহলে সাথে সাথেই সেই লোকটি দুই খণ্ড হয়ে যেত,তার আর প্রানে বাঁচার উপায় থাকত না
৪।সম্পূর্ণ কালিয়ার শহর ধ্বংসঃ- তাহার পীর কেবলা অর্থাৎ আপন মামা হযরত শেখ ফরিদ (র) তাকে খিলাফত দিয়ে কালিয়ার শহরের কুতুব (প্রধান ধর্মীয় নেতা)নিযুক্ত করেন।কিন্তু কালিয়ার শহরের কাজী তবারক তাকে সাধারন এক রাস্তার ফকির ভেবে খুব তাচ্ছিল্য করে এমন কি মসজিদে নামাজ পড়ার সময় তাকে ঘাড় ধরে বের করে দেন।এতে বাবা সাবের এর ধৈর্যের বান ভেঙ্গে গেলে তিনি কেবল এইটুকুই উচ্চারণ করেন যে "সব ধ্বংস হোক"।ফলে এক প্রচণ্ড ভুমিকম্পে সমগ্র কালিয়ার প্রদেশ ৫ মিনিটে ধূলিসাৎ হয়ে যায়।সেদিন ঐ কালিয়ার শহরে একটি গাছ ছাড়া আর কিছুই অক্ষত ছিল না। ভূমি-কম্পে সেই গাছ অক্ষত থাকার কারন হল সেই গাছের নীচে কালিয়ার আসার পর বাবা সাবের কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে ছিলেন। আজো সেই গাছকে মানুষ পরম শ্রদ্ধার চোখে দেখে থাকে।
৫।মৃত ছাগলের কথা বলাঃ-কাজী তবারক হিন্সার বশবর্তী হয়ে বাবা সাবেরকে পরীক্ষা করার জন্য জন সম্মুখে বাবা সাবেরকে বললেন যে " আমার তিন মাস আগে একটি ছাগল হারানো গেছে,তুমি যদি তার খবর বলতে পার তাহলে আমি মেনে নিব তুমি সত্যি আল্লাহর অলি"।বাবা সাবের এই কথা শুনে কেবল এই বলে ডাক দিলেন যে "যারা কাজী সাহেবের ছাগল খেয়েছ তারা আমার সামনে হাজির হও"সাথে ২৭ জন লোক আপনা আপনি বাবার সামনে হাজীর হন।এরপর বাবা সাবের কাজী সাহেবকে তার ছাগলের নাম ধরে ডাক দিতে বললে,কাজী সাহবের ডাকে ২৭ জনের পেট থেকে ছাগল কথা বলা শুরু করে দিল। এই আশ্চর্য কারামত দেখে কাজী তবারক হিংসায় তাকে যাদু কর বলে আখ্যা দিলেন। এতে বাবা সাবের কিছুই মনে করলেন না।
৬ ।স্ত্রীর গায়ে আগুন লাগাঃ- বাবা সাবের সব সময় আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন।এজন্য চার পাশে কি ঘটছে তা তার কোন খেয়াল থাকতো না।একবার বাবা সাবের এর মায়ের অনু-রোধে তার মামা শেখ ফরিদ তাহার নিজের কন্যার সাথে বাবা সাবেরের বিয়ে দেন।কিন্তু বাসর রাতে যখন তাহার স্ত্রী তাহার নিকট গমন করলে বাবা সাবের জিজ্ঞেস করলেন"তুমি কে?" তাহার স্ত্রী বললেন "আমি আপনার বিবি"এই কথা শুনার পর বাবা সাবের জালালি হালে শুধু এইটুকু উচ্চারণ করলেন যে " যে আল্লাহ লা শারিক তার আবার স্ত্রী কিভাবে থাকতে পারে"আর এতে সাথে সাথেই তাহার বিবির গায়ে আগুন লেগে যায়।ফলে তাহার বিবি আগুনে জলসে মারা যান। এতে তাহার মামা খুব কষ্ট পেলেও তাহার করার কিছুই ছিল না।
৭। নিজের জানাজা নিজে পড়লেনঃ- বাবা সাবের দুনিয়া থেকে পর্দা গ্রহন করার কিছু দিন পূর্বে তাহার ভক্তদের বলে যান যে "আমার মৃত্যুর দুই ঘণ্টা পরে একজন লোক সাদা ঘোড়ায় চরে আসবে আমার জানাজা ও দাফন করতে,তাই তার আসার পূর্বে ভুলেও যেন কেউ লাশ স্পর্শ না করে "। যথা-রীতি বাবার কথা মত এক লোক মুখ চাদরে দেখে ঘোড়ায় চরে এসে লাশ দাফন করে চলে যেতে লাগলে এক ভক্তের আকুল আবেদনে সেই লোকটি মুখের কাপড় খুললে সবাই দেখতে পান যে এটা আর কেউ নয় সয়ং বাবা সাবের,এর পর বাবা ঘোড়ায় চরে হঠাত অদৃশ্য হয়ে যান।
৮। পূর্বে মাজার শরিফে কেউ প্রবেশ করতে পারত নাঃ- বাবা সাবের ইন্তেকালের পর তাহার মাজার শরিফের চারপাশে তিন গুন জালালি ভাব প্রকাশিত হতে শুরু করে।কেউ যদি মাজারে যাওয়ার চেষ্টা ১ মাইল দূর থেকেও করত তাহলে সাথে আকাশ থেকে বজ্র পাত হয়ে সে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যেত।কথিত আছে তাহার ইন্তেকালের ৪০ দিন পর্যন্ত তাহার মাজার সিংহ পাহাড়া দিতে দেখা যেত। পরবর্তীতে তার এক বংশধরের অনুরোধে তিনি তাহার জালালি ভাব ক্ষান্ত করে তাহার মাজার শরীফ সবার জন্য জিয়ারতের উপযুক্ত করে দেন।
৯।জীন- পরীর গায়ে আগুন লাগাঃ- তাহার মাজার শরীফের ওপর দিয়ে জীন পরীও যদি ভুলে অতিক্রম করে তাহলে তাদের গায়ে সঙ্গে সঙ্গে আগুন লেগে যায়।
বাবা খাজা আলাউদ্দিন আহমেদ সাবের কালিয়ার এর কারামত বলে শেষ করা যাবে না,এক কথায় বলতে গেলে বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানীর পর তার স্থান, এতে কোন সন্দেহ নেই।


আল্লাহ আমদের সবার নসীবে এই আউলিয়ার রূহানী ফয়েজ নসিব করুন আমিন... !! 

Tuesday, August 31, 2021

কারবালা

 মুসলিম বানিয়েছে। নাস্তিক দমিয়েছে। তবুও কেন বিরোধীতা! লিখেছেন মাহদী গালিব।

কারবালা শেষ। এজিদ মসনদে। তিন বছরেই মরল। ৬৪ হিজরি, ৬৮৪ সালে। এরপর আসলো ঝড়। এজিদের যে বাহিনী ছিল কারবালায়, সেটার হোতারা মরতে লাগল। যেনতেন মৃত্যু না। মৃত্যুও ভয় পেয়েছে সে মৃত্যুতে। এজিদ অজানা রোগে মরেছে। কিন্তু বাকিদের মৃত্যু- বিশাল বিভীষিকা!
আমর বিন সাদ। সে ছিল সেনাপতি। সে ও তার ছেলের মাথা কাটা হয়। পাঠানো হয় মদিনায়। মুহাম্মদ বিন হানাফিয়ার কাছে। তিনি মওলা হুসাইনের ভাই, সৎভাই।
হাওলা বিন ইয়াজিদ। সে মওলা হুসাইনের মস্তক বিচ্ছিন্ন করেছিল। তার হাত-পা কেটে শূলে চড়ানো হয়। লাশ জ্বালানো হয়।
শিমার। মওলা হুসাইনের গলায় ছুরি চালিয়েছে। সে স্রেফ দু’ টুকরা হয়। হাকিম বিন তোফায়েল। মওলা হুসাইনকে তীর ছুঁড়েছিল। তার মাথা বর্শার আগায় নাচানো হয়। বাদর নাচের ডুমড়ির মত।
ইবনে জিয়াদ। সব’চে পাপিষ্ঠ। ইয়াজিদের পরে। তার মাথা, দেহ আলাদা করা হয়। দেহ দহন হয় আগুনে। মাথা বর্শার ডগায় কুফায় আসে। কুফা তখন প্রতিশোধের ঘাঁটি। এভাবে আরো অনেক। একজনও পার পায় নি। জানিয়ে রাখি, কুফা ইরাকের শহর। মওলা আলী একে রাজধানী করেছিলেন।
প্রতিশোধটা প্রাণের দাবী। তা নেয়া হয়েছে। কিন্তু কে নিয়েছে? নিশ্চই প্রশ্ন জাগছে? যে করেছে সে মহাবীর। এমনটা ভাবছেন হয়ত। কিন্তু ঘটনা ভিন্ন। সময়ে জানতে পারবেন।
তার নাম মুখতার সাখাফি। তায়েফে জন্মায়। আরবের একটি প্রদেশে। ৬২২ সালে। পরে কুফায় স্থায়ী হয়। প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। ইবনে জিয়াদ তখন কুফার গভর্নর। তার প্রতিপক্ষ ছিল সাখাফি। সাখাফি থাকলে এজিদের হুকুম চলবে না। তাই তাকে জেলে ঢুকানো হয় কৌশলে।
কারবালার ঘটনা শুরু-শেষ হয়। সাখাফি তখন জেলে। অনেক পরে বেরোয়। কূটনীতি খাঁটিয়ে। বেরিয়ে দেখে সব খতম। মওলা হুসাইন শহীদ হয়েছেন। পাল্টেছে খেলাফতের মানচিত্র। সে প্রতিজ্ঞা করে, কারবালার বদলা নিবেই নিবে। তাই করেছিল। ধীরেধীরে দল গুছায়। কিন্তু অ্যাকশনে নামতে-নামতে এজিদ ভূত হয়। বড় বাঁচা বাঁচে। কিন্তু চ্যালা-চামুণ্ডারা নিস্তার পায় নি। একেএকে প্রাপ্য পেয়েছে। যা আগেই লিখেছি।
এখন ভাবুন। নিরপেক্ষ হয়ে ভাবুন। সাখাফিকে মহানায়ক মনে হচ্ছে? সে অন্যায়-অসত্য নিঃশেষকারী। এমনটা ভাবছেন। ভাবাটাই স্বাভাবিক। লিকিন পিকচার আভি বাকি হ্যাঁয়।
জমহুর মানে সিংহভাগ, বেশির ভাগ। ইসলামের, আহলে সুন্নাতের জমহুর ইমামগণের ‘সাখাফি’ কেন্দ্রিক বক্তব্য নেতিবাচক, নেগেটিভ। ইমাম আ’লা হযরতও তাকে ‘মুরতাদ’ বলেছেন। যে আগে মুসলিম ছিল, পরে ঈমান হারা হয়েছে; সেই মুরতাদ। অর্থাৎ- সাখাফির প্রতিশোধ কেন্দ্রিক-কাজ ইতিবাচক। কিন্তু তার শেষজীবন অশুদ্ধ।
কেন! কেন এমন? কারণ, সে শেষ-সময়ে নবুয়ত দাবী করে। শিয়া ভাইদের চেতনা ভিন্ন। তাকে মহাবীর ভাবেন। কিন্তু শিয়াদের ইতিহাস দিয়েই প্রমাণ হয়েছে সাখাফি পথভ্রষ্ট হয়েছিল। তথ্য কমেন্ট বক্সে দিচ্ছি।
আবার হাজ্জাজ বিন ইউসুফকে ধরুন। কোর’আনে যের-যবর লাগিয়েছে। যা আজকের কোরআনে পাই। হাজ্জাজের আগে যের-জবর ছিল না। সে পাকিস্তান পর্যন্ত ইসলাম ছড়িয়েছিল। বিশাল অবদান। কিন্তু তাকেও মানা হয় না, সাখাফির মত। জমহুর ইমামের মত সে ধর্মচুত্য। এখন চাইলেই যের-যবর সরাতে পারবেন? সম্ভব না। হাজ্জাজ মুসলিম মেরেছে হাজার-হাজার। বেয়াদবি করেছে মসজিদে নববীতে।। এতটাই পাপিষ্ঠ। অতএব, তাকে মানা হচ্ছে না। কিন্তু তার নির্দিষ্ট কাজকে মানা হচ্ছে।
ইসলাম-মুসলিম অবদান অস্বীকার করে না। কিন্তু একটি অবদান ব্যক্তির অন্য অপরাধের বদলা, এক্সচেঞ্জ না। যদি না তওবা করে। সাখাফি-হাজ্জাজের অবদান মানা হয়। নির্দিষ্ট কাজ মানা হয়। কিন্তু তাদের না। কারণ, তারা অস্বীকার করেছে আকাইদ (creed), মৌলিক বিশ্বাসকে। ইসলামের স্তম্ভ, খুঁটিকে।
একই ভাবে কেউ ‘তুলনা মূলক ধর্মতত্ব’ আলোচনা করল। খ্যাতি কামালো। দলেদলে মুসলিম বানালো। কেউ ফেবু-ব্লগে-বইমেলায় রাজ্য উদ্ধার করলো। নাস্তিকের নাভিশ্বাস ওঠাল।
কিন্তু বলল, নবী দোষে-দূর্বলে মানুষ। কেউ বলবে, তাকে আজকের যুগে না মানলেও চলে। বিরোধীতা করলে বলবে জিহ্বার ভুল। তওবা করবেন না। তাদেরি কেউ বলবে আল্লাহ মিথ্যা বলতে পারেন। কিন্তু বলেন না। তিনি আরশে আছেন। তার শরীর আরশের থেকে চার আঙুল বড়। আল্লাহ নিচে নামেন। আমরা যেমন সিঁড়ি বেয়ে উঠি-নামি। যেসব ব্যক্তিদের প্রায়-পুরো উম্মাহ (জাতি) ধিক্কার দিয়েছে, তাদের নায়ক বানাবে। প্রজন্মের থেকে প্রজন্ম ধরে বিধৌত-পরিশুদ্ধ নীতি-আইন অস্বীকার করবে।
যে সাধকেরা মা-মাটি ছেড়ে, রোদ-বৃষ্টি-নদী-জঙ্গল-বাঘ-সাপ-ক্ষুধা-তৃষ্ণা তোয়াক্কা না করে, দূরে-বহুদূরে, ইসলাম ছড়িয়েছেন; তাদের অসম্মান করবে। ‘মশারী কেন, মশা কামড়ায় নাকি’ টিটকারি মারবে। তাদের স্মরণকে শিরিক-বিদাত বলবে।
যখন রক্তঝরা-সম্ভ্রমহারা ফেব্রুয়ারি-মার্চ-ডিসেম্বরকে, দেশের পতাকাকে অবজ্ঞা করবে। ইসলামকে শুধুই হুর-গেলমানের ধর্ম বানাবে। সেই লোভে প্রজন্ম জঙ্গি হবে। বলবে, বিন-লাদেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। বাংলাভাইয়ের গুণগান গাইবে। ইসলামকে একটি ভীতিপ্রদ, আতঙ্কের অবয়বে পরিণত করবে। হাজার বছরের মূল্যবোধ-চেতনা-সংস্কৃতিতে লাথি মারবে। হাজার সাহাবার মাজার ভাঙবে।
কথায় কথায় রেফারেন্স চাইবে। কোরআনের আয়াত দিবেন। বলবে অনুবাদ ও ব্যাখ্যাকারী ভুল। হাদিস দিবেন। চাইবে সহিহ হাদিস। মানে হাসান ও অন্যান্য মানের হাদিস হওয়ায় লাল-দোপাট্টা উড়িয়ে এসেছে। সেগুলো হাদিসই না। যাক, সহিহ হাদিস দিবেন। বলবে, প্রকাশনী ভুল। প্রকাশনী নিখুঁত দেখাবেন। বলবে- তোরা মাজার পূজারী! তোরা বানোয়াট। আমাগো শায়েখ ঠিক।
তার শায়েখ ঠিক। ১৩২৮ সালে দামাস্কাসে মরা, ১৭০৩ তে নজদে জন্মানো, ১৯৯৯ তে পটোল-তোলা শায়েখেরা সঠিক। ৮০ হিজরির আবু হানিফা ভুল। ৮৩২ এ জন্মানো মাতুরিদি ভুল। ১০৭৯ তে জন্মানো আব্দুল কাদির জিলানি ভুল। বইমেলার বেস্টসেলার সঠিক। কিন্তু ‘জজবুল কুলুব’-‘মাদারেজুন নবুয়ত’-‘মসনবি-‘কানযুল ঈমান’ ভুল। লালসালু সঠিক, হাদায়িকে বখশিশ ভুল... (আর কত কমু)!
কারো আদর্শের অবচেতন-আবেদন যখন মানুষকে এভাবে ভাবাতে শিখাবে, ইসলামের চেইন অব কমাণ্ড ভাঙবে, ইতিহাস থেকে ইসলামকে ছাঁটবে, প্রজন্মকে শিক্ষিত-অভদ্র, ধৃষ্ট-ধুরন্ধর বানাবে...
তখন! তখন! আর যাই হোক, যে যাই করুক, নাস্তিক নাচাক, মঙ্গলগ্রহের এলিয়নকেও মুসলমান বানাক – তার বিরোধীতা আবশ্যক! অত্যাবশ্যক!
কারণ; আকিদায় ধৃষ্টতার ক্ষেত্রে আপোষ নয়, প্রতিরোধ-প্রতিকার-নির্মূল করাই কাম্য।
যেমনটা ইমামে হক্বগণ করেছেন। কারবালা মুসলিমের আবেগ-অস্তিত্বের সংজ্ঞা। সেখানেও সাখাফিকে ছাড় দেয়া হয় নি। তুমি যাই করো, আকাইদ নেই তো কিছুই নেই। তোমার কাজ কচুপাতার পানি। প্রবাদ আছে না, ‘দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য’।
এ বিরোধীতা সখে না। নিজের জন্য না। আমি আপনার জমির ভাগ পাই না। বিরোধীতার কারণ একটাই, একজন। যাকে প্রাণ, সম্পদ, আত্মীয়, সন্তান এমনকি মায়ের থেকেও বেশী ভালো না বাসলে কেউ মুমিন হয় না (তওবা : ২৪)। তার জন্যই এই বিরোধীতা। এ বিরোধী শুধু মদিনার জন্য। মদিনা-মুনিব সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের জন্য। তিঁনি হয়ে তাঁর খোদার জন্য।
যদি দুধ চান। শুধু দুধ না, ক্ষীর দিতেও প্রস্তুত আছি। আশ্রয় চাইলে ঘর ছেড়ে দিব। কিন্তু নিজের গায়ে ইসলামের ব্রাণ্ড লাগিয়ে, মদিনার বিপরীতে যাবেন; তখন- অস্তিত্বের সবটুকু দিয়ে বিরোধীতা করতে আজন্ম প্রস্তুত আহলে সুন্নাহ। এটাই ঈমানের দাবী।
প্রজন্ম হে! চাকু দিয়ে সব্জি কাটে। আবার খুনও হয়। কোনটা হবে, নির্ভর করে চাকু-অলার ওপর। যে সহীহ হাদিসে ঢেকুর তুলে তোমাকে টানছে, চিন্তা করিও সে চাকু কিসের জন্য রেখেছে। মনে রাখিও-
মিথ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত সত্য ভঙ্গুর, ভেঙে যাবে। কিন্তু সত্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত মিথ্যা ভয়ংকর।

Wednesday, August 12, 2020

বাতাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

 একদিন এক বৃদ্ধা বাতাসের বিরুদ্ধে এক অভিযোগ নিয়ে আসল যে,  হে আল্লাহর নবী ও রাজ্যের বাদশা! আমি অত্যন্ত দরিদ্র এক বৃদ্ধা। আমার গৃহে কয়েকটি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আছে। আমি তাদের খাওয়ার জন্য কিছু গম পিসে আটা মাথায় করে নিয়ে আসছিলাম।   হঠাৎ বাতাস আমার সব আটা উড়িয়ে নিয়ে গেল। আমার প্রার্থনা হল, আপনি বাতাসের কাছ থেকে আমার  আটাগুলো উদ্ধার করে দিন। অন্যথায় আমার ছোট ছোট মাসুম ছেলেমেয়েরা অনাহারে থাকবে। 

হযরত দাউদ (আ) তার অভিযোগ শুনে বলেন, হে বৃদ্ধা, বাতাসের উপর আমার কোন ক্ষমতা নেই, তোমার আটা কি করে বাতাস থেকে উদ্ধার করে দিবো?  তবে তুমি যেহেতু অভাবগ্রস্ত মহিলা, তাই তোমার যে পরিমান আটা বাতাসে নিয়ে গেছে আমি  তোমাকে তার চারগুন আটা দিচ্ছি,  তুমি তা নিয়ে যাও। 

বৃদ্ধা খুব আনন্দের সাথেই সম্মত হল।   হযরত দাউদ (আ) তাকে পুর্ন একবস্তা  আটা দিয়ে বিদায় করলেন। বৃদ্ধা খুশীর সাথে আটা নিয়ে গৃহে চলল।  কিছুদুর যাওয়ার পর   হযরত সুলাইমান (আ) এর সাতে তার সাক্ষাৎ হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন বৃদ্ধা তুমি বাদশার কাছে কি অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলে??  বৃদ্ধা বলল আমি বাতাসের বিরুদ্ধে নালিশ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বাদশাহ সে অভিযোগের বিচার না করে আমাকে একবস্তা আটা দিয়ে দিলেন। 

হযরত সুলাইমান (আ) বৃদ্ধাকে বলেন, তুমি আবার যাও, গিয়ে বল আমি আটা চাইনা, বিচার চাই? এ পরামর্শঅনুযায়ী বৃদ্ধা হযরত দাউদ (আ) এর দরবারে পুনরায় বিচারপ্রার্থী হল। হযরত দাউদ (আ) বুড়ীর কাছে জানতে চাইলেন কে তাকে এই পরামর্শ দিয়েছে?? 

বৃদ্ধা অনেক ভয়ে ভয়ে বলল, বাদশাজাদা সুলাইমান (আ) এই কথা আমাকে শিখায়ে দিয়েছেন। তখন তাকে ডেকে বলেন, হে সুলাইমান তুমি যে বৃদ্ধাকে আমার কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিলে, এখন বল দেখি, আমি কিভাবে বাতাস হাযির করে তার বিচার করি??  

হযরত সুলাইমান (আ) বলেন, হে আমার পিতা, আপনি শুধু বাদশা নন, আপনি আল্লাহর মহাসম্মানী নবীও বটে। আপনার দোয়ায় বাতাস আপনার সামনে হাযির হতে বাধ্য হবে। হে পিতা, আমার ভয় হচ্ছে যে, কিয়ামতের দিন বৃদ্ধা যখন আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাযির হবে, তখন আপনি  দুনিয়াতে তার অভিযোগের বিচার না করার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবেন। 

পুত্রের কথায় হযরত দাউদ (আ) বাতাসকে উপস্থিত করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। আল্লাহ হযরত দাউদ (আ) এর দরবারে বাতাসকে উপস্থিত হওয়ার জন্য হুকুম দিলেন। আল্লাহর হুকুম পেয়ে বাতাস হযরত দাউদ (আ) এর দরবারে হাযির হল। তিনি বৃদ্ধার অভিযোগ সম্পর্কে বাতাসের কি বলার আছে জিজ্ঞেস করলে বাতাস বলল, আমি আল্লাহর নির্দেশানুসারেই বৃদ্ধার আটা উড়িয়ে নিয়েছি। আমি নিজ থেকে কিছুই করিনি। 

ঘটনাটা ছিল এরুপ-  একখানা বিরাট জাহাজ বহু মালপত্র এবং যাত্রী নিয়ে বিশাল সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে। হঠাৎ এ জাহাজের তলদেশে একটি ছিদ্র হয়ে তা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন জাহাজের যাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করল, এবং আল্লাহর নামে মানত করল, হে আমাদের রব, আপনি আমাদের প্রান রক্ষা করলে এ জাহাজের সব সম্পদ আমরা আপনার পথে  বিলিয়ে দেব। তখন আমি আল্লাহর নির্দেশে এ বৃদ্ধার আটা উড়িয়ে নিয়ে  এ জাহাজটির ছিদ্রে লাগিয়ে তা বন্ধ করে দেই। তাই জাহাজের সবাই নিরাপদ ছিল। 

এর কয়েকদিন পরই সমুদ্র তীরে একখানা জাহাজ এসে  নোঙ্গর করেছে। সংবাদ পেয়ে হযরত দাউদ (আ) সেখানে হাজির হলেন। জাহাজের আরোহীরা বলল হুজুর, এ জাহাজের সব মালপত্র আমরা আল্লাহর পথে দান করার মানত করেছি। আপনি সব মাল গ্রহণ করে যথাযোগ্য স্থানে দান খয়রাত করে দিন। 

হযরত দাউদ (আ) জাহাজের মাল গ্রহণ করে তার অর্ধেক সে বৃদ্ধাকে এবং বাকি অর্ধেক অন্যান্য দারিদ্র এর মাঝে বিতরন করলেন। তারপর তিনি বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করলে, হে বৃদ্ধা, তুমি এমন কি নেক আমল করেছ যার বিনিময়ে তোমার উপরে আল্লাহর এত অনুগ্রহ বর্ষিত হল?? জবাবে বৃদ্ধা বলল, 

হে আল্লাহর নবী,আমি কোন সৎকাজ করিনি, তবে আমার বাড়িতে কোন ভিক্ষুক এলে তাকে আমি কখনো খালি হাতে ফিরাই না। কিছু না কিছু অবশ্যই দিয়ে খুশী করে দেই। এজন্য আমি কোনদিন না খেয়েও থাকি। 

সেদিন একজন ভিক্ষুক এসে তার ক্ষুধার্ত থাকার কথা জানাল। তখন ঘরে সকলের খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। কেবল মাত্র আমিই খাওয়ার বাকি ছিলাম। নিজের জন্ন্য যে দুইটা রুটি রেখেছিলাম তাই তাকে দিয়ে দিলাম। ২টা রুটি খেয়ে সে বলল, ক্ষুধা তো আমার গেল না, থেকেই গেল ক্ষুধা থাকলে আরো কিছু দিন। তখন ঘরে খাবার মত কিছুই ছিলনা, ঘরে কিছু গম ছিল, তখন আমি ভিক্ষুককে বল্লাম, আপনি একটু অপেক্ষা করুন, আমি গম পিসে আনতেছি, এক্টু পরেই আপনাকে রুটি বানাই দিতে পারবো। তখন ভিক্ষুক অপেক্ষা করল। 

আমি গিয়ে গম পিশে আটা নিয়ে ঘরে আসতেছিলাম, আমার সেই আটাগুলোই বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেল, যার বিচার আমি আপনার দরবারে দিয়েছিলাম। আমি এখন বুজতে পারলাম মহান আল্লাহ আমাকে এ আটার পরিবর্তই দয়াপরবস হয়ে এ মালগুলো দান করলেন।   


Sunday, June 21, 2020

করোনা ভাইরাস

করোনা ভাইরাস বর্তমান বিশ্বব্যাপী এক মহা আতংকের নাম। গোটা বিশ্ব আজ এ মহামারীতে আক্রান্ত। বিশ্বের কোথাও আজ কেউ নিরাপদ নয়। ভয়াবহ এ মহামারির সংক্রমনরোধে বিশ্বের সকল উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্তা অসহায়, অনেকটা অকার্যকর প্রমানিত। বৃহৎ শক্তিধর রাস্ট্রগুলোও আজ ধরাশায়ী। অহংকারী রাস্টগুলোর কর্তৃত্ব, আধিপত্য, ক্ষমতার দাপট আজ চুর্ন বিচুর্ন।  মহান রাব্বুল আলামীনের সৃস্ট এক অদৃশ্য ভাইরাসের আক্রমনে বিশ্বমানব জাতি বড়ই অসহায়। মুসলিম-অমুসলিম, আস্তিক-নাস্তিক, ধর্মদ্রোহী, খোদাদ্রোহী, সকলকেই দেখিয়ে দিল একমাত্র মহান রাব্বুল আলামীন বিশ্বসৃষ্টর মহান স্রস্টা, সার্বভৌম ক্ষমতার নিরংকুশ মালিক আল্লাহই সর্বশক্তিমান।       

Thursday, June 18, 2020

ইদুর বিড়াল সৃষ্টির রহস্য

হযরত নুহ (আঃ) এর কিস্তি যখন পানিতে ভাসছিল, তখন নৌকায় থাকা পশু পাখি, এবং মানুষের মলমূত্র ত্যাগের কারনে নৌকা দুর্গন্ধময় হয়ে পড়ে। হযরত নূহ (আঃ) আল্লাহর নিকটে আবেদন করলে, আল্লাহ আদেশ করলেন হে নূহ,  হাতীর চেহারায় হাত বুলান। আল্লাহ পাকের নির্দেশে হাতীর চেহারায় হাত বুলালে আল্লাহর কুদরতে হাতীর নাষিকা থেকে দুটি শূকর জন্ম নেয়। শূকর দুটি নৌকার সব মলমূত্র খেয়ে সব ছাপ করে ফেলে। এ দৃশ্য দেখে পাপিষ্ঠ ইবলীশ শূকরের চেহারায় হাত বুলালে তার নাক থেকে দুটি ইঁদুর জন্ম নেয়। নুহ (আঃ) ইবলীশকে বললেন হে ইবলীশ। কে তোকে এ নৌকায় উঠিয়েছে?? সে বলল, আপনি যখন কেনআনকে বলেছিলেন শয়তান নৌকায় উঠ  আমি তখনই নৌকায় উঠে পড়ি। আমি জানতাম, আপনি আমাকে ছাড়া আর কাউকে শয়তান বলেননি।  সুতারং তাতেই আমি নৌকায়  আরোহন করি। ইদুর দুটি  নৌকার বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র করতে আরম্ব করলে হযরত নুহ (আঃ) আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান, তার ফরিয়াদে জিবরাঈল (আঃ) এসে বললেন, আপনি বাঘের চেহারায় হাত বুলান। বাঘের চেহারায় হাত বুলাতেই তার নাক হতে দুটি বিড়াল জন্ম নেয়। তাই বিড়াল দেখতে অনেক্টা বাঘের মত। বিড়াল দুটি নৌকার সব ইঁদুর খেয়ে ফেলে। সেদিন থেকেই বিড়াল আর ইঁদুর এর সুত্রুতা চলে আসছে।    

Saturday, May 16, 2020

আব্দুল ওহাব নজদির পরিচয়

ওহাবী নজদী ফেতনা পৃথিবীতে সবচেয়ে মারাত্মক ফেতনা
-----------------------------------------------------------------------
বর্তমান যুগে প্রত্যেক দলের লোকেরাই বলে আমরা সত্যের উপর রয়েছি এবং ওহাবী নজদী সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদের লোক ছাড়া অন্য লোককে তারা মুমিন মনে করে না।
তাদের কাজ হচ্ছে প্রতিটি কদমে কুফর,শিরক,বিদআত প্রত্যেক কথা কাজে ফতোয়াবাজী করা তাদের স্বভাব।নবী-গাউছ ওলী-আব্দাল পীর-মাশায়েখ ও মাজার সম্পর্কে সমালোচনা করা তাদের অভ্যাস। পৃথিবীর মধ্যে যতো ফেতনা রয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফেতনার মধ্যে ওয়াহাবী নজদী ফিতনা সর্বাধিক বিপদজনক।
এ ব্যাপারে আমাদের নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম থেকেই ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন।
"মিশকাত শরীফ" ২য় খণ্ডের ইয়ামন ও শামের বর্ণনা অধ্যায়ে বুখারী শরীফের বরাত দিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)থেকে বর্ণিত- একদিন দয়ার সাগর হুজুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাত তুলে দোয়া করেছিলেন-
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺑﺎﺭﻙ ﻟﻨﺎ ﻓﻰ ﺷﺎﻣﻨﺎ
হে আল্লাহ আমাদের শাম প্রদেশে বরকত দাও।
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺑﺎﺭﻙ ﻟﻨﺎ ﻓﻰ ﻳﻤﻨﻨﺎ
হে আল্লাহ আমাদের ইয়ামন দেশে বরকত দাও।
উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে একজন সাহাবী আরজ করলেন! ইয়া রাসূলাল্লাহ! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)আমাদের নজদের জন্য দোয়া করুন।পুনরায় হুজুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়া করলেন, শাম ও ইয়ামনের নাম উল্লেখ করলেন কিন্তু নজদের নাম নিলেন না।পুনরায় দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক নজদের জন্য দোয়া করার অনুরোধ করার পরেও হুজুর শাম ও ইয়ামনের জন্য উপর্যুপরি তিনবার দোয়া করলেন কিন্তু বারবার নজদের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও নজদের জন্য দোয়া করলেন না।বরং শেষে বললেন-
ﻫﻨﺎﻙ ﺍﻟﺰﻻﺯﻝ ﻭﺍﻟﻔﺘﻦ ﻭﺑﻬﺎ ﻳﻄﻠﻊ ﻗﺮﻥ ﺍﻟﺸﻴﻄﻦ
যে অঞ্চল সৃষ্টির আদিকালেই আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত সে ভূখণ্ডের জন্য দোয়া কিভাবে করি?
এখানেই ইসলামের ভিতকে নাড়াদানকারী ভূমিকম্প ও ফেতনা আরম্ভ হবে এখানেই শয়তানের দলের আবির্ভাব ঘটবে’ এ থেকে বুঝা গেলো হুজুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র দৃষ্টিতে (পথ ভ্রষ্ট ও ঈমান নষ্ট করার দিক থেকে) দাজ্জালের ফেতনার পরে ছিলো নজদের ফেতনার স্থান,যার সম্পর্কে এভাবে ভবিষ্যৎবাণী করে গেলেন।
অনুরূপ "মিশকাত শরীফ" ১ম খণ্ডের কিসাস শীর্ষক আলোচনায় ‘মুরতাদদের’ (ধর্মদ্রোহীদের) হত্যা’ অধ্যায়ে নাসায়ী শরীফের উদ্ধৃতি দিয়ে হযরত আবু বরযা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, একবার হুজুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু গণিমতের মাল বণ্টন করছিলেন,তখন পিছন থেকে একজন লোক বললেন- হে মুহাম্মদ! আপনি ন্যায়সঙ্গতভাবে বণ্টন করেননি।হুজুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগান্বিত হয়ে বললেন- আমার পরে আমার থেকে বেশি কোন ইনসাফকারী ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি পাওয়া যাবে না।তারপর বললেন- শেষ যামানায় এর বংশ থেকে একটি গোত্রের উদ্ভব হবে।যারা কুরআন পাঠ করবে বটে,কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালীর নীচে পৌঁছবে না।কিন্তু তারা ইসলাম থেকে এমনিভাবে দূরে সরে যাবে,যেমনিভাবে তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায়-
ﺳﻴﻤﺎ ﻫﻢ ﺍﻟﺘﺤﻠﻴﻖ ﻻﻳﺰﻟﻮﻥ ﻳﺨﺮﺟﻮﻥ ﺣﺘﻰ ﻳﺨﺮﺝ ﺍﺧﺮﻫﻢ ﻣﻊ ﺍﻟﺪﺟﺎﻝ ﻓﺎﺫﺍ ﻟﻘﻴﺘﻤﻮﻫﻮ ﻫﻢ ﺷﺮ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻭﺍﻟﺘﺨﻠﻴﻘﺔ
(মাথা মুণ্ডনো হলো এদের বিশেষ চিন্হ এদের একের পর এক বের হতেই থাকবে।শেষ পর্যন্ত এদের শেষ দলটি দাজ্জালের সঙ্গে মিলিত হবে। যদি তোমরা তাদের সাক্ষাত পাও, জেনে রেখো,তারা হলো সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে নৃশংস।)
এ হাদিসের মধ্যে এদের পরিচয় বর্ণনা করা হয়েছে।মাথা মুণ্ডানো ছাড়া এখনও কোন ওহাবীকে পাওয়া মুশকিল।
অন্য জায়গায় তিনি আরো বলেন- তারা মুর্তি পূজারীদেরকে ছেড়ে দেবে, কিন্তু মুসলমানদেরকে হত্যা করবে। (বুখারী শরীফ ১ম খণ্ড কিতাবুল আম্বিয়া ইয়াজুজ মাজুজের কাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত বর্ণনা,মুসলিম শরীফ ও মিশকাত শরীফে আল মু’জিজাত অধ্যায়ে প্রথম পরিচ্ছেদ দেখুন উক্ত জায়গায় মিশকাত শরীফে আরো উল্লেখিত আছে-
ﻟﺌﻦ ﺍﺩﺭﻛﺘﻢ ﻻﻗﺘﻠﻨﻬﻢ ﻗﺘﻞ ﻋﺎﺩ
যদি আমি তাদেরকে পেতাম,আদ গোত্রের মত হত্যা করতাম।
এখনও দেখা যায় যে,দেওবন্দীরা সাধরণভাবে হিন্দুদের সাথে বেশি সংশ্রব রাখে মুসলমানদেরকে ঘৃণার চোখে দেখে।তারা সবসময় মুসলমানদের উপর বিশেষ করে হেরামাইন শরীফাইনের অধিবাসীদের ইজ্জত আবরুর উপর প্রচণ্ড আঘাত হেনেছেন।সাইফুল জব্বার ও ‘বোয়ারেফে মুহাম্মদীয়া আলা ইরগামাতিন নজদিয়া’ ইত্যাদি ইতিহাসের বই দেখুন।
আব্দুল ওহাব নজদীর জন্ম,পরিচয় ও ভ্রান্ত মতবাদ উপরোক্ত মহান ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী ১১১১ হিজরী মোতাবেক ১৭০৫ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নজদী, নজদ দেশে জন্মগ্রহণ করেন।জীবনের শুরুতে মদিনা মনোয়ারা লেখাপড়া করেছিলো।মদিনা মনোয়ারা ও মক্কা মুকাররমার মধ্যে আসা যাওয়া করতো।তার গোড়াছিলো তামীম গোত্রের সাথে গাথাঁ।মদিনা মনোয়ারার অনেক আলেমের কাছে বিদ্যার্জন করতো।এই শিক্ষকদের মধ্যে শায়খ মোহাম্মদ ইবনে সুলাইমান কারভী শাফেয়ী ও শায়খ মুহাম্মদ হায়াত সিন্ধী হানাফী অন্যতম।এ দুজন শিক্ষক এবং অন্যান্য শায়খগণ তার মধ্যে ধর্মদ্রোহীতার ও পথভ্রষ্টতার বিভিন্ন আলামত লক্ষ্য করতেন আর বলতেন-
ﺳﻴﻀﻞ ﻫﺬﺍ ﻭﻳﻀﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻪ ﻣﻦ ﺑﻌﺪﻩ ﻭﺍﺷﻘﺎﻩ ﻓﻜﺎﻥ ﺍﻻﻣﺮ ﻛﺬﺍﻟﻚ ﻭﻣﺎ ﺍﺧﻄﺄﺕ ﻓﺮﺍﺳﺘﻬﻢ ﻓﻴﻪ
অর্থাৎ অনতিবিলম্ভে সে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।আল্লাহতা’য়ালা তার মাধ্যমে পররবর্তী আগমনকারী হতভাগ্য লোকদেরকেও বিভ্রান্ত করবেন।
সুতরাং তেমনই ঘটেছে।
তার শ্রদ্বেয় পিতাও তার মধ্যে ধর্মদ্রোহিতার নিদর্শন দেখতে পান এবং প্রায় সময়ই তার সমালোচনা করতেন।মন্দ দিকগুলো তুলে ধরতেন।লোকজনকে বাঁচানোর জন্য তাকিদ সহকারে সাবধান করে দিতেন।এভাবে তার ভাই আল্লামা সোলাইমান ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবও তার বিদআতগুলো (নব আবিস্কৃত অবৈধ আকিদা ও কাজকর্ম, ভ্রান্তি এবং বাতিল আকিদাসমূহ) প্রত্যাখ্যান ও সেগুলো খণ্ডন করতেন।এমনই তার খণ্ডনে "আস সাওয়াইকুল ইলাহিয়া ফির রদ্দে আলাল ওয়াহহাবিয়া" নামে একটি কিতাব প্রণয়ন করেন।
আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান সিলহেটী (আলাইহির রহমত) নজদী সম্পর্কে লিখেছেন-
দ্বিতীয় সুলতান মাহমুদ খানের শাসনামলে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নামের এক ব্যক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটল।ইবনে তাইমিয়া মরে যাওয়ার পর সে তার বিলুপ্ত ভ্রান্ত আকিদাগুলোকে পুনরায় প্রকাশ করলো-
ﻭﺍﺑﺘﺪﻉ ﺷﻴﻌﺔ ﻣﺨﺎﻟﻔﺎ ﻋﻦ ﻣﺬﻫﺐ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﻛﺎﻥ ﻳﻄﻮﻑ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﺮﺏ ﺍﻟﻰ ﺍﻣﻜﻨﺔ ﻭﺷﺎﻡ ﻭﺍﻟﺒﻐﺪﺍﺩ ﻭﺍﻟﺒﺼﺮﺓ ﻭﻣﻦ ﻫﻨﺎﻙ ﺭﺟﻊ ﺍﻟﻰ ﺑﻼﺩ ﺍﻟﻌﺮﺏ ﻭﺑﺎﺗﺴﻌﺎﻑ ﺍﻻﻣﺮﺑﻦ ﺍﻟﺴﻌﻮﺩ - ﺍﻟﺬﻯ ﻛﺎﻥ ﺩﺧﻞ ﻓﻰ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺜﻴﻌﺔ ﺟﺬﺏ ﺍﻟﻴﻪ ﺟﻤﻬﻮﺭ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺒﻼﺩ ﻭﺳﻤﻮﺍ ﻟﻮﻫﺎﺑﻴﺔ ﺑﺎﺳﻢ ﻛﺒﻴﺮﻫﻢ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻮﻫﺎﺏ
অর্থাৎ সে নতুন শরীয়ত প্রকাশ করলো।আহলে সুন্নাতের বিপক্ষে সে একটি দল গঠন করে নিলো।ফোরাত (ইউফ্রেটিস) থেকে সিরিয়া,বাগদাদ শরীফ ও বসরা পর্যন্ত শহরগুলোতে ঘুরে চষে বেড়িয়েছিলো।আর সেখান থেকে আরবে ফিরে এলো- আমির ইবনে সাউদের সহায়তা পাবার কারণে সে উক্ত দলে যোগ দিয়েছিলো।শহরের বড় বড় লোকদেরকেও নিজের দিকে টেনে নিলো।এ কারণে তাদেরকে তাদের দলনেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের নামানুসারে "ওহাবী" বলা হয়।
উক্ত ওহাবী সম্প্রদায়ের প্রশংসিত মৌলভী ওবায়দুল্লাহ সিন্ধী লিখেছেন- প্রকৃত ঘটনা হলো।আলোচ্য লোকটি এমন কোন শিক্ষক থেকে জ্ঞনার্জন করেনি,যিনি তাকে সঠিক হিদায়তের পথে পরিচালিত করতেন উপকারী জ্ঞানের দিকে পথপ্রদর্শন করতেন এবং দ্বীনের বিষয়াবলীর ব্যাপারে তার মধ্যে বুঝ-সমঝের উম্মেষ ঘটাতেন।জ্ঞানার্জনের ধারাবাহিকতায় লোকটি শুধু এতটুকু করেছে যে শায়খ ইবনে তাইমিয়া এবং তার শিষ্য ইবনে কাইয়েমের কয়েকটি কিতাব পড়ে নিয়েছে আর তার তাকলিদ (অনুসরণ) করেছে।
শায়খ সাইয়্যেদ আমিন,যিনি ইবনে আবেদীন নামে খ্যাত রাদ্দুল মুহতার এবং এর মধ্যে বিদ্রোহীদের আলোচনা অধ্যায়ে লিখেছেন যে, তাদের উপমা হচ্ছে তেমনি যেমন আমাদের যুগের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের অনুসারীগণ।
কিছুদিন হলো এসব লোক নজদ থেকে বের হয়েছে।আর দুই হেরামশরীফের উপর ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে।এরা নিজেদেরকে হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী বলে দাবি করে।কিন্তু তাদের অবস্থা এমন যে, নিজেদেরকে ছাড়া বাকী সকল মুসলমানদের যারা তাদের আকিদার পরিপন্থী হয় কাফির মনে করে এবং তাদের রক্তপাত ঘটানোকে জায়েয মনে করে।
সুতরাং,তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও তাদের আলিমকে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করেনি।
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নজদি যখন নিজেদের বাতিল আকিদা এবং ভ্রান্ত চিন্তাধারা প্রকাশ করার ইচ্ছা করলো, তখন সে মদিনা মনোয়ারা থেকে পূর্ব দিকে চলে গেলে।আর লোকজনকে তার সাজানো মনগড়া কথাগুলো শুনালো।আর বুঝালো যে, তারা (জন সাধারণ) যে সব আকিদাপোষণ করে সব শিরক ও ভ্রান্ত।আর তার ভ্রান্ত আকিদাকে ধীরে ধীরে প্রকাশ করতে লাগলো।যখন সাধারণ জঙ্গলি লোকেরা তার আকিদাগুলো গ্রহণ করে নিলো ১১৫০ হিজরিতে বিভিন্ন জেলায় তার এসব কথা ছড়িয়ে পড়লো এবং দরইয়াহ এলাকায় শাসক মুহাম্মদ ইবনে সাউদ তার সাহায্যকারী হয়ে গেলো এবং শায়খই নজদীকে তার দেশ সম্প্রসারণের মাধ্যমে করে নিলো এবং দরইয়াহবাসীদেরকে সে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করল।
১২০০ (বারো শত) বৎসর পরে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নামায কালেমার তাবলীগ চালিয়ে সুন্নি মুসলমানদেরকে ফাঁকি দিয়ে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবায়ে কেরামের আকায়েদের বিপরীত আকিদা শিক্ষা দিয়ে জামাতভূক্ত করে একটা বেইমান শয়তানের গোমরাহী দল গঠন করেছে।এই দলের নামই ওহাবী দল।
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব নজদী ওহাবি গোমরাহি ধর্মের একটা ছোট কিতাব লিখেছে যাহার নাম ‘কিতাবুত তাওহীদ’।
উক্ত কিতাবুত তাওহীদ দ্বারা আরবদেশে ওহাবী ধর্ম জারি হতে থাকে।ওহাবী গোমরাহী দলের পরিচয় পূর্বে আলোচনা করেছি।যখন ওহাবীরা মাজারগুলি ধ্বংশ করা শুরু করে দেয় ঠিক সে সময় মিশরের হাকিম ও ইসলামী সৈন্যগণ তাদের সঙ্গে জিহাদ করে পবিত্র মক্কা ও মদিনা শরীফ হতে ওহাবীদেরকে বিতাড়িত করে পূর্ণ দখল করে নেয়। ১২৩৩ হিজরিতে এই ঘটনা হয়।
আল্লামা শামী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর জগবিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব রাদ্দুল মুহতার কিতাবে প্রমাণ করে দিয়েছে ওহাবী দল প্রকৃতপক্ষে খারেজী দল, ইসলাম ধর্মের চার মাযহাব অমান্যকারী লা- মাযহাবী গোমরাহী দল।তারা তাদের গোমরাহী ওহাবী মতবাদকে বিশ্বে ছড়াবার জন্য অমানবিক হত্যা কাণ্ডের প্রতিযোগিতা চালায় কিন্তু আল্লাহপাক তাদের দর্পকে চূর্ণ করে দিলেন।ইসলামী সৈন্য দ্বারা তাদের উপর জয়ী করে পবিত্র মক্কা ও মদিনাশরীফকে মুক্ত করেন।
#NMH9

Thursday, March 26, 2020

বিপদে আজান দেওয়া

নামাজের ওয়াক্ত ছাড়া বিপদে
আযান দেওয়া কি বিদায়াত?
=====  🕌  =====

আশাকরি  লেখাটি  মনোযোগ  দিয়ে  পড়বেন । যে  বা  যারা  আজ  আযান  দেওয়াকে  নামাজের  জন্য  খাস  অর্থাৎ  নির্দিষ্ট  করে  ইসলামে  নামাজ ব্যতীত  অন্য  কোথাও  আজানের  ধ্বনি  উচ্চারিত হতে  পারবেনা  এবং  এই  পবিত্র  ধ্বনিকে  হিন্দুদের উলুধ্বনির  সাথে  মিলিয়ে  অবান্তর  ফতোয়া  দেওয়া লোকদের  জন্য  আজকের  আমার  এ  লেখাটি। আযানের  আহবানটি  করেছিলাম  নির্দিষ্ট  সময়  রাত দশটায়।  গভীর  রাতে  মানুষকে  বিভ্রান্ত  করার  জন্য নয়। ধরে  নিলাম  অনেকে  না  বুঝে  রাতে  আযান  দিয়েছে  তো  কি  হয়েছে!  শয়তান  ছাড়া  তো  কোন মুমিনবান্দার  বিরক্তের  কারণ  হওয়ার  কথা  নয়। কবি  কায়কোবাদ  বলেছিলেন,
 "কে ঐ শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি।
 মর্মে মর্মে সেই সুর বাজিল কি সুমধুর"।

আমাদের  সমাজে  নয়  শুধু  বিশ্বের  বিভিন্ন  দেশের মানুষ  বিপদ-আপদে  ও  প্রাকৃতিক  বিপর্যয়ে  মুসলিম সমাজে  আযান  দিয়ে  থাকেন।  কই  কখনো তো ফতোয়া  দেখিনি!  আমি  যখন  স্পেনে করোনাভাইরাস  থেকে  রক্ষা  পেতে  সরকারের অনুমতিক্রমে  আযান  দেওয়ার  ভিডিও  আপলোড দিয়েছি  তখন  অসংখ্য  মানুষ  সে  ভিডিও। লাইক কমেন্ট  এবং  শেয়ার  করেছেন। এমনকি  আজকে যারা  ফতোয়াবাজী  করছেন  তাদের  বিভিন্ন  পেজেও সেই  ভিডিও  আপলোড  দিয়েছে। সমস্যা কেবল একি আযান যখন দেশে দেওয়া  হলো  তখন তাদের  ফতোয়ার  ছড়াছড়ি।  কারণ  দেশে ফতোয়াবাজের  অভাব  নেই।  আপনি  খবর  নিয়ে দেখুন,  একি  আযান  ভারতীয়  উপমহাদেশের মুসলমানরাও  দিয়েছে। ভারতের বিভিন্ন  সংগঠন  এ  আযানের  আহবান  করেছেন। আমার  কাছে  ফোন  করেও  তারা  জানিয়েছে। তবে সেখানে  অনেকে  ভূমিকম্প  ভেবে  বিভ্রান্ত  হয়েছে জানতে  পেরে  আমি  অবিহিত  করেছিলাম  আমাদের  দেশে কেউ  যেন  বিভ্রান্ত  না হয়।

এবার  আসুন  সাধারণ  মানুষ  কেন  বিভ্রান্ত  হয়েছে?  উত্তর  একটাই  আমাদের  সমাজেও  সবাই  অবগত আছেন  যে  বিপদে  আযান  দেওয়ার  নিয়ম  রয়েছে। মূলত  এটা  নতুন  কোন  নিয়ম  নয়,  এতোদিন  কোন ফতোয়াও  দেয়নি  কেউ।  আজ  ভূমিকম্পের  পরিবর্তে  করোনাভাইরাসের  হওয়ায়  ফতোয়াবাজদের  গায়ে  আগুন  লেগেছে।  আমি নিশ্চিত  যে  ইসলামে কোথাও  নিষেধ  নেই  যে  নামাজ  ব্যতীত  অন্য  কোথাও  আযান  দেওয়া যাবেনা।  যদি  থাকে  দলিল  দিয়ে  সাহায্য  করার অনুরোধ  রইলো।

আসলে  বিপদে  আযান  দেওয়াকে  যারা  আজ বিদায়াত  বলে  প্রচার  করছে  তাদের ফতোয়া  মতে পৃথিবীর  অধিকাংশ  মুসলমানই  বিদায়াতকারী। কারণ  বিপদে  আযান  অনেক  দেশে দেওয়া  হয়। মূলত  ফতোয়াবাজরা  জানেওনা  বিদায়াতের  প্রকৃত সংজ্ঞা  কি।

প্রশ্নঃ বিদায়াত কাকে বলে❓  এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর যদি বলি তো সংক্ষেপে বলতে পারি " ইসলামের মূল বিষয়গুলিতে ইবাদতের উদ্দেশ্যে নতুন কিছু সংযোজন করাকে বিদায়াত বলে"। কিন্তু যখন কোন ব্যক্তি স্বইচ্ছায় আযান দেয়, উদ্দেশ্য তার যাইহোক বিদায়াত নয়। বিপদ থেকে রক্ষার আযানটি ইসলামে নতুন কিছু নয় এবং আযানদাতা ইবাদতের উদ্দেশ্যে আযানটি দেয়নি। নামাজ ব্যতীত আযান দেওয়ার হুকুম বিদায়াত হলে নিন্মোক্ত হাদিসের হুকুমে কি ফতোয়া দেওয়া যায় একটু বলুন!  আসুন নামাজ ব্যতীত আযান দেওয়া যায় কিনা দেখি।
◾হযরত আবু রাফেই (রা.) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন:

” رأيتُ رسول الله صلى الله عليه و سلم أذّنَ في أُذُنِ الحسنِ ابن عليٍّ حين ولدتهُ فاطمة بالصلاة ” رواه أبو داود والترمذي و قال: هذا حديث صحيح.

অর্থাৎ “ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আলীর (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) পুত্র হাসানের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কানে নামাযের আযানের মত আযান দিতে দেখেছি। যখন ফাতেমা (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) তাঁকে জন্ম দেয়।”
(আবু দাউদ এবং তিরমিযী)
▪উল্লেখঃ ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

👉 উপরোক্ত হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে আযানটি ঠিক নামাজের মতোই দেওয়া হয়েছিল। এখানেই স্পষ্ট  যে নামাজ ব্যতীতও আযান দেওয়া যায়। এটি বিদায়াত নয়। আরবি বুঝলে এবারতটি ভালো করে দেখে নিন।

◾খলিফাতুল মুসলেমীন হজরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত,

قَالَ رَایٰ النَّبِیُّ صَلّٰی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْهِ وَسَلَّم حُزِیْناً فَقَالَ یَا ابْنَ اَبِیْ طَالِبٍ اِنِّیْ اَرَاكَ حُزِیْناً فَمُرْ بَعْضَ اَھْلِكَ یُؤَذِّنُ فِیْ اُذُنِكَ فَاِنَّهٗ دَرْءُ الْھَّمِ

অর্থাৎ ; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে চিন্তিত অবস্থায় দেখে বললেন, হে আলী! (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আমি তোমাকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখছি। তোমার পরিবারের কাওকে তোমার কানে আযান দিতে বলো। কেননা আযান চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা দূর করতে সহায়ক।
(মুলতান থেকে প্রকাশিত মিরকাতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, আযান পর্ব)

বাকীটা নিজেই ভেবে দেখুন আযান কি শুধু নামাজের জন্য খাস! নাকি বিপদমুক্ত হতেও দেওয়া যায়।

◾ হাদিস শরীফে আরও বর্ণিত আছে যে, যখন আযানের শব্দগুলো উচ্চারণ করা হয় তখন আযানের শব্দ যে পর্যন্ত শুনা যায়, সে পর্যন্ত শয়তান পলায়ন করে থাকে। (মুত্তাফাকুন আলাইহ)

এ হাদিস থেকে স্পষ্ট যে শয়তান একজন মুমিন বান্দার জন্য বিপদজনক। সুতরাং মানুষের নাফরমানীর ফলে মানবকূলে গজব আসার মূলে শয়তানের প্ররোচনাই যথেষ্ট। শয়তান থেকে রক্ষা পেতে আযানের শব্দগুলো একজন মুসলমান উচ্চারণ করতেই পারে, দোষের কিছু নেই। এ আযান দেওয়া ছিলো মূলত উত্তম কাজ হিসেবে। বাধ্যতামূলক কোন আযান নয়। তবে অসময়ে আযান দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা অনুচিৎ। আযান দেওয়াটাই ছিলো মূলত একটি ধার্মিকতার প্রতি আহবান। যে আহবানে মানুষ করুনাময় দয়ালু আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানানোর প্রতি অনুপ্রাণিত হয়। এছাড়া ইসলামে যদি উত্তম কোন ধ্বনি থেকেই থাকে সেটা কেবল আযানের মধুর ধ্বনিই। আযানের মাধ্যমেই তো আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয়। দূরীভূত হয় বিপদ আপদ।
◾এছাড়াও খাদেমে রাসুল হজরত আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

"اِذَا اُذِّنَ فِیْ قَرِیَةٍ اٰمَنَھَا اللہُ مِنْ عَذَابِهٖ فِیْ ذٰلِكَ الْیَوْمِ"

অর্থাৎ ; যখন কোন গ্রামে আযান দেয়া হয়,তখন মহান আল্লাহ সেদিন গ্রামটিকে তার আযাব থেকে নিরাপদে রাখেন। (মু'জামুল কবীর,খ-১,পৃ-২৫৭/৭৪৬)

◾হানাফী মাজহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদদুল মুখতার বা ফতোয়ায়ে শামীতে আযানদানের ১০টি মুস্তাহাব সময়ের মধ্যে মহামারীর সময় আযানের কথা উল্লেখ রয়েছে। কথা হচ্ছে যারা আজ মুস্তাহাব আযানের বিরোধিতা করছে তারা মূলত লা মাজহাবী। তাদের কাজেই হচ্ছে মাজহাবীদের বিরুদ্ধে বলে সমাজে ফিতনা করা।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাস  থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহ দরবারে তাঁর পবিত্র শব্দের মাধ্যমে আহবান দিয়ে আমরা কোন অন্যায় করিনি। আমি কৃতজ্ঞ তাদের কাছে যারা অধমের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশবিদেশে আযানের রেকর্ড করেছেন। তবে গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি যারা না বুঝে মানুষকে অসমে আযান দিয়ে কষ্ট দিয়েছেন। আমি জানিয়েছিলাম কোন মানুষ যেন বিভ্রান্ত না হয়। এর পরেও পবিত্র এ ধ্বনি উচ্চারিত হওয়ায় কোন মুসলমানদের অখুশি হওয়ার কারণ দেখিনা। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমিন।

মহামারিতে আজান দেওয়া

মহামারিতে আযান দেয়ার শরয়ী বিধান ও গুরুত্ব:

আযান ইসলামের এক মৌলিক ইবাদত নামাজের দিকে আহবানের মাধ্যম। আযানের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয়,বিপদ ও আযাব দূরীভূত হয়।
হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা:)থেকে বর্ণিত হাদীসে হুযুর (ﷺ) এরশাদ করেন,

"اِذَا اُذِّنَ فِیْ قَرِیَةٍ اٰمَنَھَا اللہُ مِنْ عَذَابِهٖ فِیْ ذٰلِكَ الْیَوْمِ"

-যখন কোন গ্রামে আযান দেয়া হয়,তখন মহান আল্লাহ (ﷻ) সেদিন ওই গ্রামকে তার আযাব থেকে নিরাপদে রাখেন।
[আল-মু'জামুল কবীর,খ-১,পৃ-২৫৭,হাদিস:৭৪৬,মুদ্রণ:মাকতাবায়ে ফয়সলীয়া,বৈরুত। ফতোয়ায়ে রযভীয়্যা, খন্ড:৫,পৃ-৩৬৯,রেযা ফাউন্ডেশন, লাহোর]

 মহামারীর সময় আযান দেয়া একটি মুস্তাহাব বিষয়।
ফিকহে হানাফীর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুখতার বা ফতোয়ায়ে শামীতে আযানদানের ১০টি মুস্তাহাব সময়ের মধ্যে মহামারীর সময় আযানের কথা উল্লেখ রয়েছে।
 মুজাদ্দিদে দীনো মিল্লাত,ইমামে আহলে সুন্নাত,শাহ ইমাম আহমদ রেজা খান (রা.)লিখেন-

”وبا کے زمانے میں اذان دینا مستحب ہے“

- মহামারীর সময় আযান দেয়া মুস্তাহাব।

[ফতোয়ায়ে রযভীয়্যা,খ-৫,পৃ-৩৭০,মুদ্রণ-রেযা ফাউন্ডেশন লাহোর। বাহারে শরীয়ত,প্রথম খন্ড, অংশ-৩,পৃ-৪৬৬,মাকতাবাতুল মদীনা করাচী]

কারণ এ মহামারীর কারণে জনমনে ভয় ও অাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে,যার ফলে জনগণ উদ্বিগ্ন থাকে, ভীতি ও ত্রাসের শিকার হয়,এমন পরিস্থিতিতেও আযান আত্নার প্রশান্তি ও ভয়-ত্রাস দূর করার মাধ্যম।

আবু নাঈম ও ইবনে আসাকির হযরত আবু হুরায়রা (রা.)থেকে বর্ণণা করেন,হুযুর ( ﷺ) ইরশাদ করেন,

نَزَلَ آدَمُ بِالْھِندِ فَاسْتَوْحَشَ فَنَزَلَ جِبْرَئِیْلُ عَلَیْه الصَّلَاۃُ وَالسَّلَام فَنَادیٰ بِالْاَذَاَنِ.

-যখন হযরত আদম (আ.)জান্নাত থেকে ভারতবর্ষে অবতরণ করলেন,ভীত-সন্ত্রস্থ হলেন,তখন জিবরাইল (আ.)নেমে (ভয় দূর করার জন্য) আযান দিলেন।

[হিলয়াতুল আউলিয়া,খ-২,পৃ-১০৭,হাদিস:২৯৯,মুদ্রণ-দারুল কিতাব আল-আরাবিয়্যা,বৈরুত]

মুসনাদুল ফিরদৌস-এ আমীরুল মু'মিনীন,সৈয়্যদুনা আলী আল-মুরতাদ্বা (রা.)থেকে বর্ণিত,

قَالَ رَایٰ النَّبِیُّ صَلّٰی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْهِ وَسَلَّم حُزِیْناً فَقَالَ یَا ابْنَ اَبِیْ طَالِبٍ اِنِّیْ اَرَاكَ حُزِیْناً فَمُرْ بَعْضَ اَھْلِكَ یُؤَذِّنُ فِیْ اُذُنِكَ فَاِنَّهٗ دَرْءُ الْھَّمِ

-তিনি বলেন,হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন আমাকে চিন্তিত অবস্থায় দেখে বললেন,হে আলী! আমি তোমাকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখছি, তোমার পরিবারের কাউকে তোমার কানে আযান দিতে বলো,কেননা তা চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা দূরকারী।

[মিরকাতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, আযান পর্ব,খ-২, পৃ-১৪৯,মুদ্রণ-মাকতাবায়ে ইমদাদীয়া,মুলতান]

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারি থেকে রক্ষায় অন্যান্য আমলের পাশাপাশি আযান দেয়া একটি শরীয়ত সমর্থিত মুস্তাহাব আমল। এটার জন্য কোন সময় নির্ধারিত নেই। মহান রাব্বুল আলামীন আমলের তাওফিক নসীব করুন। তদীয় প্রিয় হাবীব (ﷺ)'র উসীলায় মুসলিম মিল্লাতকে সকলপ্রকার বিপদাপদ ও মহামারী থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

Saturday, February 29, 2020

আল-ওয়াকিয়াহ

সুরা নং – ০৫৬ : আল-ওয়াকিয়াহ
(নিশ্চিত ঘটনা)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
আরবি উচ্চারণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
বাংলা অনুবাদ
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ56.1
আরবি উচ্চারণ
৫৬.১। ইযা-অক্বা‘আতিল্ ওয়া-ক্বি‘আতু।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.১ যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে।
لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ56.2
আরবি উচ্চারণ
৫৬.২। লাইসা লিঅক‘আতিহা-কা-যিবাহ্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.২ তার সংঘটনের কোনই অস্বীকারকারী থাকবে না।
خَافِضَةٌ رَافِعَةٌ56.3
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৩। খ-ফি দ্বোয়ার্তু র-ফি‘আহ।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৩ তা কাউকে ভূলুণ্ঠিত করবে এবং কাউকে করবে সমুন্নত।
إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا56.4
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৪। ইযা- রুজ্জ্বাতিল্ র্আদু রজ্জ্বান্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৪ যখন যমীন প্রকম্পিত হবে প্রবল প্রকম্পনে।
وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا56.5
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৫। অবুস্সাতিল্ জ্বিবা-লু বাস্সা-।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৫ আর পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে।
فَكَانَتْ هَبَاءً مُنْبَثًّا56.6
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৬। ফাকা-নাত্ হাবা-য়াম্ মুম্বাছ্ছাঁও।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৬ অতঃপর তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।
وَكُنْتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً56.7
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৭। অকুন্তুম্আয্ওয়া-জ্বান্ ছালা-ছাহ্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৭ আর তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন দলে।
فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ56.8
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৮। ফাআছ্হা-বুল্ মাইমানাতি মা য় আছ্হা-বুল্ মাইমানাহ্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৮ সুতরাং ডান পার্শ্বের দল, ডান পার্শ্বের দলটি কত সৌভাগ্যবান!
وَأَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ56.9
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৯। অআছ্হা-বুল্ মাশ্য়ামাতি মা য় আছ্হা-বুল্ মাশ্য়ামাহ্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৯ আর বাম পার্শ্বের দল, বাম পার্শ্বের দলটি কত হতভাগ্য!
وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ56.10
আরবি উচ্চারণ
৫৬.১০। অস্সা-বিকু নাস্ সা-বিকুন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.১০ আর অগ্রগামীরাই অগ্রগামী।
أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ56.11
আরবি উচ্চারণ
৫৬.১১। উলা-য়িকাল্ মুর্ক্বরাবূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.১১ তারাই সান্নিধপ্রাপ্ত।
فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ 56.12
আরবি উচ্চারণ
৫৬.১২। ফী জ্বান্না-তিন্ না‘ঈম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.১২ তারা থাকবে নিআমতপুর্ণ জান্নাতসমূহে ।
ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ56.13
আরবি উচ্চারণ
৫৬.১৩। ছুল্লাতুম্ মিনাল্ আউয়্যালীন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.১৩ বহুসংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
وَقَلِيلٌ مِنَ الْآخِرِينَ56.14
আরবি উচ্চারণ
৫৬.১৪। অক্বালীলুম্ মিনাল্ আ-খিরীন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.১৪ আর অল্পসংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
عَلَى سُرُرٍ مَوْضُونَةٍ56.15
আরবি উচ্চারণ
৫৬.১৫। ‘আলা- সুরুরিম্ মাওদ্বূনাতিম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.১৫ স্বর্ণ ও দামী পাথরখচিত আসনে!
مُتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ56.16
আরবি উচ্চারণ
৫৬.১৬। মুত্তাকিয়ীনা ‘আলাইহা-মুতাক্ব-বিলীন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.১৬ তারা সেখানে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে মুখোমুখি অবস্থায়।
يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ56.17
আরবি উচ্চারণ
৫৬.১৭। ইয়াতুফু ‘আলাইহিম্ ওয়িল্দা-নুম্ মুখাল্লাদূন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.১৭ তাদের আশ-পাশে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা,
بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ56.18
আরবি উচ্চারণ
৫৬.১৮। বিআক্ওয়া-বিঁও অআবা-রীক্বা অকাসিম্ মিম্ মা‘ঈনিল্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.১৮ পানপাত্র, জগ ও প্রবাহিত ঝর্ণার শরাবপুর্ণ পেয়ালা নিয়ে,
لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَ56.19
আরবি উচ্চারণ
৫৬.১৯। লা-ইয়ুছোয়াদ্দা‘ঊনা ‘আন্হা-অলা- ইয়ুন্যিফূন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.১৯ তা পানে না তাদের মাথা ব্যথা করবে, আর না তারা মাতাল হবে।
وَفَاكِهَةٍ مِمَّا يَتَخَيَّرُونَ56.20
আরবি উচ্চারণ
৫৬.২০। অফা-কিহাতিম্ মিম্মা-ইয়াতাখাইয়্যারূন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.২০ আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে।
وَلَحْمِ طَيْرٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ56.21
আরবি উচ্চারণ
৫৬.২১। অলাহ্মি ত্বোয়াইরিম্ মিম্মা-ইয়াশ্তাহূন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.২১ আর পাখির গোশ্ত নিয়ে, যা তারা কামনা করবে।
وَحُورٌ عِينٌ56.22
আরবি উচ্চারণ
৫৬.২২। অহূরুন্ ‘ঈনুন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.২২ আর থাকবে ডাগরচোখা হূর,
كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ56.23
আরবি উচ্চারণ
৫৬.২৩। কাআম্ছা-লিল্ লুলুয়িল্ মাক্নূন্ ।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.২৩ যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা,
جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ56.24
আরবি উচ্চারণ
৫৬.২৪। জ্বাযা-য়াম্ বিমা-কা-নূ ইয়া’মালূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.২৪ তারা যে আমল করত তার প্রতিদানস্বরূপ।
لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا 56.25
আরবি উচ্চারণ
৫৬.২৫। লা-ইয়াস্মাঊ’না ফীহা-লাগ্ওয়াঁও অলা-তাছীমান্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.২৫ তারা সেখানে শুনতে পাবে না কোন বেহুদা কথা, এবং না পাপের কথা;
إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا56.26
আরবি উচ্চারণ
৫৬.২৬। ইল্লা-ক্বীলান্ সালা-মান্ সালা-মা-।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.২৬ শুধু এই বাণী ছাড়া, ‘সালাম, সালাম’
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ56.27
আরবি উচ্চারণ
৫৬.২৭। অআছ্হা-বুল্ ইয়ামীনি মা য় আছ্হা-বুল্ ইয়ামীন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.২৭ আর ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!
فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ56.28
আরবি উচ্চারণ
৫৬.২৮। ফী সিদ্রিম্ মাখ্দ্বুদিঁও।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.২৮ তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলগাছের নিচে,
وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ56.29
আরবি উচ্চারণ
৫৬.২৯। অত্বোয়াল্হিম্ মান্দ্বুদিঁও।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.২৯ আর কাঁদিপণূর্ কলাগাছের নিচে,
وَظِلٍّ مَمْدُودٍ56.30
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৩০। অজিল্লিম্ মামদূদিঁও।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৩০ আর বিস্তৃত ছায়ায়,
وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ56.31
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৩১। অমা-য়িম্ মাস্কূবিঁও।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৩১ আর সদা প্রবাহিত পানির পাশে,
وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ56.32
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৩২। অ ফা- কিহাতিন্ কাছীরাতিল্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৩২ আর প্রচুর ফলমূলে,
لَا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ56.33
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৩৩। লা-মাকতুআতিঁও অলা-মাম্নূ‘আতিঁও ।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৩৩ যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।
وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ56.34
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৩৪। অফুরুশিম্ মারফূ‘আহ্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৩৪ (তারা থাকবে) সুউচ্চ শয্যাসমূহে;
إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءً56.35
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৩৫। ইন্না য় আন্শানা-হুন্না ইন্শা-য়ান্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৩৫ নিশ্চয় আমি হূরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব।
فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا56.36
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৩৬। ফাজ্বা‘আল্না-হুন্না আব্কা-রন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৩৬ অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী,
عُرُبًا أَتْرَابًا56.37
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৩৭। উ’রুবান্ আত্র-বাল্
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৩৭ সোহাগিনী ও সমবয়সী।
لِأَصْحَابِ الْيَمِينِ56.38
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৩৮। লিআছ্হা-বিল্ ইয়ামীন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৩৮ ডানদিকের লোকদের জন্য।
ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ56.39
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৩৯। ছুল্লাতুম্ মিনাল্ আউয়্যালীনা।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৩৯ তাদের অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।
وَثُلَّةٌ مِنَ الْآخِرِينَ56.40
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৪০। অছুল্লাতুম্ মিনাল্ আ-খিরীন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৪০ আর অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
وَأَصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ 56.41
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৪১। অআছ্হা-বুশ্ শিমা- লি মা য় আছ্হা-বুশ্ শিমা-ল্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৪১ আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ56.42
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৪২। ফী সামূমিঁও অহামীমিঁও।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৪২ তারা থাকবে তীব্র গরম হাওয়া এবং প্রচণ্ড উত্তপ্ত পানিতে,
وَظِلٍّ مِنْ يَحْمُومٍ56.43
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৪৩। অজিল্লিম্ মিঁ ইয়াহ্মূমিল্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৪৩ আর প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,
لَا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ56.44
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৪৪। লা-বা-রিদিঁও অলা-কারীম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৪৪ যা শীতলও নয়, সখু করও নয়।
إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُتْرَفِينَ56.45
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৪৫। ইন্নাহুম্ ক্বা-নূ ক্বব্লা যা-লিকা মুত্রাফীন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৪৫ নিশ্চয় তারা ইতঃপূবের্ বিলাসিতায় মগ্ন ছিল,
وَكَانُوا يُصِرُّونَ عَلَى الْحِنْثِ الْعَظِيمِ56.46
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৪৬। অকা-নূ ইয়ুর্ছিরূ-না ‘আলাল্ হিন্ছিল্ ‘আজীম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৪৬ আর তারা জঘন্য পাপে লেগে থাকত।
وَكَانُوا يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ56.47
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৪৭। অ কা-নূ ইয়াকু লূনা আইযা-মিত্না-অকুন্না-তুরা-বাঁও অই’জোয়া-মান্ য়াইন্না-লামাব্ঊছূনা।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৪৭ আর তারা বলত, ‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?’
أَوَآبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ56.48
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৪৮। আ ওয়া আ-বা-য়ু নাল্ আওয়ালূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৪৮ ‘আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরাও?’
قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ56.49
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৪৯। কুল্ ইন্নাল্ আউয়্যালীনা অল্আ-খিরীনা
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৪৯ বল, ‘নিশ্চয় পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা,
لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيقَاتِ يَوْمٍ مَعْلُومٍ56.50
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৫০। লামাজ্ব্ মূ‘ঊ না ইলা-মীক্ব-তি ইয়াওমিম্ মা’লূম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৫০ এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই একত্র হবে’।
ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا الضَّالُّونَ الْمُكَذِّبُونَ56.51
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৫১। ছুম্মা ইন্নাকুম্ আইয়ুহাদ্দোয়া-ল্লূনাল্ মুকায্যিবূন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৫১ তারপর হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা,
لَآكِلُونَ مِنْ شَجَرٍ مِنْ زَقُّومٍ 56.52
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৫২। লাআ-কিলূনা মিন্ শাজ্বারিম্ মিন্ যাককুমিন্
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৫২ তোমরা অবশ্যই যাক্কূম গাছ থেকে খাবে,
فَمَالِئُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ56.53
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৫৩। ফামা-লিয়ূনা মিন্হাল্ বুতুন্ ।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৫৩ অতঃপর তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।
فَشَارِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ الْحَمِيمِ56.54
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৫৪। ফাশা-রিবূনা ‘আলাইহি মিনাল্ হামীম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৫৪ তদুপরি পান করবে প্রচণ্ড উত্তপ্ত পানি।
فَشَارِبُونَ شُرْبَ الْهِيمِ56.55
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৫৫। ফাশা-রিবূনা র্শুবাল্ হীম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৫৫ অতঃপর তোমরা তা পান করবে তৃষ্ণাতুর উটের ন্যায়।
هَذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ الدِّينِ56.56
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৫৬। হা-যা-নুযুলুহুম্ ইয়াওমাদ্দীন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৫৬ প্রতিফল দিবসে এই হবে তাদের মেহমানদারী,
نَحْنُ خَلَقْنَاكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ56.57
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৫৭। নাহ্নু খলাকনা-কুম্ ফালাওলা তুছোয়াদ্দিক্বূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৫৭ আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি: তাহলে কেন তোমরা তা বিশ্বাস করছ না?
أَفَرَأَيْتُمْ مَا تُمْنُونَ56.58
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৫৮। আফারায়াইতুম্ মা তুম্নূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৫৮ তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা যে বীযর্পাত করছ সে সম্পর্কে?
أَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ56.59
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৫৯। আআন্তুম্ তাখ্লুকু নাহূ য় আম্ নাহ্নুল ‘খ-লিকুন্ ।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৫৯ তা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমিই তার স্রষ্টা?
نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ56.60
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৬০। নাহ্নু ক্বার্দ্দানা-বাইনাকুমুল্ মাওতা অমা-নাহ্নু বিমাস্বূক্বীন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৬০ আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারণ করেছি এবং আমাকে অক্ষম করা যাবে না,
عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنْشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ56.61
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৬১। ‘আলা য় আন্ নুবাদ্দিলা আম্ছা-লাকুম্ অনুন্শিয়াকুম্ আম্ছা-লাকুম্ অনুন্শিয়াকুম্ ফীমা-লা-তা’লামূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৬১ তোমাদের স্থানে তোমাদের বিকল্প আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমনভাবে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না।
وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْأَةَ الْأُولَى فَلَوْلَا تَذَكَّرُونَ 56.62
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৬২। অলাক্বদ্ ‘আলিম্তুমুন্ নাশ্য়াতাল্ ঊলা-ফালাওলা- তাযাক্কারূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৬২ আর তোমরা তো প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছ, তবে কেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করছ না?
أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُونَ56.63
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৬৩। আফারায়াইতুম্ মা-তাহারুছূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৬৩ তোমরা আমাকে বল, তোমরা যমীনে যা বপন কর সে ব্যাপারে,
أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ56.64
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৬৪। আআন্তুম্ তায্রঊ’নাহূ য় আম্ নাহ্নুয্ যা-রিঊ’ন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৬৪ তোমরা তা অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি?
لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ56.65
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৬৫। লাও নাশা-য়ু লাজ্বা‘আল্না-হু হুত্বোয়া-মান্ ফাজোয়াল্তুম্ তাফাক্কাহূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৬৫ আমি চাইলে তা খড়-কুটায় পরিণত করতে পারি, তখন তোমরা পরিতাপ করতে থাকবে-
إِنَّا لَمُغْرَمُونَ56.66
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৬৬। ইন্না-লামুগ্রমূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৬৬ (এই বলে,) ‘নিশ্চয় আমরা দায়গ্রস্ত হয়ে গেলাম’।
بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ56.67
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৬৭। বাল্ নাহ্নু মাহ্রূমূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৬৭ ‘বরং আমরা মাহরূম হয়েছি’।
أَفَرَأَيْتُمُ الْمَاءَ الَّذِي تَشْرَبُونَ56.68
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৬৮। আফারয়াইতুমুল্ মা-য়াল্ লাযী তাশ্রবূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৬৮ তোমরা যে পানি পান কর সে ব্যাপারে আমাকে বল।
أَأَنْتُمْ أَنْزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنْزِلُونَ56.69
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৬৯। আআন্তুম্ আন্ যাল্তুমূহু মিনাল্ মুয্নি আম্ নাহ্নুল্ মুন্যিলূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৬৯ বৃষ্টিভরা মেঘ থেকে তোমরা কি তা বষর্ণ কর, না আমি বৃষ্টি বষর্ণ কারী?
لَوْ نَشَاءُ جَعَلْنَاهُ أُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ56.70
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৭০। লাও নাশা-য়ু জ্বা‘আল্না-হু উজ্বা-জ্বান্ ফালাওলা- তাশ্কুরূ ন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৭০ ইচ্ছা করলে আমি তা লবণাক্ত করে দিতে পারি: তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?
أَفَرَأَيْتُمُ النَّارَ الَّتِي تُورُونَ56.71
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৭১। আফারয়াইতুমু ন্না-র ল্লাতী তূরূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৭১ তোমরা যে আগুন জ্বালাও সে ব্যাপারে আমাকে বল,
أَأَنْتُمْ أَنْشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنْشِئُونَ 56.72
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৭২। আ-আন্তুম্ আন্শাতুম্ শাজ্বারতাহা য় আম্ নাহ্নুল্ মুন্শিয়ূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৭২ তোমরাই কি এর (লাকড়ির গাছ) উৎপাদন কর, না আমি করি?
نَحْنُ جَعَلْنَاهَا تَذْكِرَةً وَمَتَاعًا لِلْمُقْوِينَ56.73
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৭৩। নাহ্নু জ্বা‘আল্না-হা তায্কিরতাঁও অমাতা-‘আল্ লিল্মুকওয়ীন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৭৩ একে আমি করেছি এক স্মারক ও মরুবাসীর প্রয়োজনীয় বস্তু
فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ56.74
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৭৪। ফাসাব্বিহ্ বিস্মি রব্বিকাল্ ‘আজীম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৭৪ অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।
فَلَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ56.75
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৭৫। ফালা য় উক্বসিমু বিমাওয়া-ক্বি‘ইন্ নুজুমি।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৭৫ সুতরাং আমি কসম করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,
وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ56.76
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৭৬। অইন্নাহূ লাক্বাসামু ল্লাও তা’লামূনা ‘আজীম।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৭৬ আর নিশ্চয় এটি এক মহাকসম, যদি তোমরা জানতে,
إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ56.77
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৭৭। ইন্নাহূ লা কুর আ-নুন্ কারীমুন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৭৭ নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কুরআন,
فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ56.78
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৭৮। ফী কিতা-বিম্ মাক্নূনিল্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৭৮ যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে,
لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ56.79
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৭৯। লা ইয়া স্সুহূ য় ইল্লাল্ মুত্বোয়াহ্ হারূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৭৯ কেউ তা স্পর্শ করবে না পবিত্রগণ ছাড়া।
تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ56.80
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৮০। তান্যীলুম্ র্মি রব্বিল্ ‘আ-লামী ন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৮০ তা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাযিলকৃত।
أَفَبِهَذَا الْحَدِيثِ أَنْتُمْ مُدْهِنُونَ56.81
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৮১। আফাবিহা-যাল্ হাদীছি আন্তুম্ মুদ্হিনূনা।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৮১ তবে কি তোমরা এই বাণী তুচ্ছ গণ্য করছ?
وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ56.82
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৮২। অতাজ্ব ‘আলূনা রিয্ক্বকুম্ আন্নাকুম্ তুকায্যিবূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৮২ আর তোমরা তোমাদের রিয্ক বানিয়ে নিয়েছ যে, তোমরা মিথ্যা আরোপ করবে।
فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ56.83
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৮৩। ফালাওলা য় ইযা-বালাগতিল্ হুল্ক্বুম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৮৩ সুতরাং কেন নয়- যখন রূহ কণ্ঠদেশে পৌঁছে যায়?
وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ 56.84
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৮৪। অআন্তুম্ হীনায়িযিন্ তান্জুরূনা।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৮৪ আর তখন তোমরা কেবল চেয়ে থাক।
وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ56.85
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৮৫। অনাহ্নু আকরাবু ইলাইহি মিন্কুম্ অলা-কিল্লা-তুব্ছিরূন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৮৫ আর তোমাদের চাইতে আমি তার খুব কাছে; কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।
فَلَوْلَا إِنْ كُنْتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ56.86
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৮৬। ফালাওলা য় ইন্ কুন্তুম্ গইর মাদীনীন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৮৬ তোমাদের যদি প্রতিফল দেয়া না হয়, তাহলে তোমরা কেন
تَرْجِعُونَهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ56.87
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৮৭। র্তাজ্বি‘ঊনাহা য় ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৮৭ ফিরিয়ে আনছ না রূহকে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
فَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ56.88
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৮৮। ফা আম্মা য় ইন্ কা-না মিনাল্ মুর্ক্বারবীন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৮৮ অতঃপর সে যদি নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্যতম হয়,
فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّةُ نَعِيمٍ56.89
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৮৯। ফারওহুঁও অরইহা-নুঁও অজ্বান্নাতু না‘ঈম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৮৯ তবে তার জন্য থাকবে বিশ্রাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখময় জান্নাত।
وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ56.90
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৯০। অ আম্মা য় ইন্ কা-না মিন্ আছ্হা-বিল্ ইয়ামীন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৯০ আর সে যদি হয় ডানদিকের একজন,
فَسَلَامٌ لَكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ56.91
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৯১। ফাসালা-মুল্ লাকা মিন্ আছহা-বিল্ ইয়ামীন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৯১ তবে (তাকে বলা হবে), ‘তোমাকে সালাম, যেহেতু তুমি ডানদিকের একজন’।
وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُكَذِّبِينَ الضَّالِّينَ56.92
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৯২। অ আম্মা য় ইন্ কা-না মিনাল্ মুকায্যিবীনাদ্ব্ দ্বোয়া-ল্লীন।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৯২ আর সে যদি হয় অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্ট,
فَنُزُلٌ مِنْ حَمِيمٍ56.93
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৯৩। ফা নুযুলুম্ মিন্ হামীমিঁও।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৯৩ তবে তার মেহমানদারী হবে প্রচণ্ড উত্তপ্ত পানি দিয়ে,
وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ56.94
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৯৪। অ তাছ্লিয়াতু জ্বাহীম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৯৪ আর জ্বলন্ত আগুনে প্রজ্জ্বলনে।
إِنَّ هَذَا لَهُوَ حَقُّ الْيَقِينِ56.95
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৯৫। ইন্না হা-যা-লাহুওয়া হাককুল্ ইয়াক্বীন্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৯৫ নিশ্চয় এটি অবধারিত সত্য।
فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ 56.96
আরবি উচ্চারণ
৫৬.৯৬। ফাসাব্বিহ্ বিস্মি রব্বিকাল্ ‘আজীম্।
বাংলা অনুবাদ
৫৬.৯৬ অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।